জনগণের আস্থা হারিয়ে বাধা দিচ্ছে আ.লীগ: জাহাঙ্গীর

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৯ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০২:৪৩ আপডেট: ০৩:১৮

জনগণের আস্থা হারিয়ে বাধা দিচ্ছে আ.লীগ: জাহাঙ্গীর

জনগণের আস্থা হারিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা প্রতিনিয়ত ধানের শীষের গণসংযোগে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘যতই বাধা আসুক আগামী ১২ নভেম্বর ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভোট কেন্দ্রে থাকবো। বিজয়ই নিয়েই ঘরে ফিরবো।’

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে পায়ে হেঁটে খিলক্ষেত থানার কুড়াতলি এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। গণসংযোগে দলে দলে নেতাকর্মীরা যোগ দেন। গণসংযোগটি কুড়িল, বিশ্ব রোড, জোয়ার সাহারা, বসুন্ধরা গেট হয়ে জগন্নাথপুর এসে শেষ হয়। এ সময় তিনি বলেন, ‘এই জনস্রোতেই প্রমাণ করে দেশের মানুষ তথা ঢাকা-১৮ আসনের মানুষ খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও গণতন্ত্রের প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আছেন।’

গণসংযোগ থেকে ধানের শীষকে গণতন্ত্রের প্রতীক, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার প্রতীক এবং ধর্ষণ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধের প্রতীক উল্লেখ করে নানা স্লোগান দিয়ে নেতাকর্মীরা ভোট ভোট চান। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ সময় সড়কের দু’ধারে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, বাসা-বাড়ির ছাদ থেকেও নারী-পুরুষ হাত নেড়ে ধানের শীষকে সমর্থন জানাতে দেখা যায়। এ সময় জাহাঙ্গীরও তাদের সমর্থনের জবাব দেন।

এ সময় জাহাঙ্গীর বলেন, ‘গত ১২ বছর ধরে জনগণ ভোট দিতে পারছেন না। এটা আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করে আসছেন। আমাদের নেত্রী বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে যে আমরা জীবন দিয়েছি, তেমনি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রয়োজনে আবারও জীবন দিব। তবুও গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবোই আনবো ইনশা-আল্লাহ।’

দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসন চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বালিশ ও পর্দা কেলেঙ্কারি এসব দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। আওয়ামী লীগের ফরিপুরের দুই নেতা দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে, তা মানুষ ভুলে যায়নি। মা-বোনদের ইজ্জত লুটে নিচ্ছে, তারা হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে, আমাদের অনেক ভাই গুম হয়েছেন, আমাদের বিরুদ্ধে অনেক গায়েবি মামলা হয়েছে এগুলো মানুষ ভুলে যায়নি।’

জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘আমরা চাকরি করতাম, ব্যবসা করতাম এখন তা পারি না-এসব কী আমরা ভুলে গেছি? ঘরে থাকতে পারি না, সন্তানের মুখ দেখতে পারি না। আমরা আর কিছুকেই ভয় করবো না। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো, নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ সৃষ্টি করবো। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবো।’

গণসংযোগে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘জনগণ আমাদের সাথে আছে। আগামী ১২ নভেম্বর এই খুনি হাসিনার সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধানের শীষে ভোট দিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেবে জনগণ।’
 
আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিব হাসানের উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমরা যেখানে গণসংযোগের জন্য কর্মসূচি দেই, সেখানেই পাল্টা কর্মসূচি দেয় আওয়া লীগ প্রার্থী। আপনার জনগণের উপর আস্থা নেই কেন, ভয় পান কেন? জনগণের জন্য কাজ করেন না, জনগণের ভোট আপনাদের দরকার নেই। আপনারা (আওয়ামী লীগ) এ পর্যন্ত যতবার নির্বাচিত হয়েছেন রাতের আধাঁরে ভোটবিহীন নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণ ভোট দিতে পারে না।’

এ কারণে আপনারা সন্ত্রাস করছেন। বুঝাতে চাচ্ছেন, জনগণের ভোট আপনাদের দরকার নেই। কিন্তু আমরা বিএনপি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কর্মী, তারেক রহমানের কর্মী। জনগণ আমাদের সাথে আছে। জনগণের ভোট বিএনপির দরকার আছে। আমরা আশা করি, জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দেও প্রার্থীকে ভোট দিবে। যতই হুমকি-ধমকি আসুক, আমাদের নেতাকর্মীরা সকাল সকাল জনগণকে সাথে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবে।’

এ সময় তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের কাছ থেকে পূর্ব অনুমতি নিয়েই কর্মসূচি নির্ধারণ করি। কিন্তু আমরা যখন কর্মসূচি করতে যাই তখন বলেন, আওয়ামী লীগও কর্মসূচি দিয়েছে। দেশটা কিন্তু মগের মুল্লুক নাকি। আমরা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখতে চাই, আপনারা সবাইকে সমান সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন। আগে যাদের অনুমতি দিবেন তাদের কর্মসূচি করতে দেবেন-এটা আপনাদের দায়িত্ব। যদি অনুমতি দেয়ার পর কর্মসূচি করতে না দেন, ভবিষ্যতে কর্মসূচি করার আগে আর কোনও অনুমতি নেয়া হবে না। আন্দোলন করতে অনুমতি লাগে না।’

এর আগে গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন জাহাঙ্গীর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। তারা আমাদের বলেছে, আমাদের গণসংযোগে হাজার হাজার নেতাকর্মী ‍অংশ নিয়ে ভোট চাইতে বের হয়। তারা আরও বলছেন, এলাকার রাস্তাঘাট ভালো না ও এলাকার উন্নয়ন নেই, তাই গণসংযোগে কম নেতাকর্মী নিয়েন। আমি তাদের বলেছি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে এই এলাকার যত উন্নয়ন করেছেন, আর কেউ করেনি। আমরা বিশ্বাস করি আগামী ১২ নভেম্বর জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট কেন্দ্রে দিয়ে ভোট দিবে। আমাদের নেতাকর্মীরা পোলিং এজেন্ট হিসেবে ভোট কেন্দ্রে থাকবেন। আমরা সকাল থেকে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকবো।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপি মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, মহানগর বিএনপি নেতা কাজী হযরত আলী, ছাত্রদলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফকরুউদ্দিন রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজাউল হক রিয়াজসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী গণসংযোগে অংশ নেন।

প্রতীক পাওয়ার পর গত ২৩ অক্টোবর জুমার নামাজের পর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ১ নং সড়ক থেকে ধানের শীষের পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয় বলে অভিযোগ উঠে। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন, গণসংযোগ কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশের অসহযোগিতা করাসহ নানা অভিযোগ করে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/এসআই

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি