শিরোনাম:

ছাত্রলীগকে সুশৃঙ্খল ইউনিট বানাবো: চৈতী

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
৭ মে ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 2:53 আপডেট: 3:09
ছাত্রলীগকে সুশৃঙ্খল ইউনিট বানাবো: চৈতী

চৈতালী হালদার চৈতী খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার রাজনগর গ্রামের মেয়ে। বাবা শিক্ষকতা করেন, মা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত। ছাত্রী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত মুখ তিনি। ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনে শীর্ষ পদের দুটি পদের একটিতে চৈতালী হালদার চৈতীর প্রত্যাশা। বর্তমান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে পালন করছেন।
 
স্বপ্ন আওয়ামী লীগের একজন আদর্শ নেত্রী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশের জন্য আজীবন কাজ করা। তাই তিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। চৈতী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছেন। ছোটবেলা থেকে পারিবারিকভাবেই রাজনীতিতে অংশগ্রহণ তার।
 
ছাত্রজীবনের শুরুতেই নিজেকে জড়ান ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রমে। শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আদর্শ গ্রহণ করে বর্তমান রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন এবং দলে নারীদের মূল্যায়নসহ রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি-এর মুখোমুখি হয়েছেন চৈতী। সাক্ষাৎকার‌টি নিয়েছেন ব্রে‌কিং‌নিউজের স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
 
ব্রেকিংনিউজ: ছাত্রলীগের রাজনীতিতে কিভাবে জড়ালেন?
চৈতালী হালদার চৈতী: আমার রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। সেই সুবাদে আমার মায়ের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা। আমার মা  খুলনার ডুমুরিয়া মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, ৩বারের সাবেক ইউপি মেম্বর ও জেলা পরিষদেরও সদস্য। আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখন আমার মা তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে আমাকে নিয়েই সব জায়গায় যেতেন। ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারের জন্য খুলনা সার্কিট হাউসে প্রোগ্রাম আসেন। তখন ওই প্রোগ্রামে আমি আমার মায়ের কোলে উঠে জীবনের প্রথমবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখি। সেদিনের সেই স্মৃতি মনে পড়লে এখনও আমি অন্যরকম শিহরিত হই। ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় অংশগ্রহণ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই ইচ্ছা ছিল আপার (শেখ হাসিনা) সাথে দেখা করার। সেই সুযোগ আমার হয়েছে। আমি তাকে সালাম দিতে পেরেছি, তার কথা হয়েছে এবং আমাকে তিনি বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন, এটা আমার জন্য সর্বোচ্চ পাওয়া। বাবা ভেবেছিলেন আমি ম্যাজিস্ট্রেট অথবা বড় কোনো সরকারি অফিসার হবো। পরবর্তীতে বাবা দেখলো যে দেশরত্নের আমি অন্ধপ্রেমী। তখন বাবা অনুমতি দিলো রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার। ছোটবেলা থেকেই দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আইডল মনে করি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনে আমি সভাপতি প্রার্থী। দেশরত্ন শেখ হাসিনা যেহেতু নারী উন্নয়নের দিক দিয়ে বিশ্বে রোল মডেল ও নারী ক্ষমতায়নের দিক দিয়ে নারীদের এগিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সারা বিশ্বে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত তাই আমরা নারীরা স্বপ্ন দেখতে পারি।
 

ব্রেকিংনিউজ: রাজনীতি আর থিয়েটার এই দুটি ভিন্নধর্মী বিষয় কিভাবে মানিয়ে নিয়েছেন?
চৈতালী হালদার চৈতী: সংস্কৃতি অঙ্গনে বিচরণটা ছিল আমার মনের তৃষ্ণা। স্কুল ও কলেজ জীবনে জাতীয় যে প্রতিযোগিতাগুলো হতো সেগুলোতে আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতাম এবং বিভাগ পর্যায়ে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এ কারণে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আমার ভেতর আগে থেকেই ছিল। সেই সুবাধে থিয়েটার, আবৃত্তি সংগঠনসহ সকল সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার সাথে পদচারণা। আমি রাজনীতিকে আমার জীবনের লক্ষ্য হিসেবে দেখেছি। আমি পঞ্চম, অষ্টম, এসএসসি ও এইচএসসিতে টেলেন্টপুলে স্কলারশিপ পেয়েছি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও এসেও স্কলারশিপ পেয়েছি।
 
 
 
ব্রেকিংনিউজ: কেন ছাত্রলীগ করেন?
চৈতালী হালদার চৈতী: আমার রাজনৈতিক আদর্শ বঙ্গবন্ধু, আমার আইডল দেশরত্ন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইতিহাসের সাথে জড়িত। বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসের সঙ্গে এই দুইটি সংগঠন ওতপ্রোতভাবে জড়িত সুতরাং আমি যদি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিশ্বাসী হয়, আমি যদি বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানি তাহলে আমি প্রথমেই জানবো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, তারপর জানবো বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু, দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আমি ছাত্রলীগ করি।
 
ব্রেকিংনিউজ: টেন্ডারবাজি, হলের সিটবাণিজ্য ও ছাত্রলীগ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা অনেকেরই আছে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে আপনি কি বলবেন?
 
