শিরোনাম:

‘১৪ দলীয় জোটে আমরা মূল্যায়ন পেয়েছি’

রাহাত হুসাইন
২৪ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 3:35 আপডেট: 3:37
‘১৪ দলীয় জোটে আমরা মূল্যায়ন পেয়েছি’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দলটির অভ্যুত্থান হলেও সময়ের ব্যবধানে বারবার ভাঙনের মুখে পড়ে।  জাসদের কোনো অংশ আছে সরকারের সঙ্গে আবার কেউ আছেন সরকারবিরোধী অংশে। সর্বশেষ সরকারে থেকেই পুনরায় ভাঙনের মুখে পড়ে দলটি। ২০১৬ সালের ১২ মার্চ নেতৃত্বের কোন্দলের কারণে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে যান জাসদের একাংশের নেতারা। বেরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) নামে কার্যক্রম শুরু করেন তারা। জাসদের এ দুই অংশই বর্তমান সরকারের জোটে রয়েছে। একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিবন্ধন পেতে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন দলটির নেতারা।
 
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন নব্বই দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক সাংসদ নাজমুল হক প্রধান। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বিসিএল) সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে মশাল প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন।
 
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বাংলাদেশ জাসদের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম ব্রেকিংনিউজকমবিডি-এর  সঙ্গে  কথা বলেন নাজমুল হক প্রধান। সাক্ষাৎকার‌টি নিয়েছেন ব্রে‌কিং‌নিউজের স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন।
 
ব্রে‌কিং‌নিউজ: আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে (বাংলাদেশ জাসদ) কতটি আসনে অংশ নেবে? 
নাজমুল হক প্রধান: ৩০টি আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেয়া আছে আমাদের। তবে জোটের কাছে ১৫টি আসন চাইব। সিদ্ধান্ত নেবেন জোট নেত্রী শেখ হাসিনা।
 
ব্রে‌কিং‌নিউজ: টানা নয় বছর সরকারের অংশ থাকার কারণে জাসদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে না কমেছে?
নাজমুল হক প্রধান: একটি দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে নির্বাচনের মাঠে ভোটের পরীক্ষা দেয়ার মাধ্যমে। আমরা মনে করি আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। আমাদের কাজের পরিধি বেড়েছে। দল আলাদা হওয়ার পরেও রংপুর-পঞ্চগড়ে আমরা জেলা পরিষদ নির্বাচন করেছি। পৌরসভা নির্বাচন করেছি। আমাদের দলের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বেড়েছে।
 
ব্রে‌কিং‌নিউজ: আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ জাসদ জোটেই থাকছে, না এককভাবে অংশ নিবে?
নাজমুল হক প্রধান: ১৪ দলীয় জোট থেকেই নির্বাচন করব। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান জোটকে আরো সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ করে নির্বাচনী লড়াইয়ের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদী শক্তিকে চূড়ান্তভাবে হারাতে। সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদীদের মোকাবেলায় জোট আরও শক্তিশালী হয়েছে।  ‌
 
ব্রে‌কিং‌নিউজ:  দুই বছর আগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে বের হয়ে আসার পর আপনাদের নেতৃত্বে সাংগঠনিক পর্যায়ে দলকে কতটা বিস্তৃত করতে পেরেছেন? 
নাজমুল হক প্রধান: বের হয়ে নয়, জাসদের পুরনো লোকগুলোই আমরা।  জাসদের কাউন্সিলে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়। একজন শিরীন আখতার এবং আমার নাম।  এ বিষয়ে উনি (ইনু) নির্বিকার ছিলেন। তবে ‘ইনু-শিরীন এগিয়ে চল’ এ স্লোগানকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ইনু নিজেই। এরই মধ্যে কণ্ঠভোটে এটা পাস করিয়ে ফেলেন। সেটার প্রতিবাদ করতে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম।  কথা বলতে না দেয়ায় আমরা বের হয়ে যাই।  বের হওয়ার পরে উনারা একটা প্রহসনের ভোট আয়োজন করেছিলেন। আমরা সেই কারণে একটা কমিটি ঘোষণা করেছি। এরপর উনাদের সঙ্গে  বৈঠক হয়েছে। কথা হয়েছে।  উনারা ত্রুটিগুলো স্বীকার করতে চাননি।  যার কারণে দল আলাদা হয়েছে। জাসদ এমন একটি দল, এটা কোনো ব্যক্তির কাছে জিম্মি ছিল না। ১৯৭২ সালে আমরা তরুণ ছিলাম। আমাদের নেতারা যুবক ছিল। বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ থেকে বিভক্ত হয়ে পরবর্তীতে জাসদ নামে আলাদা দল গঠন করা হয়। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা কারো কাছে জিম্মি ছিল না।  কিন্তু একটা চক্র আমাদেরকে জোর করে ইনু সাহেবের নেতৃত্বে নেয়ার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছিল।  যার করণে আমরা বিদ্রোহ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। সেই বিদ্রোহের ফলে আমার আলাদা হয়ে গেছি।
 

