ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ঢাবি প্রতিনিধি

২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৫:১২ আপডেট: ১০:৩০

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এক ছাত্রলীগ নেত্রী।

জারিন দিয়া নামে ওই নেত্রী ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির নির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন। গত ১৩ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে সংগঠনটি।

অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার প্রচেষ্টার বিষয়টি ছাত্রলীগের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, জারিন দিয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ না পেয়ে আন্দোলনরতদের সঙ্গে ছিলেন। ১৩ মে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলা করা হয়। ওইদিন রাতে জারিন দিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অভিযুক্ত করে ফেসবুকে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেন। যেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনায় তাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে হুমকিও দেয়া হয়েছিল বলে জারিন দিয়া সেসময় অভিযোগ করেছিলেন।

মধুর ক্যান্টিনে মারামারির ঘটনায় সোমবার রাতে (২০ মে) ছাত্রলীগ পাঁচজনকে বহিষ্কার করে। এতে জারিন দিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। সূত্রে জানা যায়, পদবঞ্চিত হয়ে হামলার শিকার এবং উপরন্তু বহিষ্কারের ঘটনা সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।

জানা যায়, তাকে রাত আড়াইটার দিকে ল্যাবএইডের পাশে পাওয়া যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। স্টমাক ওয়াস করা শেষে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সে এখন শঙ্কামুক্ত। ৫০২ নাম্বার বেডে আছেন।



জারিন দিয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবাহু তুলে ধরা হলো:

‘গত ১৩ তারিখ পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার পর যখন দেখলাম আমার নামটি নেই, তখন ভাবলাম- হয়তো যোগ্য না। তাই হয়তো আমার নামটি দেয়নি। এক পর্যায়ে শোভন ভাইকে ফোন দিলাম। ভাইকে বললাম, ভাই আমাকে কেনো কমিটিতে রাখা হলো না? আমি শুনতে চেয়েছিলাম তিনি হয়তো বলবেন, আমি যোগ্য না। রাজনীতি করতে থাকো, পাবে একসময়। কিন্তু না......

ভাই আমাকে বললেন; তোকে অনেক রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু রাব্বানীর জন্যে তোকে রাখতে পারিনি। রাব্বানী তোর ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ। আমাকে ভুল বুঝিস না। কথাটা শুনে কাঁদবো না হাসবো বুঝতে পারলাম না। তখন আমি শোভন ভাইকে বললাম ব্যক্তিগত ক্ষোভের সেই ঘটনাটা। আরও বললাম, কোনোদিন যদি আপার সামনে যেতে পারি ভাই, আমি আপাকে একটা বার বলতে চাই- আপা সম্মেলনের আগে রাব্বানী ভাই এর সাথে এই বিষয়টা নিয়ে কথাকাটি হয়। তখন ভাই আপনি কী উত্তর দেবেন? কোনও উত্তর দিতে পারেননি শোভন ভাই। রাব্বানী ভাইকে অনেক বার ফোন দিয়েছি। উনি ফোন ধরেননি। তাই সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে আমার সঙ্গে রাব্বানী ভাইয়ের ক্ষোভের ঘটনাটি উল্লেখ করি। যেটা ভাইরাল হয়ে যায়। আজ সেই স্ট্যাটাসটার জন্যে আমাকে ছাত্রলীগ থেকে তারা বহিষ্কার করে দিলেন? আমার দেশরত্নের কাছে একটা প্রশ্ন রেখে যেতে চাই; আমরা মেয়েরা আর কতটা অসম্মানিত হলে তাদের যোগ্য বলে মনে হবে? শোভন-রাব্বানী ভাই আপনাদের একটা কথা বলে যেতে চাই, ব্যক্তিগত ক্ষোভ না দেখিয়ে যারা সংগঠনের জন্যে কাজ করে তাদের মূল্যায়ন দিয়েন। আমি সেদিনের মারামারিতে যখন কোমড়ে আঘাত পেলাম, কই আপনারা তো আমার একটা খোঁজ নিলেন না! আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। জানি না কী করবো। আমি যদি মারা যাই শোভন-রাব্বানী ভাইদের কাছ থেকে উত্তরগুলি নিয়ে আমাকে কলঙ্কমুক্ত করবেন পারলে। রাজনীতি করতে এসে রাজনৈতিক নেতাদেরই দ্বারা এতটা অসম্মানিত হবো কোনোদিন ভাবতেও পারি নি।’

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads