মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার হুকুম কী?

ধর্ম ডেস্ক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০২:১২

মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার হুকুম কী?

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

শিক্ষকতা মূলত একটি জায়েজ ও বৈধ পেশা। কিন্তু পারিপার্শিক কারণে তা নাজায়েজ হতে পারে। যেমন প্রশ্নোল্লিখিত স্থানে যদি নারীদের স্কুল কলেজে বা সহশিক্ষা আছে এমন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করলে চোখের হিফাযত না হয়, পর্দার সাথে থাকা না যায়, তাহলে এমন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা জায়েজ হবে না। যদি পরিপূর্ণ পর্দার সাথে ক্লাস করানো যায়, তাহলে নারীদের স্কুল-কলেজে বা সহশিক্ষা আছে এমন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করা জায়েজ আছে।

কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা যাবে না।

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَدًا إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمًا

র্অথ : আর তোমরা তাঁর (রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের কাছে কছিু চাইলে র্পদার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদরে অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। {সূরা আহযাব-৫৩}

বিখ্যাত তাফসীরবীদ ইমাম কুরতুবী রাহ. উক্ত আয়াতরে আলোচনায় বলেন, উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে কোনো প্রয়োজনে র্পদার আড়াল থেকে কিছু চাওয়া বা কোনো মাসআলা জিজ্ঞাসা করার অনুমতি দিয়েছেন। সাধারণ নারীরাও উপরোক্ত হুকুমের অর্ন্তভুক্ত। (তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৪৬)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ হলেন সকল মুমিনদের মা। অথচ তাঁদের সাথেই লেনদেনে বা কথা-র্বাতা বলতে হলে র্পদার আড়াল থেকে করতে বলা হয়েছে। তাহলে অন্যান্য সাধারণ বেগানা নারীদের ক্ষেত্রে হুকুমটি কত গুরুত্বর্পূণ হওয়া উচিত তা তো সহজইে অনুমেয়।

عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم أيها الناس اتقوا الله وأجملوا في الطلب . فإن نفسا لن تموت حتى تستوفي رزقها وإن أبطأ عنها . فاتقوا الله وأجملوا في الطلب

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করছেনেঃ হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় কর! এবং উর্পাজনে উত্তম পন্থা অবলম্বন কর। কেননা, কোন ব্যক্তি ততক্ষণ র্পযন্ত মৃত্যুবরণ করবে না, যতক্ষণ না তার রিজিক শেষ হয়। যদিও তা ধীরে ধীরে হয়। তাই আল্লাহ তাআলাকে ভয় পাও! এবং উর্পাজনে উত্তমপন্থা অবলম্বন কর। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২১৪৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৯১৪, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-১১৫২}

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখেছেন: লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী – মা’হাদুত তালীম ওয়াল  বুহুসিল ইসলামী ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ফারূকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা। সূত্র: আহালে হক মিডিয়া

ব্রেকিংনিউজ/এসএসআর

bnbd-ads