শিরোনাম:

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নতুন ৭ নাম

পরিবশে-পর্যটন ডেস্ক
২ জুলাই ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 6:20 আপডেট: 7:15
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নতুন ৭ নাম

জাতিসংঘের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো নতুন সাতটি বিশ্ব ঐতিহ্যের নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অবিশ্বাস্য সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আশ্চর্যজনক প্রত্নতাত্ত্বিক ভাণ্ডার, ঐতিহাসিক নগরের দৃশ্য।

নতুন ঘোষিত সাত বিশ্ব ঐতিহ্য হচ্ছে- ওমানের প্রাচীন প্রাচীর শহর কালহাত, কেনিয়ার থিমলিচ ওহিঙ্গা, দক্ষিণ কোরিয়ার পাহাড়ি মঠ, সৌদি আরবের আল আহসা মরূদ্যান, জাপানের প্রাচীন খ্রিস্টীয় গ্রাম, ভারতের মুম্বাইয়ের গোথিক ও আর্ট ডেকো ও ইরানের সাসানীয় যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

শুক্রবার বাহরাইনে ইউনেস্কোর ৪২ তম অধিবেশনে এসব নতুন নাম ঘোষণা করা হয়।

প্রাচীন বন্দর শহর ‘কালহাত’, ওমান
ওমানের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বন্দর নগরী কালহাত। একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর দিকে আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে প্রধান বন্দর হিসেবে গড়ে ওঠেছিল কালহাত। প্রাচীনকালে আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের সঙ্গে বাকি বিশ্বের সংযোগের একটি অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্য এই নগরী।



আল-আহসা মরূদ্যান, সৌদি আরব
আরব উপদ্বীপের পূর্বে অবস্থিত আল-আহসা মরূদ্যান। পুরো পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মরূদ্যান এটি। নবপ্রস্তরযুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত এখানে মানুষের বসবাস রয়েছে।


 
সেখানে রয়েছে, ২৫ লাখ খেজুর গাছ, বাগান, খাল, ঝর্ণা, কূপ, ঐতিহাসিক ভবন ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।
 
ইউনেস্কো এই মরূদ্যানটিকে বর্ণনা করেছে এভাবে: এটি মানুষের সঙ্গে পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ
 
প্রাচীন খ্রিষ্টীয় গ্রাম, নাগাসাকি, জাপান
জাপানের নাগাসাকির কিয়ুশু দ্বীপে মোট ১০টি গ্রাম, একটি প্রাসাদ, একটি বৃহৎ গির্জা রয়েছে। এগুলো আঠারো ও উনবিংশ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেসময় জাপানে খ্রিষ্টধর্ম চর্চা নিষিদ্ধ ছিল।


 
এই গ্রামগুলো জাপানে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক ও বসতি স্থাপনকারীদের শুরুর দিককার কর্মকাণ্ডের সাক্ষী ও খ্রিস্টানদের গোপনে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে তোলার অনন্য সাক্ষী।
 
গথিক ও আর্ট ডেকো স্থাপত্য: মুম্বাই, ভারত
উনবিংশ শতাব্দীতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের চক্রকেন্দ্রে পরিণত হয় মুম্বই। সেসময় মুম্বইকে বেশ বিলাসী একটি নগর পরিকল্পনা বানানোর প্রকল্প শুরু হয়। আবাসিক ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে জন্য নির্মাণ করা হয় অনন্য সব শোভামণ্ডিত ভবন।
 


ভিক্টোরিয়ান গথিক স্টাইলে এই সব সৌধ নির্মিত হয়েছিল সেগুলোতে ছিল বারান্দা, বেলকনি ইত্যাদি। আর আর্ট ডেকোগুলো নির্মাণ করা হয় বিংশ শতকে। আরব সাগরের তীর বরাবর যেন সারিবদ্ধ বাবে এই সব অট্টালিকা দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই এই জায়গাটিকে এক সময় এসপ্ল্যানেড বলা হত। মুম্বাই শহরে ৯৪টি সৌধ এই ধাঁচে তৈরি করা হয়েছে।  
 
এই ধাঁচের যে সব সৌধ আছে সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল বম্বে হাইকোর্ট, মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি সিভিল ও সেশনস কোর্ট, ইরস থিয়েটার, রাজাভাই ক্লক টাওয়ার, ওল্ড সেক্রেটারিয়েট, ইউনিভার্সিটি গ্রন্থাগার ও কনভেনশন হল, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট অফিস, ওয়াটসনস হোটেল, ডেভিড স্যাসন গ্রন্থাগার, এলফিস্টোন কলেজ প্রভৃতি।
 
পাহাড়ি মঠ, দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত সানসা পাহাড়ি মঠগুলো সপ্তম শতক থেকে ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্রে রয়েছে। সাতটি মন্দিরের রয়েছে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ, লেকচার হল, প্যাভিলিয়ন ও বৌদ্ধ কক্ষ। ইউনেস্কো এই স্থানগুলো পবিত্র স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছে।
 


সাসানীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ইরান
দুর্গের মত অবকাঠামো, প্রাসাদ, নগর পরিকল্পনাসহ ফার্স প্রদেশজুড়ে ৮টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার মিশ্রণ স্থান করে নিয়েছে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায়। এগুলোর কোন কোন স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল তৃতীয় থেকে পঞ্চম শতকের দিকে, সাসানীয় সাম্রাজ্যের সময়।
 


ইউনেস্কো বলেছে, প্রাকৃতিক ভূসংস্থানের সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার দেখা গেছে এখানে। একই সঙ্গে এখানে রয়েছে, রোমান চিত্রের প্রভাব এবং আখেমেনীয় ও পার্থীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ছোঁয়া।
 
শুষ্ক পাথরের তৈরি বসতি, কেনিয়া
কেনিয়ার থিমলিচ ওহিঙ্গা হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত শুষ্ক পাথরের তৈরি বসতি। দেশটির মিগোরি শহরের উত্তর-পশ্চিম দিকে এর অবস্থান।
 


ইউনেস্কো জানায়, শুষ্ক পাথরের তৈরি বসতিটি সম্ভবত ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত। বসতিটি স্থানীয় বাসিন্দা ও গবাদিপশুর জন্য ছিল দুর্গের মতো।
 
ইউনেস্কো বসতিটিকে, কেনিয়ার ভিক্টোরিয়া হ্রদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা প্রথম যাজকীয় সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের ব্যক্তিক্রমী উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি তালিকাভুক্তির সংযোজন পর্যালোচনা করার জন্য প্রতিবছর মিলিত হয়, যা ‘অসামান্য সার্বজনীন মান’ বলে বিবেচিত হবে। ২১টি দেশের প্রতিনিধিরা অপশনগুলি মূল্যায়ন করে থাকের।

১৯৭৮ সালে প্রথম তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইয়েলো স্টোন ন্যাশনাল পার্ক’ ও ইকুয়েডরের ‘গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

চার দশক পর ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্ট্যাটাস সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে দারুন জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

কমিটি ইউনেস্কোর ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকা থেকে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর, বেলিজ ব্যারিয়ার রিফ রিজার্ভ সিস্টেম বাদে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন

ব্রেকিংনিউজ/আরএ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2