জমে উঠছে কোরবানির হাট, ভারতীয় গরু আতঙ্কে খামারিরা

নিউজ ডেস্ক
৪ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ১২:১৭ আপডেট: ১০:৪২

জমে উঠছে কোরবানির হাট, ভারতীয় গরু আতঙ্কে খামারিরা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় গরু-ছাগলে জমে উঠেছে পশুর হাটগুলো। দেশি গরু-ছাগল কিনতে পেরে ক্রেতারাও খুশি। দেশীয় খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরু আমদানি না হলে এ বছর ঈদে ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পারবেন তারা। এখন পর্যন্ত হাটে তেমন চিত্র দেখা না গেলও শেষ দিকে কী হয় তা নিয়েই খামারিদের শঙ্কা। 

আর মাত্র ৭ দিন বাকি পবিত্র ঈদুল আজহার। ঈদ ঘিরে আগামী মঙ্গলবার থেকে দেশের সর্বত্র পুরোদমে শুরু হবে কোরবানির হাটে পশু বেচাকেনা। খামারিরা এই মুহূর্তে প্রতিটি গরুর প্রতি বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন। খাবারদাবার থেকে শুরু করে বাইরের চাকচিক্য বাড়াতে গরুর প্রতি যত্নআত্তির শেষ নেই। তবে গেল বছরের মতো এবারও যদি ঈদের আগ মুহূর্তে হাটে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে তবে এবারও লোকসানে পড়তে হবে খামারিদের- এমনটাই জানাচ্ছেন দেশের গরু ব্যবসায়ীরা। 

সারা বছর ধরে এই সময়টার জন্যই অপেক্ষায় থাকেন দেশীয় খামারিরা। দেশের হাজার হাজার খামার থেকে লাখ লাখ গরু ও মহিষ সরবরাহ করা হয় কোরবানির পশুরু হাটে। সব ব্যবসায়ীরাই পুরো বছরের শ্রম ঘাম আর বিনিয়োগ থেকে দু-পয়সা লাভের মুখ দেখতে মুখিয়ে থাকেন। খামারিরা দেশি জাতের পাশাপাশি বিদেশি জাতের গরু-মহিষও পালন করেন ঈদকে টার্গেটে রেখে। তবে ভারতীয় গরুর দাম দেশি গরুর চেয়ে কম হওয়ায় হাটে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে ক্রেতারা সেদিকেই ঝুকে পড়েন। তখনই লোকসান গুণতে হয় দেশীয় খামারিদের। 

প্রতি বছর কোরবানির ঈদ ঘিরে বাংলাদেশে ভারতীয় গরু পাচারের হিড়িক পড়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে দেশের প্রায় প্রতিটি সীমান্ত অঞ্চলে গরু পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধপথে দেশের বাজারে নামানো হয় হাজার হাজার বিদেশি গরু। 

তবে এবার ইদুল আজহাকে সামনে রেখে আগাম সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছে ভারত সরকার। গবাদি পশু পাচার রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

সম্প্রতি দেশটির শীর্ষ বিএসএফ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু পাচার রুখতে সীমান্তে অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নৌ পথে বাড়ানো হচ্ছে সার্বক্ষণিক টহল। 

একইসঙ্গে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে শত শত গরু পাচার হচ্ছে। প্রতি রাতেই পাহাঘাটি, ফুলতলা, লালপুর, ধানগ্রা, ধুলিয়ান, ছোটোশিবপুর, বড়শিবপুর, ডিস্কোমোকর, দৌলতপুরের মতো গঙ্গার তীরবর্তী গ্রাম থেকে সারি সারি গরুর গলায় কলাগাছ বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে। যেন গরুগুলো ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে যেতে পারে এবং বাংলাদেশ সীমান্তের পাচারাকীররা সহজেই যেন সেগুলো নিয়ে নিতে পারে। 

গরু ও মহিষ পাচার ঠেকাকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের আগ্রাসী হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈদ ঘিরে বাংলাদেশে গরু পাচার রোধের বিষয়টিকে ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ জওয়ানরাও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। 

সারা বছরে দেশে প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। এর অর্ধেকই জবাই হয় কোরবানির ঈদের সময়। বছরের অন্যান্য সময় আমদানি কিছুটা শিথিল থাকলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাড়ছে ভারতীয় গবাদিপশুর আমদানি। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এবার প্রায় প্রতিদিনই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার কোরবানির পশু অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

২০১৭ সালে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে ৭ মাসে ভারত থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ৬৭৮টি গরু বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। যাতে সরকারের রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। আর গেল বছরের প্রথম ৭ মাস অর্থাৎ জুলাই পর্যন্ত ভারত থেকে পাচারকৃত ৭ হাজার ৫২৬টি বাংলাদেশে আনা হয়েছে। যেখানে সরকার রাজস্ব আয় করেছিল ৩৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।  

এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কোরবানির সংখ্যা বাড়তে পারে।   

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি