১৩ মেয়র প্রার্থীর ৪ জন স্বশিক্ষিত, কাউন্সিলরে এসএসসি’র ছড়াছড়ি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০২:১৩ আপডেট: ০৩:৩২

১৩ মেয়র প্রার্থীর ৪ জন স্বশিক্ষিত, কাউন্সিলরে এসএসসি’র ছড়াছড়ি

আসন্ন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ফের উত্তপ্ত রাজনীতির হাওয়া। সর্বত্রই আলোচনা নির্বাচন ঘিরে। ভোটের মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ চমকও এনেছে এবার। রাজনৈতিক পরিবারের হলেও অপেক্ষাকৃত তরুণ ও শিক্ষিতদের প্রার্থী করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। ইতোমধ্যে মেয়র পদে নির্বাচনে বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি রাজনৈতিক দলগুলোও প্রার্থী দেয়ায় পিছিয়ে নেই। প্রতীক বরাদ্দের পর গেল ১০ জানুয়ারি থেকে নিজ নিজ মার্কা নিয়ে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ হলো ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাছাই। যারা ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিকদের খুব কাছাকাছি অবস্থান করেন। যারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির আসনে বসেন এবং ক্ষমতায়িত হন। এই ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের শিক্ষা, জ্ঞান, মেধা, দৃষ্টিভঙ্গি, নাগরিক মূল্যবোধ, স্থানীয় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হয়। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের এসব কিছুই থাকে না, শুধু একটা রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়া।

শিক্ষাকে বলা হয় একটি জাতির মেরুদণ্ড। একজন শিক্ষিত নেতাই পারেন একটা শিক্ষিত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন বিধি বিধান নেই। আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও কোন বিধি নেই। এ সুযোগে স্বশিক্ষিত, স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন, অষ্টম শ্রেণি, দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। বিষয়টি স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বিশিষ্টজনরা দাবি করছেন প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক করার।

প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা থেকে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সাতটি রাজনৈতিক দলের ৭ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই স্বশিক্ষিত। স্বশিক্ষিত মেয়র প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী আব্দুর রহমান। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী বাহরানে সুলতান বাহার। এছাড়া গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন এইচএসসি পাস বলে হলফনামায় জানিয়েছেন।

অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র স্বশিক্ষিত মেয়র প্রার্থী প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের শাহীন খান। তবে উত্তর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুইজন করে চার প্রার্থীই উচ্চশিক্ষিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের শিক্ষাগত যোগ্যতা এল.এল.বি (অনার্স) ব্যারিস্টার-এট- ল। বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং)।
 
আর উত্তরে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম আতিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম পাস। বিএনপির তাবিথ আওয়ালের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি।

স্থানীয় সরকার ( সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ৯(১) ধারা মতে কোন ব্যক্তি মেয়র,সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের প্রার্থী হবার যোগ্য হবেন যদি (ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন; তার পঁচিশ বছর পূর্ণ হয়, মেয়রের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের যে কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় তার নাম লিপিবদ্ধ থাকে তবে সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোন বিষয় নেই।

এদিকে করুণ অবস্থা সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আসনে। প্রার্থীদের অধিকাংশই স্বশিক্ষিত, অক্ষর জ্ঞান সম্পূর্ণ কিংবা এসএসসি পাস।

হলফনামা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এখনো দশম শ্রেণিতে পড়ছেন উত্তর সিটি করপোরেশনের ১১ নাম্বার সংরক্ষিত মহিলা আসনের একজন প্রার্থী। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীর নাম রোজী জয়ীতা। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে তিনি লিখেছেন দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ঢাকা।

৬ নং সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী সাহিদা আক্তার শীলা শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে লিখেছেন ' অক্ষর জ্ঞান সম্পূর্ণ'

উত্তর সিটির সংরক্ষিত নারী আসনে ৩১টি হলফনামা পর্যবেক্ষণ করা জানা যায় এদের মধ্যে মাত্র ৩ জন মাস্টার্স পাস। প্রায় একই অবস্থা দক্ষিণ সিটিতে। আর সাধারণ কাউন্সিলর আসনে দুই সিটিতে স্বশিক্ষিতের ছড়াছড়ি।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। তাই স্থানীয় সরকারের ওপর এটা চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নাই। তিনি বলেন, হলফনামায় তো বিষয়গুলো উল্লেখ করাই আছে। ভোটাররা প্রার্থীর সব কিছু দেখে, গুনাগুন বিচার করে ভোট দিতে পারে। স্থানীয় সরকার যদি চায় আইন পরিবর্তন করে তাহলে ইসির কোন আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে সুপ্রিম কোর্টর তিন আইনজীবী আব্দুল মোমেন মোমেন চৌধুরী, কে এম জাবের ও জহুরুল ইসলাম প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়ের উৎস ও ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সংশ্নিষ্টতাসহ আট ধরনের তথ্য জানানোর নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে রিট করেন। সেই বছরের ২৩ এপ্রিল সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি রুল জারি করেন আদালত। ২৪ মে হাইকোর্ট প্রার্থীদের আট ধরনের তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দিয়ে রায় দেন।

উল্লেখ্য, ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার তারিখ ৩১ ডিসেম্বর, যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি আর প্রত্যাহার ৯ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ১০ হয় জানুয়ারি। পুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। 

৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৮টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গঠিত। এ নির্বাচনে ১ হাজার ৩৪৯টি ভোটকেন্দ্রের ৭ হাজার ৫১৬টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এ নির্বাচনে ১ হাজার ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৫ হাজার ৯৯৮টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ ভোটার এ নির্বাচনে ভোটধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

ব্রেকিংনিউজ/এসআই/এমএইচ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি