এরশাদের লাশ ঢাকায় নিতে দেবে না রংপুরবাসী, সর্বস্তরে নিরাপত্তা জোরদার

সোহেল রশীদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (রংপুর)
১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০১:১৬ আপডেট: ০২:২৭

এরশাদের লাশ ঢাকায় নিতে দেবে না রংপুরবাসী, সর্বস্তরে নিরাপত্তা জোরদার

সাবেক প্রেসিডেন্ট, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জানাজাকে কেন্দ্র করে রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রংপুরে ব্যাপক লোক সমাগম ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। এছাড়া এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের অংশ হিসেবে রংপুরের ব্যবসায়ীরা মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। 

এদিকে গতকাল সোমবার রংপুরে অনুষ্ঠিত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার নেতাকমীরা রংপুরে এক জরুরি সভা করে যেকোনও মূলে এরশাদের দাফন রংপুরে করার ঘোষণা দিয়েছেন। দলের নেতাকর্মীরা কিছুতেই এরশাদকে রংপুর থেকে নিয়ে যেতে দেবেন না বলে সভায় ঘোষণা করা হয়। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের সামনে-পেছনে মানবঢাল তৈরি করে হলেও তারা লাশ রংপুরে রাখবেন। আর এ জন্য এরইমধ্যে দর্শনায় এরশাদের বাসভবন পল্লীনিবাসে তার কবর খোঁড়ার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। প্রিয় নেতার প্রতি শোক জানাতে নগরীর সড়কদ্বীপগুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা বলছেন, ঢাকাতেই হবে এরশাদের দাফন। কারণ তিনি মৃত্যুর পূর্বে সেই ইচ্ছার কথা বলে গেছেন।

এরশাদের দাফন নিয়ে মতবিরোধের এ অবস্থায় রংপুরে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে তা নিয়ে নানা প্রশ্নের পাশাপাশি নগরজুড়ে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এ নিয়ে যেকোনও সময় বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও  মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির ব্রেকিংনিউজকে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর কবর যদি টুঙ্গিপাড়ায় হতে পারে তবে এ অঞ্চলের প্রিয় নেতার লাশ রংপুরে দাফন করতে বাধা কোথায়? সেজন্য দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় নেতার দাফন যেন তাঁর বাসভবন পল্লীনিবাসের লিচুতলায় হয় এর সব রকম প্রস্তুতিই প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। 

তারা বলেন, এখানে এরশাদের দাফন হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন এসে কবর জিয়ারত করতে পারবেন, শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। কিন্তু বনানীতে হলে সেই সুযোগ থাকবে না। আর এ কারণেই রংপুরে পল্লীবন্ধুর দাফনের এই সিদ্ধান্ত। 

নেতৃদ্বয় ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, পরিবারের কিছু সদস্য এবং দলের অভ্যন্তরে কিছু নেতার কারণে এরশাদকে রংপুরে দাফন করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। 

এদিকে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বিমান বাহিনীর একটি সাদা হেলিকপ্টারযোগে এরশাদের লাশ ঢাকা থেকে আনা হয় রংপুর ক্যান্টনমেন্টে। সেখান থেকে চতুর্থ জানাজার জন্য মরদেহবাহী গাড়ি কালেক্টরেট মাঠে পৌঁছায় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে। 

এই কালেক্টরেট মাঠেই বাদ জোহর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে জানাজার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। সকাল থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে লোকজন জানাজায় শরিক হতে ঈদগাহ মাঠে আসতে শুরু করেছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দর থেকে এরশাদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

রংপুরের জেলা প্রশাসক হাসিব আহসান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে জানাজা শেষে আমাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে লাশ হেলিকপ্টারে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল আলিম মাহমুদ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘রংপুরে এরশাদের জানাজা উপলক্ষে ব্যাপক লোক সমাগম হবে- এটিই স্বাভাবিক। বিশৃঙ্খলা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করা দরকার তাই করবে। তবে জানাজা যাতে সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে সবাই চলে যেতে পারে সেজন্য পুলিশ মোতায়েন থাকবে।’

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করা এরশাদ গত ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads