শিরোনাম:

শেষ সময়ে ফুটপা‌তে জমেছে বেচা‌কেনা

আহসান হা‌বিব সবুজ
১৪ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 1:56 আপডেট: 1:58
শেষ সময়ে ফুটপা‌তে জমেছে বেচা‌কেনা

নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব সবাই ধ‌র্মের মধ্য দি‌য়ে আ‌নন্দ ক‌রে থা‌কে। তাই আসছে ঈদুল ফিতরের উৎসব উপলক্ষে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে ঈদের দিন নিজে ও স্বজনদের সাজাতে পোশাক কেনার ধুম। সেই ধুমের ছোঁয়া শহরের অভিজাত বিপনি বিতানের পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানে চলছে জমজমাট কেনাবেচা। আর এসব দোকানগুলোও সাজানো হয়েছে জমকালো পোশাকে।

বৃহস্প‌তিবার (১৪ জুন) ফুটপা‌তের দোকানগু‌লো ঘু‌রে দেখা যায় ক্রেতারা যেমন কিন‌তে ব্যস্ত তেমনি বিক্র‌িতারাও র‌য়ে‌ছে ব্যস্ত।

কেমন বি‌ক্রি হ‌চ্ছে জান‌তে চাই‌লে গুলিস্তানের ফুটপথের বিক্রেতা মো. র‌ফিক ব্রে‌কিং‌নিউজ‌কে ব‌লেন, ‘খুবই ব্যস্ত আ‌ছি, বি‌ক্রিও ভা‌লো হ‌চ্ছে। শূন্য থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের পোশাক আছে তার দোকানে। অন্যবারের চেয়ে এবার আগাম কেনাবেচা শুরু হয়েছে। ঈদ‌তো আর বেশি দিন বা‌কি নাই। অন্যান্ন দিন শুধু বিকেলে বেচা বেশি হ‌লেও আজ সকাল থে‌কে ক্রেতা‌দের ভিড় জমেছে। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য জামা-কাপড় কেনার কাজটি অভিভাবকরা আগে থেকেই সেরে নিয়ে‌ছে। শিশুদের মধ্যে শূন্য থেকে ১ বছর এবং ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। দামও মাঝামাঝি। ১৩০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যায় শিশুদের পোশাক।

ফুলবা‌ড়িয়া ফুটপাথের দোকা‌নি নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘রোজার প্রথম সপ্তাহে বিক্রি কম হলেও ঈদ যতোই ঘনিয়ে আসছে বিক্রি ততোই বাড়ছে। ঈদ আর ২ দিন বা‌কি এই ২ দি‌নেই কিনা কেনাকাটা শেষ কর‌তে হ‌বে তাই এ কয়‌দিন আমরাও খুই ব্যস্ত থাক‌বো।’

অপর এক দোকানদার আ‌শিক বলেন, ‘সন্ধ্যার পর ক্রেতারা বেশি ভিড় জমায় ত‌বে আজ সকাল থে‌কেই মানু‌ষের ভিড় দেখছি। এবা‌রের ঈ‌দে আর এক‌টি লক্ষ্য করার বিষয় হ‌লো প্রায় সব পোশাকই ক্রয় ক্ষমতার ম‌ধ্যে আছে।’

ত‌বে ত্রেতারা বল‌ছে ভিন্ন কথা। তারা জ‌ানান, ঈদের বাজার বলে জিনিসপত্রের দাম প্রচুর।

শার্ট আর প্যান্ট কিনতে আসা ম‌নির হো‌সেন বলেন, ‘ক‌য়েক মাস আগে যে দা‌মে প্যান্ট শার্ট কি‌নে‌ছি তার চে‌য়ে ডাবল দাম নি‌চ্ছে। ঈদ উপলক্ষে কিছুটা বাড়তি দাম নি‌তেই পা‌রে তা‌বে এ‌তো বেশি নেয়া মা‌নে ক্রেতা‌দের গলা কাটার সমান।’

গুলিস্তানের দোকানগুলোয় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ক্রেতাদের সময় দিতে দোকানিরা দম ফেলার সময়ই যেন পাচ্ছেন না। এসব দোকানি নানা রঙয়ের বাহারি পোশাকের পসরা সাজিয়ে রেখে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। ক্রেতার ভিড়ে দোকানের সামনে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে কখনো-কখনো। সড়কগুলোতে সব মিলিয়ে ফুটপাতের কেনাকাটা জমে উঠেছে।
 
বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে তাদের বেচাকেনা ভালই হচ্ছে। তবে এবার তাদের দোকানে শুধুমাত্র কম আয়ের মানুষই আসছেন না, মান ভাল থাকায় অনেক সামর্থবান পরিবারও তাদের কাছ থেকে পোশাক কিনছেন। 
 
তিনি আরও জানান, এই ফুটপাথে সকল বয়সী নারী-পুরুষের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। আর দামও যথেষ্ঠ কম। 

কথা হয় বোনের জন্য পোশাক কিনতে আসা পালবাড়ি এলাকার অন্তু নামে এক যুবকের সাথে। তিনি বলেন, ‘ছোট বোনের জন্য জামা কিনতে এ‌সে‌ছি কিন্তু জামার যে দাম চাওয়া হয় তা‌তে আমাদের মতো মানু‌ষের কাপুর কিনা খবই কষ্ট কর।’

রজিনা বেগম জানান, ‘তার দুই ছেলের জন্য ঈদ পোশাক কিনতে এসেছেন। কিন্তু বিভিন্ন মা‌র্কেট ঘুরে বেশি দামের কারণে কিনতে পারেননি। সবশেষে ফুটপাথ থেকে দুইটি শার্ট কিনেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আয় খুব কম। দিন আনি দিন খাই। তার মধ্যে থেকে কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলাম। যা দিয়ে ছেলে দুইটার জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। বড় দোকান থেকে কেনার সামর্থ নেই।’

ব্রেকিংনিউজ/ এএইচএস/ এসএ 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2