শিরোনাম:

ঝালকাঠিতে সাপের খামার, ব্যাপক সম্ভাবনা!

আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
২৫ জুন ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 8:41 আপডেট: 8:41
ঝালকাঠিতে সাপের খামার, ব্যাপক সম্ভাবনা!

ঝালকাঠির রাজাপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে বিষধর সাপের খামার। উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর রাজাপুর গ্রামের সালাউদ্দিন মৃধা নামের এক তরুণ যুবক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ বাড়িতেই নিবিড় পরিচর্যায় গড়ে তুলেছেন বিষধর এই সাপের খামার। খামারের নাম দিয়েছেন ‘রাজাপুর কোবরা ভেনম’। 

অনুমোদনের জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবারে সালাউদ্দিন মৃধা আবেদন করলেও এখনও অনুমোদন না পাওয়ায় থমকে আছে সম্ভাবনাময় এই শিল্পের খামারের পুরোদমের কার্যক্রম। 

পরীক্ষামূলকভাবে তিনি উপজেলার দেশি কোবরা, শঙ্খীনি জাতের ৩০টিরও বেশি সাপ নিয়েই চালাচ্ছেন খামার। গত বছর ৫টি সাপ নিয়ে খামারের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তিনি। সাপের বিষ রফতানির উদ্যোগ নেয়ার কথা সরকার ঘোষণা করার পর অনুপ্রাণিত হয়ে সালাউদ্দিন খামারটি গড়ে তোলেন। 

সালাউদ্দিন মৃধা ব্রেকিংনিউজকে জানান, খামারের অনুমোদন পেলে খামার থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকার বিষ উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিষ উৎপাদনের সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যেতে পারছেন না তিনি। 

তিনি জানান, পটুয়াখালির বাংলাদেশ কোবরা ভেনমের পরিচালক রাজ্জাক বিশ্বাসের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এলাকায় সাপের খামার প্রতিষ্ঠা করেন। 

শুরুর দিকে এলাকার মানুষ নানা কথা বললেও, এখন সবারই বেশ আগ্রহ তার এই খামারের প্রতি। এলাকায় এখন আর কেউ সাপ না মেরে তাকে খবর দেয়। তিনি গিয়ে সাপটি উদ্ধার করে খামারে নিয়ে আসেন। গ্রামের কারো বাড়িতে সাপ আছে, এমন সংবাদ পেলেই ছুটে যান তিনি ও তার অপর দুই সঙ্গী। পরে সেই বাড়ির বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তা সংগহ করে নিয়ে আসেন খামারে। 

খামারে আসে পাশে রোপণ করা হয়েছে সাপের খাদ্য সরবরাহের জন্য কলাগাছ। এর মাঝেই বাস করছে সাপের প্রধান খাদ্য ব্যাঙ। পোষা হচ্ছে কোয়েল পাখি। কোয়েলের ডিম সাপের খাবার হিসেবে রাখা হয়। 

স্থানীয়রা জানান, রাজাপুরে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সরকার যদি এই প্রকল্পে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তাহলে দেশের অর্থনীতি এবং ওষুধ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই খামার। এলাকাবাসীরা এই খামারকে এগিয়ে নিতে সরকারি সহযোগিতার দাবি জানাচ্ছেন।

বেসরকারি উদ্যোগে সাপের বাণিজ্যিক খামার স্থাপনের জন্য ২০টি শর্ত দিয়ে ২০০৮ সালের নভেম্বরে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করলেও কষ্টে উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে খামার মালিক যুবক সালাউদ্দিন শুরু করতে পারছেন না বিষ উৎপাদনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এখন শুধু তার অপেক্ষা বিষ উৎপাদন করার অনুমতি লাভের।

রাজাপুর কোবরা ভেনমের পরিচালক সালাউদ্দিন মৃধা দ্রুত তার খামারের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

ব্রেকিংনিউজ/এসএএফ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2