কার শাস্তি কে পাচ্ছে!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ আপডেট: ০৮:৪৭

কার শাস্তি কে পাচ্ছে!

দেশের দুই শীর্ষ মোবাইলফোন অপারেটরের কিছু ব্যান্ডউইথ ব্লক করেছে সরকার। প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ না করায় গ্রামীণফোন ও রবিকে এই শাস্তি দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, আসলে সরকারের দেয়া এই শাস্তি কে পাবে? বিটিআরসি, গ্রামীণফোন কিংবা রবি? কিন্তু তাদের কেউই এই শাস্তি পাবে না। পাবেন অপারেটরগুলোর লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীরা। তাহলে পাওনা আদায়ের কৌশল হিসেবে মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ কমিয়ে কাকে শাস্তি দিতে চায় বিটিআরসি?

শাস্তির এই ধরন নিয়ে ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। অপারেটর আর বিটিআরসি মাঝে ব্যবহারকারীরাই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হবেন বলে সমালোচনা চলছে। 

বিটিআরসি’র জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত গ্রামীণফোনের ৩০ শতাংশ ও রবির ১৫ শতাংশ ব্যান্ডউইথ ব্লক করে রাখা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া এই নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ব্যান্ডউইথ আংশিক ব্লক করে দেয়া হবে।

এর ফলে গ্রাহকরা যে সমস্যায় পড়বেন সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যান্ডউইথ ব্লক করা হলে মোবাইল সেবা বিঘ্নিত হবে। এর ফলে কল ড্রপের সংখ্যা বাড়বে ও ইন্টারনেটের গতি কমে যাবে।

তিনি বলেন, ‘এতে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধা হবে। গ্রাহকদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য বিটিআরসি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছে। কমিশনের আশা, গ্রাহকদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে গ্রামীণফোন ও রবি দ্রুত তাদের বকেয়া পরিশোধ করবে।’

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল গ্রামীণফোনকে একটি নোটিশের মাধ্যমে বিটিআরসিকে ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৪ হাজার ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা প্রদান করার নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। বিটিআরসির নিয়োগ করা একটি অডিট ফার্ম ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে এই বকেয়া তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেয়।

একই সঙ্গে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছে অডিটের মাধ্যমে গত ১৯ বছরে ৮৬৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা বকেয়া প্রাপ্তি হয়েছে বলে দাবি করে সংস্থাটি। তবে রবির দাবি, হিসাব নিরীক্ষকরা যেসব কারণে বকেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন, তা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, আরও অনেকভাবেই অপারেটর দু’টিকে শাস্তি দেওয়া যেতো। ইন্টারনেট সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে যুক্ত। এর ওপর গ্রাহকদের একটা নির্ভরশীলতাও চলে এসেছে। ফলে এই সিদ্ধান্তে সরাসরি গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা উল্লেখ করেন, ১০০ মেগা ইন্টারনেট আগে যেখানে ব্যবহার করতো ৩ ঘণ্টায়, সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে তা ব্যবহার করতে সময় লাগবে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। একটা কাজের জন্য ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।

জানা গেছে, দেশের ৪ মোবাইলফোন অপারেটর প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে। এর মধ্যে সবেচেয়ে বেশি ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে গ্রামীণফোন ও রবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মে বিটিআরসির ২২৭তম কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অপারেটর দুটি বকেয়া পরিশোধ না করলে কমিশন আট ধরনের অপারেশনাল ব্যবস্থা নিতে পারবে। এর মধ্যে বিটিআরসি থেকে দুই অপারেটরের পক্ষে অনাপত্তি জারি বন্ধ করে দেওয়া, এমএনপি পোর্ট ইন বন্ধ বা সীমিত করা, নতুন গ্রাহক নেওয়া বন্ধ বা সীমিত করে দেওয়া, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে বা আইজিডব্লিউ প্রান্ত থেকে ব্যান্ডউইথ বন্ধ বা সীমিত করা, আইজিডব্লিউ প্রান্ত থেকে ইনকামিং বা আউটগোয়িং কল বন্ধ বা সীমিতকরণ, ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জের (আইসিএক্স) মাধ্যমে বন্ধ বা সীমিত করে দেওয়া, নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এসএমএসের মাধ্যমে সারাদেশ বা নির্দিষ্ট এলাকায় থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার মতো অপারেশনাল ব্যবস্থা রয়েছে। এরমধ্যে বিটিআরসি ব্যান্ডউইথ সীমিত করার পদক্ষেপ নিলো।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