১৪ বছর জেল খেটে বেরিয়ে ধর্ষণ মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে মডার্ন

জেলা প্রতিনিধি
৭ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০৩:১৩ আপডেট: ০৩:৩১

১৪ বছর জেল খেটে বেরিয়ে ধর্ষণ মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে মডার্ন

গাইবান্ধায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে জোড়পুর্বক ধর্ষণের মামলায় আসামি মেহেদী হাসান মডার্নকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই নওশাদ আলী রিমান্ড আবেদন করেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর জামাল উদ্দিন মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার দুপুরে গাইবান্ধার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই নওশাদ আলী দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে বিচারক নজরুল ইসলাম শুনানী শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মডার্ন শহরের খাঁ পাড়া মাতৃসদন এলাকার আজাদ আলীর ছেলে। তিনি ২০০২ সালে আলোচিত তৃষা হত্যা মামলার প্রধান আসামী ছিলেন। এই মামলায় বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন। পরে আপীল বিভাগ সেই দন্ডাদেশ রহিত করে ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

স্কুল ছাত্রীর মা ও পুলিশ জানায়, গত ১১ই সেপ্টেম্বর ওই স্কুল ছাত্রী গাইবান্ধা শহর থেকে ফেরার পথে মডার্ন ও তার সহযোগী সাব্বির হোসেন বাপ্পী জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে শহরের অদূরে বোয়ালী বাজারে এক মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করে মডার্ন।

এঘটনায় পরদিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ নুরুজ্জামান দীর্ঘ ১৭ দিনেও ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ১৪৪ নম্বর আদেশে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এস আই নুরুজ্জামানের পরিবর্তে এসআই নওশাদ আলীর উপর তদন্তভার ন্যাস্ত করেন। আদেশে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতার পূর্বক মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। পরে গত শুক্রবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার গোদারহাট থেকে মডার্নকে গ্রেফতার করে শনিবার বিকেলে তাকে গাইবান্ধা থানায় নিয়ে আসা হয়।

উল্লেখ্য,২০০২ সালের ১৭ই জুলাই গাইবান্ধা শহরের মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা তৃষা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মডার্নসহ তিন বখাটে তাকে ধাওয়া করে। এসময় পুকুরে পড়ে তৃষা মারা যায়। এঘটনায় তারা বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হলেও পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ তাদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন।
 
ব্রেকিংনিউজ/এম