যে কারণে রাজনীতি ছাড়ছেন আ.লীগ নেত্রী তুহিন

সেস্যাল মিডিয়া ডেস্ক
২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ১১:১৪

যে কারণে রাজনীতি ছাড়ছেন আ.লীগ নেত্রী তুহিন

রাজনীতি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও যুব মহিলা লীগের নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিন।  

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রাজনীতি থেকে অবসরের কথা জানিয়ে এক দীর্ঘ স্টাটাস দেন তুহিন।  

সাবিনা আক্তার তুহিন তার স্টাটাসে লিখেন ‘আমি রাজনীতি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে বাসায় থাকব। আমি আমার বাচ্চাদের সময় দিতে পারিনি। পেটে বাচ্চা নিয়েও আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আমাকে প্রধানমন্ত্রী এমপি বানিয়েছিলেন। এর জন্য তাকে ধন্যবাদ। আমি কেবল আমার সন্তানদের নিয়ে থাকতে চাই। তাই আমার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।’

রাজনীতিতে নিজেকে বেমানান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এতো তাবেদারী করতে পারব না। আমি রাজনীতির জন্য অনেক হিসেব করে পথ চলেছি, কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনি। জীবনে প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক পথে চলেছি। কখনও ভুল পথে পা ফেলিনি। তারপরও সবাই বলে আমি যোগ্য নই। কারণ আমার কাছে প্রার্থী হওয়ার মতো অর্থ নেই। আমি বর্তমান রাজনীতিতে বেমানান।’

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এ সাংসদ বলেন, ‘নারী হওয়া আজন্ম পাপ। তার মাসুল গুনতে হয় প্রতিনিয়ত। নারী এমপি হলে তাদের কেবল নারী ইস্যুতে কাজ করার অধিকার আছে। কিন্তু মানুষ হিসেবে সকলের কাজ করার অধিকার নেই। একজন নারী সর্বত্র এতো পরীক্ষা দেয়! তবুও তারা খারাপ ও অযোগ্য। নারী ক্ষমতায়ন তখনই হবে যখন ঘরে বাহিরে সিদ্ধান্তে নারীরও ভূমিকা থাকবে।’

তিনি লিখেন, ‘আমি একজন ভিতু মানুষ হয়ে থাকতে চাই না। সত্য কথা বলতে ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে চাই। আমি খারাপ না হলে মিথ্যে অপবাদ মেনে নিব না। আমাকে হটাতে অনেক মিথ্যে অপবাদ দেয়া হয়েছে যা জেনে আমি ক্ষিপ্ত। চামচামি করা আমার নিয়মে নেই। মেয়ে মানুষ তুমি এভাবে চলতে পারবে না, ওভাবে চলতে পারবে না এসব আমি মেনে নিতে পারি না। আমি স্বাধীন। আমি পাপ কে ঘৃনা করি, তা যদি পরিবারের কেউ হয় তাকেও ত্যাগ করি। যা আমার কাছের মানুষরা জানে। আমি পরাজয় মেনে নিতে রাজি। যদি সেটা নিয়মের মধ্যে হয় তবে অনিয়মের কাছে পরাজয় মানতে পারি না।’

তুহিন তার স্টাটাসে আরও লিখেন, ‘আমার কাছে কারও কিছু চাওয়ার থাকলে দূরে থাকেন। কারন আমি কারও জন্য কিছু করার ক্ষমতা রাখি না। আমি কেবলই শূন্য। আমি সংগ্রাম যুদ্ধ করার শক্তি রাখলেও সকলের নত মাথা আমাকে বিরত হওয়ার বার্তা দেয়। পরাজিত সৈনিকের মত খুঁড়িয়ে হাঁটার চাইতে না হাঁটাই ভালো। বিদায় প্রাণের সংগঠন। ক্ষমতায় নাই বা পেলে দুর্দিনের কর্মী হব, যদি দেহে থাকে প্রাণ।’

উল্লেখ্য, সাবিনা আক্তার তুহিন দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মিরপুরের সাংসদ ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি। 

ব্রেকিংনিউজ/জেআই