আইজিপির কাছে সাংবাদিকের খোলা চিঠি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ জুন ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৫:১২ আপডেট: ০৫:১৩

আইজিপির কাছে সাংবাদিকের খোলা চিঠি
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাভেদ পাটওয়ারীর কাছে আইন-শৃঙ্খলাসহ নানা ইস্যুতে খোলা চিঠি লিখেছেন সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদ রোমিও। ইংরেজি দৈনিক নিউএজের নিজস্ব সংবাদদাতা রোমিও’র এ চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আইজিপি’র উদ্দেশে সাংবাদিক রোমিও’র এ খোলা চিঠিটি ব্রেকিংনিউজের পাঠকদের জন্য হুবহু দেয়া হলো-

‘‘শ্রদ্ধেয় ড. জাভেদ পাটওয়ারী!
পত্রের প্রথমেই আমার সালাম নেবেন। আমি বাংলাদেশের একজন নগণ্য নাগরিক। পেশায় সাংবাদিক। আর তাই গত ১০ বছর সময় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সাথে কাজ করেছি। তাদের কাজে কখনো প্রচণ্ড ঘৃণা জন্মেছে তো কখনো জন্মেছে সত্যিকারের ভালোবাসা। দীর্ঘ সময়ে, কথা হয়েছে সকল পদবির পুলিশ সদস্যের সাথে। নির্মোহ থাকবার চেষ্টা করেছি। ভালোবেসেছি কেননা সব সময় ভেবেছি এ আমার পুলিশ। দেখেছি সত্যিকারের বিপদে পুলিশের কেউ না কেউ পাশে দাঁড়িয়েছে। সাহায্য করেছে। তবে এ দুই লক্ষের অধিক জনবলের পুলিশ, গণমানুষের হয়ে উঠেনি কোনোকালেও। কষ্ট পাই কেননা এ পুলিশ আমার। আমার স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী। দুর্নীতি, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ঢের। কলেবরে বেড়েছে, নতুন নতুন ইউনিট হয়েছে। মানুষ আশায় বুক বেঁধেছে। নির্যাতন করেছে। লোকে ছি ছি করেছে। আবার প্রয়োজন পাশে দাঁড়িয়েছে সাধ্যমত।

যেমন বেড়েছে জনবল তেমনই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ। যার কাটাকাটিতে তাই পেছনে পড়ে রয়েছে। সবার সাথে মিশে, বার বার মনে হয়েছে পরিবর্তন সম্ভব। বার বার মনে হয়েছে, নিয়োগ, পদন্নতি ও বদলি, এ তিনটা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনলেই বাহিনীর মধ্যে ৪০/৫০ শতাংশ অপরাধের অভিযোগ কমে আসবে। ৩০/৪০ শতাংশ জনপ্রিয়তা বাড়বে আইজিপি তথা সরকারের। উপকৃত হবে জনগণ।

সামনে নিয়োগ। আপনার অফিসাররা বলেন ১০৩ টাকায় চাকরি পাওয়া যায়। আর আমার কানে আসে তার জন্যে ১০,১২,১৪ লক্ষ টাকা দিতে হয়। আমি আমার কোন কানকে বিশ্বাস করবো। সামনে অনেক নিয়োগ। দয়া করে নিয়োগটা ৯৯% স্বচ্ছ করুন। আমূল পরিবর্তন আসবে।

ঘুষ বন্ধে প্রত্যেক ওসিকে ছয় মাস করে এক্সটেনশন দিন। ৬ শতাধিক থানাকে সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ভেতরে আনুন।

আপনাকে আরও একটি innovation একথা বলি ! প্রটোকল ছাড়া হাজির হন থানাগুলোতে। সাথে থাকবে আপনার গানম্যান ও স্টাফ অফিসার। দয়া করে কোনো মিডিয়া নেবেন না। কী দেখেছেন তা প্রেস রিলিজ করার যোগ্য হলে যথেষ্ট। আসামি ধরতে পুলিশ কাছা পর্যন্ত মারে, আপনি তো আপনার সন্তানদের দেখতে যাবেন কেবল।

আরেকটা innovation! এসপিদের নিয়ে বসেন। বলেন, যা করছো করছো। আমি থাকতে আর না। প্রচুর সমর্থন পাবেন। ১৮ কথা শুনবে না, ২০ দেবেন, ২৪ কথা শুনবে না ২৫ দেবেন। সবাই জানে পদ না থাকলে তিনি ফুটুস।

আপনি মাদক নিয়ে উদ্বিগ্ন! আমি আপনাকে অনুরোধ করবো, প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর সকল সদস্যের জন্যে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করুন। যারা screening এ পজিটিভ আসবে সাসপেন্ড করে নিজের সন্তানের মতো চিকিৎসার পাশাপাশি শাস্তির ব্যবস্থা করুন। এটা হবে আপনার innovation! পিআইওকে কার্যকর করুন ASU, FIU আদলে। সারা দেশে ৫০ শতাংশ মাদক কমে যাবে।

Geo strategic importance এর কারণে বিদেশে প্রচুর training আসছে। সারা দেশে তা ছড়িয়ে দিন। কোথাও constable, কোথাও এসআইদের পাঠান। তাদের frustration দূর হবে।

সারদাকে Center of Excellence বানান! কারো কারো জন্যে যেন dumping ground না হয়ে ওঠে।

সবাই এখন ঢাকামুখি। তাই হতাশাগ্রস্থ হয় অনেকেই। দূরে থাকে আপনার সদস্য। সরাসরি video conferencing কথা বলুন আপনার ভুড়ুঙ্গামারির constable এর সাথে। নাম ধরে বলেন, কেমন আছো ? আনন্দে পাগল হয়ে যাবে। কাজ, সততা, নিষ্ঠা বেড়ে যাবে। ভাই পুলিশের ৮৫ % তো ভালো ।

কোনো ইজম চলবে না। ‘স্যার আমার বাড়ি শহরাস্তি। আমি ধানমন্ডিতে আসতে চাই!’ সোজা বরকল পাঠান। বরকলে পড়ে থাকা এতিম কনস্টেবলকে ডিএমপিতে!

বছরের পর বছর ধরে সেই চেনা মুখগুলোই কেন ডিএমপিতে থাকবে। যারা সিটি কিংবা এটিইউ তে কাজ করবে তাদের কথা কিছুটা আলাদা। তবে কাউকে ব্ল্যাংক চেক নয়।

প্রিয় আইজিপি, আপনি দায়িত্ব পাবার দুতিন বছর আগেই আপনার অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। আপনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘আল্লাহই ভালো জানেন কার ভাগ্যে কী আছে!’ আপনি জবাব পেয়েছেন ইতিমধ্যে। আইজিপি বিশাল ব্যাপার। এতো সম্মান ! আর কিছু প্রয়োজন পড়ে না।

ইতি
আপনার স্নেহাসক্ত
রোমিও

পুনশ্চ: আমি মনে করি ডিম আগে না মুরগি আগে সেই থিউরির কারণে দেশ পিছিয়ে যাবে। আপনি আজ শুরু করুন দেশ কালকেই এগিয়ে যাবে।’’

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/জেআই

bnbd-ads
bnbd-ads