লোন উলফ হামলা'র পরিকল্পনায় জঙ্গিরা একত্রিত হয়েছিল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:
১৬ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০২:৩৫ আপডেট: ০৪:১৭

লোন উলফ হামলা'র পরিকল্পনায় জঙ্গিরা একত্রিত হয়েছিল

জঙ্গি সংগঠন আনসার আল আনাস গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপক্ষে। তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা কারীদের উপর আকস্মিক আক্রমন করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে থাকে। এক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে চাপাতি ব্যবহার করে। তাদের আকস্মিক আক্রমনের পরিকল্পনাকে তারা তাদের সংগঠনের ভাষায় Lone-wolf attack বলে থাকে। তবে কোন নাশকতার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, গোপনীয় তথ্য সরাবারহ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অফলাইনে দেখা সাক্ষাৎ করে থাকে। 

সাম্প্রতি কোনও Lone-wolf attack-এর পরিকল্পনা জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীরা উত্তরা এলাকায় তাদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করছিল। রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুর ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর এলাকা থেকে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল আনাসের ছয় সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৪-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। এর আগে শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাত থেকে শুরু করে আজ শনিবার ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে সাগর ওরফে সালমান মুক্তাদির (২১), মো. ইলিয়াস হাওলাদার ওরফে খাত্তাব (৩২), মো. ইকরামুল ইসলাম ওরফে আমীর হামজা (২১), মো. আমীর হোসাইন ওরফে তাওহীদি জনতার আর্তনাদ (২৬), মো. শিপন মীর ওরফে আব্দুর রব (৩৩) ও মো. ওয়ালিউল্লাহ ওরফে আব্দুর রহমান (২৫)।

তিনি বলেন, আনসার আল আনাসের মতে এই গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা তাগুতি বা বাতিল, তারা কথিত ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। কথিত ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠায় যারা প্রতিহত করে কিংবা বিরোধ সৃষ্টি করে তাদের চূড়ান্ত শাস্তির ব্যবস্থা ও দেশের প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে কথিত ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করাই আনসার আল ইসলামের মূল উদ্দেশ্য। জঙ্গি তৎপরতা, প্রশিক্ষণ ও করনীয় সম্পর্কে তারা নিজেদের মধ্যে অনলাইনে যোগাযোগ করে। সাম্প্রতি কোনও Lone-wolf attack-এর পরিকল্পনা জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীরা উত্তরা এলাকায় তাদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করছিল।

শফিকুল ইসলাম ওরফে সাগর ওরফে সালমান মুক্তাদির। সে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। সে গ্রেফতার ইলিয়াস হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে এ্যাপসের মাধ্যমে আনসার আল ইসলাম দল সম্পর্কে প্রথমে জানতে পারে। পরে তাদের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ দলে যোগদান করে। সে প্রায় দুই বছর যাবত এ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। পরবর্তীতে সে আনসার আল ইসলাম শীর্ষ নেতার সঙ্গে অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিত হয় এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন।

ইলিয়াস হাওলাদার। সাংগঠনিক নাম খাত্তাব। সে ড্রাইভারি পেশায় জড়িত। অনলাইনে সে খাত্তাব ছদ্ম নাম ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করত। ছাত্র জীবনে হরকাতুল জিহাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। হরকাতুল জিহাদ নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে তিনি তার সক্রিয়তা কমিয়ে দেয়, কিন্তু সবসময় সশস্ত্র উগ্রবাদে অংশগ্রহণে আগ্রহী ছিল। এক ব্যক্তি তাকে আনসার আল-ইসলামের দাওয়াত দেয় এবং বিভিন্ন বই, লিফলেট ও ভিডিও সরবরাহ করে। এমনকি সংগঠনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য বিভিন্ন অনলাইন এ্যাপস্ হাতে কলমে শিক্ষা দেয়। সে প্রায় তিজ বছর ধরে এই সংগঠনের সাথে জড়িত।

ইকরামুল ইসলাম। সাংগঠনিক নাম মুত্তাকিন ওরফে আমীর হামজা ওরফে সালাউদ্দিন আইয়ুবী। তার বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সুন্দরবন সংলগ্ন চকবারা এলাকায়। সে একটি মোবাইল কোম্পানীর টাওয়ারে জেনারেটর পরিচালনা কাজে চাকরিরত। পাশের গ্রামের আমীর হোসাইনের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত হয়। পরবর্তীতে অনলাইনে বিভিন্ন জঙ্গি সংক্রান্ত পোস্ট ডাউলোড করে এবং বিভিন্ন জঙ্গির সঙ্গে পরিচয় হয়।  আমীর হামজা জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। সে প্রায় তিন বছর ধরে এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

আমীর হোসাইন। সাংগঠনিক নাম সুলতান মাহমুদ ওরফে রাজা। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানাধীন এলাকার বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে হাফেজি শেষ করেছেন। জসিম উদ্দিন রাহমানীর বিভিন্ন জঙ্গিবাদি আলোচনা তাকে আকৃষ্ঠ করে। এক পর্যায়ে জসিম উদ্দিন রাব্বানী গ্রেফতার হওয়ার পর অনলাইনে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। সে আনসার আল-ইসলামের বিভিন্ন ভিডিও, বইপত্র, মোবাইল এ্যাপস সংগ্রহ করতো এবং সংগঠন পরিচালনা ও ব্যয় বহনের জন্য প্রতি মাসে চাঁদা দিয়ে আসছিল। সে ছয়টি উগ্রবাদী ফেসবুক পেজের এডমিন। আমীর হোসেন সাতক্ষীরা জেলার আনসারুল ইসলামের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী। সে চার বছর ধরে এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

শিপন মীর। সাংগঠনিক নাম আব্দুর রউফ বর্তমানে ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত। এ্যাপস্-এর মাধ্যমে আনসার আল ইসলাম দল সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে এবং তাদের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলে যোগ দেয়। সে তিন বছর ধরে এই সংগঠনের সাথে জড়িত।

ওয়ালি উল্লাহর সাংগঠনিক নাম আব্দুর রহমান। সূত্রাপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পাশ করে ২০১৮ সালে তাহফিজুল কুরআন/দারুল কুরআন ওয়াজ সুন্নাহ্ হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষাকতা শুরু করে। ২০১৬ সালে সূত্রাপুর মাদ্রাসায় থাকাকালে আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে আনসার আল ইসলাম দল সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে এবং তাদের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ দলে যোগদান করে। চার বছর ধরে এই সংগঠনের সাথে জড়িত। সে আনসার আল ইসলামের ঢাকা দক্ষিন বিভাগের অন্যতম শীর্ষ নেতা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন উগ্রবাদী বই, লিফলেটসহ উগ্রবাদী ডিজিটাল কনটেন্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এসপি

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি