শিরোনাম:

বাবার মৃত্যুর পরেরদিনই বই-খাতা-কলম ফেলে...

মো.আবুল বশর নয়ন, বান্দরবান
২৯ জুন ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 11:47 আপডেট: 5:04
বাবার মৃত্যুর পরেরদিনই বই-খাতা-কলম ফেলে...

১১ বছর বয়সের সাইফুল ও ১৩ বছর বয়সের নীলুফা, আপন দুই ভাই-বোন। বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের সন্ধীপ পাড়ায়। বাবা মোঃ সেলিম, পেশায় ছাতা মেকানিক। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত রবিবার মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও চার সন্তান রেখে যান। পাঁচ সদস্যের সংসারে মৃত্যুর সময় একদানা চালও রেখে যেতে পারেননি সেলিম। শুধু রেখে গেছেন চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা অর্থের ঋণ।

তাই পরিবারে আর কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় বাধ্য হয়েই বাবার মৃত্যুর পরেরদিন সোমবার থেকে দুই ভাই-বোনকে শিক্ষা জীবন বাদ দিয়ে নেমে পড়তে হয়েছে জীবনযুদ্ধে। যে বয়সে বই খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, অথচ সে বয়সেই দুজনকে জীবিকার তাগিদে শিক্ষাজীবন থেকে ছুটি নিয়ে হাল ধরতে হয়েছে পৈতৃক পেশা ছাতা মেরামতের। আর এ কাজ থেকে উপার্জিত টাকা দিয়েই চলে বাবাবিহীন পাঁচ সদস্যের সংসার।

যে দিন উপার্জন না হয়, সেদিন চুলায় আগুন জ্বলে না। তখন ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করে পরিবারের সদস্যদেরকে অনাহারেই কাটাতে হয়। বাবা মারা যাওয়ার আগে সাইফুল ও নীলুফা কাটাপাহাড় নূরানী মাদরাসায় পড়তো। ছেলেটি হেফজখানায়।

নীলুফা বলেন, সারা দিন ছাতা মেরামত করে দেড়-থেকে দুইশ টাকা পাই। এ দিয়ে সংসার চলে না। তাও ভাগ্য ভালো, বাবা বেঁচে থাকতে মেকানিকের কাজটা শিখে নিয়েছিলাম। না হয়, না খেয়েই মরতে হত। এখন বাবার রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধ করবো নাকি পরিবারের সদস্যদের খাবার যোগাড় করবো। কিছু ভাবতে পারছি না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আজিজনগর ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন রানা জানান, শিশু দুটির সামনে গেলে তাদের অসহায়ত্ব ও করুণ দৃশ্য দেখে সকলের হৃদয় রীতিমত নাড়া দেবে। আসুন শিশু দুটিকে এ কাজ থেকে বের করে, পুনরায় শিক্ষাজীবনে যাবার ব্যবস্থা করে দিই। আর সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দিই তাদের পরিবারের প্রতি।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে যোগাযোগ করুন- মোঃ সাহাব উদ্দীন, মোবাইল নং- ০১৭০৮-০৭০৮৭৭, মোঃ ছাদেক, এডমিন, আজিজনগর ব্লাড ব্যাংক, মোবাইল- ০১৮২৭-৯৩৭৩৩২।

আজিনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন কোম্পানী বলেন, শিশু দুটির বাবা সেলিম মারা যাওয়ার আগেও চিকিৎসার জন্য সাহায্য সহযোগিতা করেছিলাম। বর্তমানে শিশু দুটি যেন পুনরায় পড়ালেখা করতে পারে, সে ব্যবস্থাসহ পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2