শিরোনাম:

বিশ্বের অস্বাভাবিক আট সীমান্ত

জিয়াউদ্দিন সাইমুম
৫ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 3:10
বিশ্বের অস্বাভাবিক আট সীমান্ত

সীমান্ত বলতে সাধারণ অর্থে একটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থান নির্দেশ করে। সাগর, মহাসাগর, নদী, হৃদ, বন, পর্বতমালা হচ্ছে প্রাকৃতিক সীমান্ত। পৃথিবীতে মাত্র ১৭টি দেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে মাত্র একটি দেশের সঙ্গে।
 
দেশগুলো হচ্ছে ব্রুনাই, কানাডা, ডেনমার্ক, ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, হাইতি, আয়ারল্যান্ড, লেসোথো, মোনাকো, পাপুয়া নিউ গিনি, পর্তুগাল, কাতার, স্যান মেরিনো, দক্ষিণ কোরিয়া, তিমুর, যুক্তরাজ্য ও ভ্যাটিকান সিটি।
 
এসব দেশের একমাত্র স্থলসীমান্ত রয়েছে যথাক্রমে মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, হাইতি, সেনেগাল, ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, স্পেন, সৌদি আরব, ইতালি, উত্তর কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড ও ইতালির।
 
আবার সুইডেন ও নরওয়ের সঙ্গে ডেনমার্কের রয়েছে সমুদ্রসীমান্ত। শ্রীলঙ্কার মতো দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোরও একটাই সীমান্ত থাকে। সেটি হচ্ছে সমুদ্রসীমান্ত। তবে নানা কারণে বিভিন্ন দেশের অস্বাভাবিক সীমান্ত থাকতে পারে। এ জাতীয় আটটি সীমান্তের কথা তুলে ধরা হলো। কারণ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহলের সংখ্যা ১৬২ হলেও এখন তা ইতিহাস।
  
স্পেন-মরক্কো সীমান্ত: সিউটা মাত্র ১৮.৫ বর্গকিলোমিটারের স্পেনিশ স্বায়ত্তশাসিত শহর। এটা মূলত মরক্কোর ছিটমহল। মরক্কো সিউটাসহ স্পেনের মেলিল্লা শহর নিজেদের দাবি করে। স্পেন তিন মিটার উঁচু কাঁটা তার দিয়ে সিউটা ঘিরে রেখেছে।
 
বারলি-হারটগ: বারলি-নেসাউ নেদারল্যান্ডসের একটি মিউনিসিপ্যালটি। বেলজিয়ামের বারলি-হারটগ মিউনিসিপ্যালটির সঙ্গে এটার রয়েছে অস্বাভাবিক সীমান্ত। বারলি-হারটগ ২৬টি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের সমন্বয়ে তৈরি একটি মিউনিসিপ্যালটি। আবার এটার চারদিক ঘিরে রয়েছে বারলি-নেসাউ। এ ২৬ টুকরো মধ্যে সবচেয়ে ছোট টুকরোটি এক একরের তিন ভাগের দুই ভাগের সমান। এ দুটি মিউনিসিপ্যালটির সীমান্ত এতো জটিল যে, কয়েকটি ক্ষেত্রে ছোট একটি ঘরও দুটো দেশের সীমান্তে পড়েছে।
 
বির তওয়িল: বির তওয়িল এমন একটি পরিত্যক্ত এলাকা, যার দাবিদার কেউ নয়। মিসর ও সুদানের মাঝে এটা অবস্থিত। এটার আয়তন ৭৯৫ বর্গমাইল। ১৮৯৯ সালে ব্রিটেন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বির তওয়িল সীমান্ত তৈরি করে। আর সেই ব্রিটেনই ১৯০২ সালে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে একই এলাকার ভিন্ন ধরনের একটি মানচিত্র তৈরি করে। এটার কারণে তৈরি হয় হালাইব এলাকা। এখানে রয়েছে নানা ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু বির তওয়িলে কিছুই নেই। হালাইব এখন মিসরের নিয়ন্ত্রণে। মিসর চায় ১৮৯৯ সালের সীমান্ত আর সুদান দাবি করে ১৯০২ সালের সীমান্ত।
 
মাউন্ট এভারেস্ট: অনেকেই জানেন মাউন্ট এভারেস্টই বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। কিন্তু এটা খুব কম লোকই জানেন যে, নেপাল ও চীনের মাঝের মাউন্ট এভারেস্টই পৃথিবীর সর্বোচ্চ সীমান্তও বটে।
 
ডার্বি লাইন: ডার্বি লাইন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অরলিয়েন্স কাউন্টির একটি গ্রাম। এটা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে বিভক্ত করেছে। এখানকার কোনো বাড়ির বেডরুম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও কিচেন কানাডায়। এখানকার অপেরা হাউসের মঞ্চ কানাডায়, কিন্তু প্রবেশপথ ও অধিকাংশ আসন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় অবস্থিত। এই এলাকার তাই দুটি ডাক ঠিকানা থাকে- একটি যুক্তরাষ্ট্রের, বাকিটি কানাডার। 
 
কোরিয়ান ডিএমজেড: কোরিয়ান ডিমিলিটারাইজড জোন বা ডিএমজেড লম্বায় ১৬০ মাইল ও প্রস্থে আড়াই মাইলের একটি ভূখণ্ড। এতো কঠোরভাবে এ জায়গাটি পাহারা দেয়া হয় যে, কেউ ডিএমডেজে ঢোকে না। তাই এটি একটি প্রাকৃতিক অরণ্যে পরিণত হয়েছে। অথচ উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ১৯৫৩ সালে যুদ্ধ বিরতি হলেও শান্তি আসেনি। কেউ কারো সীমান্ত মানে না।
 
তুমেন নদী: উত্তরপূর্ব এশিয়ার তুমেন নদীর মোহনায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়ার সীমান্ত। এখান থেকে আপনি মাত্র আধা ঘণ্টা হেঁটেই উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তবে এ কাজ করা মোটেও উচিত হবে না। কারণ এখানে নন-স্টপ পাহারায় থাকে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা।
 
ডিওমিডিস দ্বীপ: বেরিং প্রণালীর দুটো দ্বীপের নাম হচ্ছে ছোট ডিওমিডিস ও বড় ডিওমিডিস। মধ্যবর্তী দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার। ছোট ডিওমিডিসের লোকসংখ্যা ১৪৯। কিন্তু বড় ডিওমিডিসে কেউ থাকে না। এ দ্বীপের মালিক রাশিয়া। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা এ দুই দ্বীপের মধ্য দিয়ে টানা হয়েছে। তাই ছোট ডিওমিডিসে যখন শনিবার সকাল নয়টা বাজে, তখন বড় ডিওমিডিসে হয় রবিবার সকাল ছয়টা।  
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা
 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2