চৈতালী হালদার চৈতী: ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্র এবং তারা সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। তাদের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যই কিন্তু জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করা। আমার স্বপ্ন ছাত্রলীগকে একটি সুশৃঙ্খল সুসংগঠিত ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা যাতে করে জাতির পিতার আদর্শে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে পারি। ছাত্রলীগ কখনোই সিটবাণিজ্য করে না এবং এর সাথে জড়িতও নেই। এখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিবাণিজ্য নেই, হলে উঠতে কোনো ছেলে-মেয়েকে টাকা দিয়ে হলে উঠতে হয় না। ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ ছাত্রদের জন্য কাজ করে। সেখানে কোনো রকম বাণিজ্যের সুযোগ নেই। যদি কেউ ছাত্রলীগে থেকে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি বিনষ্টের চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এমনকি আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেও পিছপা হই না।
 
ব্রেকিংনিউজ: রাজনীতি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
চৈতালী হালদার চৈতী: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্য আমি সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছি, ভবিষ্যতেও দেয়ার চেষ্টা করবো। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে দল আমাকে যেখানে কাজ করতে বলবে আমি সেখানেই কাজ করবো। আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য, দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আজীবন কাজ করতে চাই। আমি সবসময় দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।
 

ব্রেকিংনিউজ: ছাত্রলীগের আগামী ২৯তম সম্মেলনে কেমন নেতৃত্ব দেখতে চান এবং সিলেকশন নাকি ইলেকশন পদ্ধতিতে সম্মেলন চান?
চৈতালী হালদার চৈতী: সিলেকশন নাকি ইলেকশন এটা নেত্রী ঠিক করবেন। নেত্রী আমার রাজনৈতিক আদর্শ, আমার গুরু, আমার আইডল আমি মনে করি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ক্ষেত্রে নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন  সে সিদ্ধান্তকেই আমি সম্মান ও স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
 
ব্রেকিংনিউজ: ২৯তম সম্মেলনে আপনার ইচ্ছা পূরণ হলে ছাত্রলীগে কি কি পরিবর্তন আনতে চান?
চৈতালী হালদার চৈতী: অতীতের সব ঐতিহ্য যেমন- ৫২, ৬২, ৬৫, ৬৯ ও ৭১ এই সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতির অগ্রপথিক হিসেবে যে ভূমিকা রেখেছিল সেই ভূমিকার ধারাকে বজায় রেখে আগামীদিনেও যেন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ছাত্রলীগ যেন ভূমিকা রাখতে পারে সেই জন্য সুসংগঠি ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যেখানে প্রত্যেকটা নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে কাজ করবে, বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে ভেতরে লালন করবে এবং তৃনমূলে যারা আছেন তাদেরকে আমি মূল্যায়ন করবো। তৃণমূল পর্যন্ত আমি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং তাদেরকে যথাযুক্ত সম্মান করা হবে। অন্যান্য সংগঠনের চেয়ে এখন অনেক নারী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত রয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ইউনিটে নারীদের সভাপতি-সেক্রেটারি দেয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি এবার যদি দেয়া হয় তাহলে নারীরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে সফলতা আনবে। অনুপ্রবেশকারীরা যেন ছাত্রলীগে এসে নাম ভাঙিয়ে ছাত্রলীগের কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে এ জন্য শৃঙ্খলা ও অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সামনে আমাদের জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনে ছাত্রলীগ যেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটা বড় প্রচারের শক্তি ও ইউনিট হিসেবে কাজ করতে পারে সেজন্য আমি কাজ করে যাবো। ছাত্রলীগের প্রত্যেকটা নেতাকর্মী হয়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর সোনার ছেলে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই একসময় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তারা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে আরও সমহিমায় উজ্জ্বল করবে আমি সেই ছাত্রলীগের স্বপ্ন দেখি।
 
ব্রেকিংনিউজ: আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
চৈতালী হালদার চৈতী: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।
 
ব্রেকিংনিউজ/টিটি/জিসা
 
 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2