হত্যা মামলায় ১৪ বছর সাজা খাটার পর ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
৬ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৫:১৪ আপডেট: ০৭:৫৬

হত্যা মামলায় ১৪ বছর সাজা খাটার পর ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার

গাইবান্ধায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের মামলায় মডার্ন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গাইবান্ধার আলোচিত স্কুলছাত্রী সাদিয়া সুলতানা তৃষা হত্যা মামলায় ১৪ বছর জেল খেটে বের হন মডার্ন। জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতার করা হলেও পলাতক রয়েছেন তার সহযোগী সাব্বির হোসেন ওরফে বাপ্পী।

মডার্ন শহরের খাঁ পাড়া মাতৃসদন এলাকার আমজাদ আলীর ছেলে। সাব্বিরের বাড়ী শহরের মুন্সিপাড়া (বিহারীপট্টি) এলাকায়। 

স্কুল ছাত্রীর মা ও পুলিশ জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ওই স্কুল ছাত্রী গাইবান্ধা শহর থেকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে মডার্ন ও তার সহযোগী সাব্বির হোসেন বাপ্পী জোর করে তাকে শহরের অদূরে বোয়ালী বাজারে এক মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে নিয়ে যায়।

সেখানে তাকে ধর্ষণ করে মডার্ন। পরে বোয়ালী বাজার সংলগ্ন ব্রীজের উপর ফেলে যায়। ঘটনার কথা কাউকে না বলতে তারা ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। পরে ওই স্কুল ছাত্রী বাড়ীতে না গিয়ে রংপুরে তার এক আত্মীয়র বাড়ীতে যায়। দিনশেষে সে বাড়ি ফিরে না আসায় থানায় জিডি করে পরিবার। পরদিন তাকে রংপুর শহরের মেডিকেল মোড় থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ  নুরুজ্জামান দীর্ঘ ১৭ দিনেও ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেননি। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ১৪৪ নম্বর আদেশে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এস আই নুরুজ্জামানের পরিবর্তে এসআই নওশাদ আলীর উপর তদন্তভার ন্যাস্ত করেন। আদেশে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতার পূর্বক মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। দায়িত্বভার পাওয়ার পরপরই অভিযানে নামেন এস আই নওশাদ আলী। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার গোদারহাটস্থ ইসলাম প্লাজার সামনে থেকে মডার্নকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে শনিবার বিকেলে তাকে গাইবান্ধা থানায় নিয়ে আসা হয়।

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ময়নুল হক বলেন, 'তৃষা হত্যার দায়ে আরও দুই সহযোগীসহ ১৩ বছর জেল খাটে মডার্ন। ষষ্ঠ শ্রেণীর নির্যাতিত শিশুটি মডার্নের হুমকির মুখে পুলিশের কাছে সব সত্যি বলেনি। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তাকে ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেয়। তার মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। জামা কাপড়ের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি সাব্বির এখনও পলাতক। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গাইবান্ধা থানায় ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা করেছেন। পরে পুলিশ শুক্রবার রাতে কেরানীগঞ্জ থেকে মর্ডানকে গ্রেফতার করে। শনিবার সকালে তাকে গাইবান্ধায় আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আসামি মডার্ন গাইবান্ধার বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তৃষাকে ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। এ মামলায় ১৪ বছর জেল খাটার পর কিছুদিন আগে বেরিয়ে এসে মাদক মামলায় আবারও আটক হন। ওই মামলায় জামিনে বেরিয়ে ফের ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার হলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ১৭ই জুলাই গাইবান্ধা শহরের মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা তৃষা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মডার্নসহ তিন বখাটে তাকে ধাওয়া করে। এ সময় পুকুরে পড়ে তৃষা মারা যায়। এ ঘটনায় তারা বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হলেও পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ তাদের ১৪ বছরের সশ্রম কারদদণ্ড দেন।

ব্রেকিংনিউজ/এম