শিরোনাম:

খালেদার দুই মামলা

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১০ জুন ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 1:37
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ<br />

মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালন এবং যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়ে জাতির মানহানির অভিযোগে ঢাকার আদালতে চলমান দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ।
 
কুমিল্লার অপর একটি মামলায় হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চে জামিনের বিষয়ে একই ধরনের আবেদনের শুনানিকালে আপিলের কথা বলে সময় চান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে আদালত ওই মামলার শুনানি সোমবার (১১ জুন) পর্যন্ত স্থগিত করেন।
 
রবিবার (১০ জুন) বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন ব্রেকিংনিউজকে জানান, হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আজই আপিল করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।
ঢাকার এই দুই মামলায় বিচারিক আদালতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (হাজিরা পরোয়ানা) জারিপূর্বক খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিষয়ে গত ৩১ মে একটি রায় দেন হাইকোর্ট। গত ৬ জুন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
 
খালেদার আবেদনের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে বলা হয়, ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী অন্য মামলায় জেল হাজতে থাকলে আসামি গ্রেপ্তার দেখানোর দায়িত্ব প্রসিকিউশনের বা বাদীপক্ষের। আসামি পক্ষের এ পর্যায়ে এ ধরনের দরখাস্ত দেয়ার আইনগত কোন সুযোগ নেই। তাই উক্ত পক্ষ কর্তৃক দাখিলী দরখাস্ত নথিজাত করা হল।
 
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এই আদেশের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ম্যাজিস্ট্রেট এই বিষয়ে প্রক্রিয়াগত দিক থেকে ভুল পথে অগ্রসর হয়েছেন। নালিশী মামলায় অভিযুক্ত প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারিপূর্বক জামিন আবেদন করেন। তিনি আদালতকে অবহিত করেন, অন্য মামলায় তিনি কারাগারে আছেন। এ অবস্থায় গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল হয়েছে কি না, সেই প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য অপেক্ষার দরকার নেই। তাই প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারিপূর্বক জামিন আবেদন নথিজাত করে ম্যাজিস্ট্রেট গুরুতর ভুল করেছেন।
 
হাইকোর্টের রায়ে আরও বলা হয়, ম্যাজিস্ট্রেট জামিন আবেদন নিষ্পত্তিতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব করেছেন, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার। একইসঙ্গে নথিজাত করে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশও দেন হাইকোর্ট।
 
জাতীয় পতাকা অবমাননার মামলা: যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়ে সমগ্র জাতির মানহানির অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট আদালত-৭ এ মানহানির মামলা করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। এ মামলায় ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। এই মামলায় খালেদা জিয়া জামিন চাইলে গত ১৭ মে তৃতীয় দফায় শুনানি পিছিয়ে আগামী ৫ জুলাই আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন। এ অবস্থায় তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল।
 
 
 
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগ: মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২২ এ মামলাটি করেন। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর গত ২৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়া জামিন চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু জামিন না দিয়ে ১৭ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আদালত। পরবর্তীতে ওই তারিখে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দিয়ে ৫ জুলাই জামিন বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য্য করেন। এ অবস্থায় তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল।
 
ব্রেকিংনিউজ/এমকে/জিসা
 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2