১৪৫ বছরেও আধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি কবি নজরুল সরকারি কলেজ

নুরে আলম মাসুম
২ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ১১:৫৯ আপডেট: ১২:০৫

১৪৫ বছরেও আধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি কবি নজরুল সরকারি কলেজ

আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর তৈরির অন্যতম আঁতুড়ঘর রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজ। মফস্বল থেকে শুরু করে নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা হাজারো স্বপ্নগুলোর শেষ গন্তব্য হিসেবে খ্যাত ঐতিহ্যবাহী এই কলেজটি। ১৮৭৪ সালে হাজী মো. মহসিনের হাত ধরেই তৎকালীন ঢাকা ইসলামিয়া মাদ্রাসা নামে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে এটিকে কবি নজরুল সরকারি কলেজ নামে নামকরণ করা হয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির ১৬টি বিভাগে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছেন। এই বছরের প্রাক্কালে কলেজটি ১৪৫পূর্তি উদযাপন করেছে। কিন্তু ১৪৫ বছরেও এই প্রতিষ্ঠানটি উন্নতির শিখরে আরোহন করতে পারেনি।

এই বিষয়ে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সাইমন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “১৪৫ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে চারটি একাডেমিক ভবনে প্রায় ১৬টি বিভাগ চালু রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলেও সত্যি, ভবনগুলো অবস্থা একেবারেই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়তই ভবনেগুলোর ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা আবার ছাদের কিছু কিছু অংশে উঁকি দিচ্ছে রড। এহেন অবস্থায় প্রতিদিন ক্লাস করছে হাজারো শিক্ষার্থী।

সাইমন আরও বলেন, আমাদের কলেজের অনেগুলো সমস্যা রয়েছে– প্রথমত, বেশিরভাগ বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী যেখানে প্রতিটি বিভাগে ১৩জন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে ৪-৫ জন শিক্ষকেরও খোঁজ মেলে না। আবার, এই ৪-৫ জন শিক্ষকেই ইন্টার লেভেল থেকে শুরু করে ডিগ্রিসহ, অনার্স, মাস্টার্সের সকল কোর্স সামাল দিতে হয়। তার উপর একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ কোর্সগুলোর পরীক্ষা নিতেও হিমশিম খেতে হয় শিক্ষকদের। যার ফলে আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে,  বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের একজন শিক্ষার্থীকে যতটুকু মনিটরিং বা নার্সিং করা দরকার তার তার ন্যূনতমও করতে পারছেন না এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। দ্বিতীয়ত, আমাদের প্রচুর ক্লাসরুম সংকট রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির পর ক্লাসে উপস্থিতি বেড়েছে। প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষ নিয়মিত ক্লাস করছে। যার ফলে অন্যান্য শিক্ষাবর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা নিদির্ষ্ট ক্লাসরুম পাচ্ছে না। তৃতীয়ত, পরিবহন সমস্যা যদিও শতেক-দেড়েক বছর ধরে ভুগিয়েছে, কিন্তু এই বছরের প্রাক্কালে অধ্যক্ষ স্যারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে এর সমস্যা কিছুটা লাঘব হয়েছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে পরিবহন সংখ্যা বাড়লে শিক্ষার্থীদের আর ঝামেলা পোহাতে হবে না। চতুর্থত, কিছুদিন পূর্বে কলেজ কতৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় প্রতিটি বিভাগে একটি করে পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র লাগিয়েছে, কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরেই উক্ত মেশিনটি অকেজো হয়ে গেছে, বিভাগীয় কতৃপক্ষকে বার বার অবগত করা শর্তেও তা ফলশূন্যই রয়ে গেলো। গ্রীষ্মকালে, মাঝে মাঝে বৈশাখের প্রচণ্ড দাবদাহে যখন শিক্ষার্থীদের গলা শুকিয়ে কাঠ অবস্থা তখনো পানির তৃষ্ণা মেটাতে পারেনা শিক্ষার্থীরা। ফলশ্রুতিতে, অনেক শিক্ষার্থীর অসুস্থতার খবরও জানা গেছে। পঞ্চম, কলেজে নেই কোনো বড় মাপের ক্যাফেটেরিয়া যার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়তই বাহিরের ধূলাবালি মিশ্রিত খাবারের উপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে, আর এতে তারা নানা রোগব্যাধিতে ভুগছেন। ষষ্ঠ, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য হল ব্যবস্থা নেই, যে একটি ছাত্রাবাস রয়েছে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এতে মাত্র ১৫০ জন ছাত্র থাকার ব্যবস্থা রয়েছে এবং এটির পরিবেশও অবর্ণনীয়। সপ্তম, আমাদের যে একটি লাইব্রেরি রয়েছে তা ২২ হাজার শিক্ষার্থীর চাহিদা মেটানোর উপযোগী নয়। স্বল্প জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বই সংরক্ষিত নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নেই এই লাইব্রেরির প্রতি। এতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধই রয়েই যাচ্ছে।  পরিশেষে এই শিক্ষার্থী সমস্যাগুলো দ্রুত সময়ে দূরীকরণের মাধ্যমে আধুনিক একটি ক্যাম্পাস উপহার দেওয়ার জন্য কতৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রাজিব জানান, আমাদের বিভাগে স্বল্প কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন। সকল বর্ষের একাডেমি ক্যালেন্ডার ম্যান্টেইন করতে গিয়ে শিক্ষকদের হাসফাঁস অবস্থা। যার করুণ, আমরা আমাদের  প্রত্যাশার ৫০% ও পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষিকা জানান,  আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এবং এই সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে কিভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায় তা নিয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যাপক আলী আকবর বলেন,  অনেক প্রতিকূলতা কাটিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশুনা বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সর্বদা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান তিনটি সমস্যা - ক্লাসরুম, পরিবহন, আবাসন, ও ক্যান্টিন ইত্যাদি সমস্যা দূরীকরণের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতিমধ্যেই আমরা দুটি দ্বি-তলা বাসের ব্যবস্থা করেছি, অচিরেই আরও দুটি বাস যোগ হবে। এবং আমাদের একটি মাত্র ছাত্রাবাস "শহীদ সামসুল আলম ছাত্রাবাস " সংস্কারসহ ক্লাসরুমের সংকট নিরসনের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের প্রজেক্ট ইতোমধ্যেই হাতে নিয়েছি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানান, হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই, এগুলো সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। পর্যায়ক্রমে সকল সমস্যা দূরীভূত হবে ইনশাআল্লাহ।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি