শতভাগ পয়ঃসেবার আওতায় আনতে কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
২৯ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৪:২১ আপডেট: ০৪:২৫

শতভাগ পয়ঃসেবার আওতায় আনতে কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা

ঢাকা শহরকে শতভাগ পয়ঃসেবার আওতায় আনতে পাঁচটি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে ঢাকা ওয়াসা। নাগরিক ভোগান্তি লাঘবে ঢাকা ওয়াসার আওতায় স্যুয়ারেজ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে ৫ এলাকায় পাঁচটি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে আফতাব নগর সংলগ্ন দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

ওয়াসা বলছে, এই দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, বারিধারা ডিওএইচএস, বসুন্ধরা, বাড্ডা, ভাটারা, বনশ্রী, কুড়িল, সংসদ ভবন এলাকা, শুক্রাবাদ, ফার্মগেট, তেজগাঁও, আফতাব নগর, নিকেতন, সাঁতারকুল, হাতিরঝিল এবং আশেপাশের এলাকাসহ প্রায় ২০ এলাকায় সৃষ্ট পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন করে বালু নদীতে নিষ্কাশিত হওয়ার মাধ্যমে পানি ও পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া হাতিরঝিল প্রকল্পের গুণগতমান উন্নয়নসহ সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-১ ও ফেজ-২ এর ইনটেক পয়েন্ট শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষণ কমানো সম্ভব হবে। এই ২০ এলাকার পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনে দ্রুত কাজ করছে ওয়াসা।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তত্ত্ববধানে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনগার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ওয়াসা। ৩ হাজার ৩১৭ কোটি ব্যয়ে প্রকল্পটির উদ্দেশ্যে ঢাকা ওয়াসার আওতাধীন স্যুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে পাগলা, দাশেরকান্দি, রায়েরবাজার, উত্তরা এবং মিরপুর এলাকায় মোট পাঁচটি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ করা হবে। এরমধ্যে দাশেরকান্দি পয়ঃ শোধনাগার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

প্রকল্পটির পরিচালক প্রকৌশলী মহসিন আলী মিয়া জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সর্বমোট ৬২ দশমিক ৬১ একর ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন করে ঢাকা ওয়াসা বরাবর দখল হস্তান্তর করা হয়। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজটি করছে চীনা রাষ্ট্রয়ত্ব প্রতিষ্ঠান হাইড্রো চায়না কর্পোরেশন। ঢাকা জেলা প্রশাসকের দফতরের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা লেগে যায়। এছাড়া প্রকল্প এলাকা খুবই নিচু হওয়ায় প্রায় সারা বছরই পানিতে ডুবে থাকতো। তাই ভরাট কার্যক্রম পরিচালনা করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। প্রকল্প এলাকায় প্রায় ২০ ফুট গভীরতায় বালু ভরাট করা হয়েছে।

এছাড়া প্রকল্প এলাকার অভ্যন্তরে ২৩০ কেভি দুইটি হাই ভোল্টেজ ট্রান্সমিশন লাইনের টাওয়ার বিদ্যমান ছিল। প্রকল্প সঠিকভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ওই দুইটি হাই ভোল্টেজ ট্রান্সমিশন লাইন টাওয়ার পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তত্ত্বাবধানে চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ফুজিয়ান ইলেক্ট্রিক কোম্পানির মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার দুই পাশে সীমানা বরাবর স্থানান্তর করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুরো প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কুরিয়ান হাংকক ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হাইড্রো চায়না করপোরেশন পরবর্তি এক বছর তত্ত্বাবধান এবং দেখভাল করছে।

এদিকে গত ১৬ অক্টোবর ঢাকা ওয়াসা ভবনে আয়োজিত বিগত ১০ বছরের ঢাকা ওয়াসার অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ঢাকা ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা শহরে শতভাগ পয়ঃশোধনাগার তৈরি করা হবে। নগরীর পয়ঃশোধনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা ওয়াসা স্যুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে। এ প্ল্যান অনুযায়ী ২০৩০ সাল ধরা হলেও ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে শহরের শতভাগ পয়ঃসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে পাঁচটি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা ঢাকা মহানগরীতে দুই কোটির বেশি মানুষের ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ করছে উল্লেখ করে প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে প্রায় ২৪৫-২৫০ কোটি লিটার পানি চাহিদার বিপরীতে ২৬০-২৬৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে। এছাড়া ঢাকা ওয়াসা একটি ওয়াটার মাস্টারপ্ল্যান করেছে। এ প্ল্যানের সুপারিশ ২০৩০ সাল হলেও ২০২৪ সালের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ ভূ-উপরিস্থ এবং ৩০ ভাগ ভূগর্ভস্থ পানির উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধানাগার প্রকল্পের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে ওয়াসার এমডি বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা ২০২১ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। পাগলাস্থ বিদ্যমান পয়ঃশোধনাগারটি ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উত্তরা ও মিরপুর এলাকার জন্য পৃথক দুটি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে অর্থ বরাদ্দ করেছে এবং তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া রায়েরবাজার এলাকার জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হচ্ছে।

ব্রেকিং‌নিউজ/এএইচএস/এসআই

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি