সংবাদ শিরোনামঃ
bnbd-ads
bnbd-ads

ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় জ‌বি‌তে সরস্বতী পূজা পা‌লিত

জবি প্রতিনিধি
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৪:১৮ আপডেট: ০৪:১৮

ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় জ‌বি‌তে সরস্বতী পূজা পা‌লিত

সনাতন ধর্মালম্বীদের বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজা আজ। অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ব‌বিদ্যালয়ে (জ‌বি) সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি ছিল মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ভিড়। সবাই একই সাজে সজ্জিত, হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে যেন নেই কোনো ভেদাভেদ। সবাই এক সাথে পূজামণ্ডপে সামনে বসছে, আবার এক সাথে নেচে-গেয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা আর নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দি‌য়ে পূজা উৎসব উপভোগ করছে।

প্রতিবারের মত এবারো বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির উদ্যোগে এ পূজার আয়োজন করা হয়। পূজা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে নামে মানুষের ঢল। পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত মানুষদের আগমনে উৎসবে পরিণত হয় জবি ক্যাম্পাস।

রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এক যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬টি পূজামণ্ডপে পুরোহিত ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পূজা-প্রার্থনা শুরু করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পূজামণ্ডপসমূহ পরিদর্শন করেন।

জবি ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা নিয়ে সমাজকর্ম বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ‌রকিবুল রিয়াদ ব‌লেন, ‘সকাল থে‌কে ক্যাম্পা‌সে আছি। হিন্দু বন্ধুসহ সবার সা‌থে অনেক মজা কর‌তে‌ছি। সব মি‌লি‌য়ে অনেক ভা‌লো লাগ‌ছে।’

গণ‌যোগা‌যোগ ও সাংবা‌দিকতা বিভাগের ছাত্রী সম্পা রায় ব‌লেন, ‘আজ আমার অনেক ভা‌লো লাগ‌তে‌ছে। আমা‌দের পূজা‌তে আমার মুস‌লিম বন্ধুরা আসা‌তে আ‌রও বে‌শি ভা‌লো লাগ‌ছে।’

সরস্বতী পূজ একটি অসাম্প্রদায়িক উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ উৎসব সনাতন ও মুসলিম উভয় ধর্মাবলম্বী মানুষ সমানভাবে উপভোগ করছে। সনাতন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম শিক্ষার্থীরাও এই পূজা আয়োজনের মাধ্যমে বিদ্যাদেবীকে সন্তুষ্ট করে শিক্ষা অর্জনের পথ সুগম করতে ব্যস্ত।

পূজা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রিয়ব্রত পাল। তি‌নি ব‌লেন, ‘সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়। এখা‌নে সকল ধ‌র্মের মানুষ একই সা‌থে সরস্বতী পূজার আনন্দ‌কে ভাগাভা‌গি ক‌রে নেই।’
 
পূজার বিষয়টি নিয়ে জবি উপাচার্য ড.মীজানুর রহমান বলেন, ‘এবারো আমরা পূজায় প্রতিটি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি যাতে সর্বোচ্চ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য  নিয়ে পালন করা হয়। আমাদের এখানে জায়গার তুলনায় বিভাগ সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে। আর এই পূজা যেহেতু পুরান ঢাকার সকল প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে পালন করা হবে তাই এখানে সবার জন্য উন্মক্ত থাকবে। তবে যদি কেউ রং নিয়ে মাতামাতি করে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হবে।’

উল্লেখ্য যে, সনাতন ধর্মমতে শ্বেতশুভ্র রাজহংসের পিঠে চড়ে জ্ঞানের আলো ছড়াতে পৃথিবীতে আসেন বিদ্যাদেবী সরস্বতী। সৌম্যাবয়ব, শুভ্র বসন, বীণা ধারিণী এই দেবী বাঙালির মানসলোকে এমন এক প্রতিমূর্তিতে বিরাজিত, যেখানে কোনো অন্ধকার নেই, নেই অজ্ঞতা বা কুসংস্কারের কালো ছায়া। দেবীর আগমন উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা পূজামণ্ডপে দেবীর প্রতিমা স্থাপন করে। 

শাস্ত্র থেকে জানা যায়- বাকদেবী, বিরাজ, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা, পৃথুধর, বকেশ্বরী সহ আরো অনেক নামেই দেবী ভক্তের হৃদয়ে বিরাজ করে।

দেবী স্বরস্বতী হলেন, শুভ্রবর্ণ। তার এই শুভ্রবর্ণ শুচিতা, শুভ্রতা, শুদ্ধতা ও পবিত্রতার প্রতীক; যা আমাদের মনকে শুচি, শুভ্র ও শুদ্ধ রাখার নির্দেশ দিচ্ছে। সরস্বতী দেবী হংসবাহনা। হংসের একটি বিচিত্রতা আছে। হংসকে দুধ ও জলের মিশ্রণ খেতে দিলে সে অনায়াসে জল রেখে সারবস্তু দুধ গ্রহণ করে। সার ও অসার মিশ্রিত এই জগৎ সংসারে মানুষ যেন সারবস্তু গ্রহণ করে এ নির্দেশই হংসবাহনতায় প্রকাশিত। দেবীর হাতের পুস্তক জ্ঞানর্চ্চার প্রতীক। জ্ঞানের মতো পবিত্র এ জগতে আর কিছুই নেই। এই জ্ঞান সব যোগের পরিপক্ব ফল। সরস্বতী মায়ের হাতের বীণা সঙ্গীতবিদ্যার প্রতীক। মনের ভাব প্রকাশ হয় ভাষায় আর প্রাণের ভাব প্রকাশ পায় সুরে। সুর মানুষকে বিমোহিত করে।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/জেআই

bnbd-ads
bnbd-ads