শিরোনাম:

কাঁচা হলুদের এতো গুণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
৩ জুন ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 6:00 আপডেট: 6:00
কাঁচা হলুদের এতো গুণ?

প্রাচীনকাল থেকেই ঘরোয়া ওষুধ কিংবা আয়ুর্বেদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ‘বর্ণবতী’ হলুদ। মুখে রুচি বাড়ানো, চর্বি বিপাকে সাহায্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়াও কফ, বাত, ব্রন, চর্ম রোগ ও কৃমি প্রতিরোধে হলুদ বিশেষ কার্যকরী। রক্ত পরিষ্কার রাখতে হলুদের ভূমিকা দারুণ। 

আপনি যদি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে কাঁচা হলুদ মধুর সঙ্গে খেতে পারেন তবে অনেক ধরনের রোগবালাই থেকেই মুক্ত থাকবেন।  খেলে অনেক উপকার। অনেক রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকা যায়। মানবদেহের দীর্ঘস্থায়ী নানা জটিল সংক্রামক রোগ থেকেও মুক্তি দিতে পারে কাঁচা হলুদ। 

চিকিৎসকরা কাঁচা হলুদ ব্যবহারের কিছু উপকারী দিক নিয়ে কথা বলেছেন। সেই পরামর্শগুলো ব্রেকিংনিউজ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো। 

১. কাঁচা হলুদের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে শরীরে মাখলে অ্যালার্জি, র‍্যাশ ও চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

২. রাতে ঘুমানোর আগে দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে ধীরে ধীরে ত্বকের রঙ ফর্সা হয়। রক্ত পরিষ্কার করার পাশাপাশি ত্বককে ভেতর থেকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে কাঁচা হলুদ। সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁচা হলুদের রস খেলেও সমান উপকারিতা পাওয়া যায়। যারা কাঁচা হলুদ খালি খালি খেতে পারেন না, তারা চাইলে সঙ্গে চিনি অথবা গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন।

৩. ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে হলুদ। ২/৩ চিমটি হলুদ গুঁড়া, চালের গুঁড়া, টমেটো রস, কাঁচা দুধের সাথে মিশিয়ে মুখে মাস্ক হিসেবে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের ফাইন লাইন্স এবং ঝুলে পড়া ত্বককে স্বাভাবিক করতে, ফর্সা করতে সাহায্য করে।

৪. প্রতিদিন স্নান করার কাঁচা হলুদের সাথে নারিকেল তেল অথবা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে পায়ের ফাটা দাগ কমবে, পায়ের ত্বক সুন্দর এবং নরম থাকবে।

৫. একদিন অন্তর অন্তর বেসন, কাঁচা হলুদ বাটা, টক দই মিশিয়ে মুখ সহ সারা শরীরে মাখুন। শুকানো না পর্যন্ত সেটি শরীরে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে স্ক্রাব করে মালিশ করুন। এতে করে ত্বকের তারুণ্য দীঘস্থায়ী হবে। 

৬. পেটের সংক্রমণ দমনে হলুদ খুবই কার্যকর। মাখন বা দুধের সাথে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে উপকার মেলে।

৭. কাঁচা হলুদের রস ১৫-২০ ফোঁটা (বয়সানুপাতে) সামান্য লবণ মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হয়। কৃমি দমনে কার্যকর ওষুধ, তাই একে কৃমিঘ বা কৃমিনাশকারীও বলে।

৮. হলুদ গুঁড়ো, আখের গুড় ও খাঁটি সরিষার তেল এক সাথে মিশিয়ে চাটলে হাঁপানি একটু উপশম হয়। এ ছাড়া এক চা-চামচ হলুদের গুঁড়ো এক গ্লাস দুধে মিশিয়ে দিনে দুই-তিনবার খেলে ভালো উপকার মেলে। এটি খালি পেটে খাওয়া ভালো।

৯. মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে কাঁচা হলুদ । নিয়মিত কাঁচা হলুদ খেলে অ্যালজাইমার্স, ডিমেনশিয়া সহ মস্তিষ্কের বেশ কিছু সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।

১০. দুরারোগ্য ক্যান্সার প্রতিরোধেও হলুদ কার্যকরী। হলুদের মধ্যে ফিনোলিক যৌগিক কারকিউমিন রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। হলুদের মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ লবণ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, লোহা প্রভৃতি নানা পদার্থ রয়েছে। তাই হলুদ খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যেমন বাচ্চাদের লিউকমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় নিয়মিত কাঁচা হলুদের রস সেবন। 

১১. বর্তমানে ডায়াবেটিস একটি বড় সমস্যা। আপনার জীবনযাপনকে নিয়ন্ত্রিত করে ফেলে ডায়াবেটিস। আপনি চাইলে দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবন। কাঁচা হলুদ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2