ব্রে‌কিং‌নিউজ:  ১৪ দলীয় জোটে আপনারা কি প্রাপ্য বা কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাচ্ছেন?
নাজমুল হক প্রধান: ১৪ দলীয় জোটে আমরা মূল্যায়ন পেয়েছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যুক্তফ্রন্টকে আরো শক্তিশালী করা। সকলের মত পথের চর্চার সুযোগ দেয়া হউক।  সেই ধারাটা এখনো বেগবান হচ্ছে না। আমরা চাই সেই ধারাটা বেগবান হউক।
 
ব্রে‌কিং‌নিউজ: ‘ঐক্যবদ্ধ জাসদ’ বা জাসদের বিভক্তি দূর করার কথা ভাবছেন কিনা?
নাজমুল হক প্রধান: জাসদ তো কয়েক ভাগে বিভক্ত । আমরা চাচ্ছি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে লক্ষ্য নিয়ে জাসদের জন্ম হয়েছিলো একটি শোষণমুক্ত সমাজ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন- সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা চাই ভবিষ্যতে এককাতারে আসতে। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনের পরে আমারা দেখতে পাবো ঐক্যের ধারাটা বেগবান হবে। আমরা সেই ধারার সঙ্গে আছি। আমার বিশ্বাস জাসদের এদিক-সেদিক বিভিন্ন জায়গায় যে লোকজন আছে একই স্রোতে সামিল হবেন। কোনো নেতাকে কেন্দ্র করে নয়। জাসদের কর্মীদের একটা গুড দিক হল তারা কোনো নেতাকে তোয়াক্কা করে না। নেতৃত্ব তৈরি করছে জাসদ। নেতা জাসদকে বানায়নি। জাসদ অলওয়েজ নেতা তৈরির দল। ঐক্যের ধারায় জাসদ তার নেতা তৈরি করে ফেলবে। 
 
ব্রে‌কিং‌নিউজ: মশাল প্রতীক এবং নিবন্ধন পাওয়ার ব্যাপারে আপনারা কতটুকু আশাবাদী?
নাজমুল হক প্রধান: আমাদের মার্কা নিয়ে মামলা ছিল। মশাল মার্কা নিয়ে আমি ভোট করে এমপি নির্বাচিত হয়েছি। ইনু সাহেবরা নৌকা মার্কা নিয়ে একবার ভোট করে এমপি হয়েছেন।  আর ভোট করা লাগেনি এমনিতেই এমপি হয়েছেন। যৌক্তিক ভাবে মার্কাটা আমাদেরই পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু  মার্কা না দেয়ায় আমরা হাইকোর্টে মামলা করি। মামলাটা বিচারাধীন। বারবার সময় ক্ষেপণ করছে এবং বিলম্বিত করছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আহ্বান অনুসারে নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদেন করেছি। যেই নিয়ম আছে সেই নিয়মের ওপর বিশ্বাস আমরা আমাদের দলের নিবন্ধন পাবো। নিবন্ধন না পাওয়ার কোনো কিছু দেখছি না। 
 
ব্রেকিংনিউজ: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
নাজমুল হক প্রধান: ব্রেকিংনিউজ ও আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
 
ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/জিসা
 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2