শিরোনাম:

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে কবে?

মো. রুহুল আমীন
৪ জুলাই ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 9:21 আপডেট: 9:29
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে কবে?

অশান্তির আগুনে পুড়ছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এ অঞ্চলে শান্তি ফিরবে কবে?-এই প্রশ্ন আজকে বিশ্বের প্রতিটি শান্তিকামী মানুষের।  এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চলছে নানা উদ্যোগ। কিন্তু এর সবটাই লোক দেখানো নয়তো নিজেদের স্বার্থের জন্য।

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থের খেলা চলছে। তাদের স্বার্থের দ্বন্দ্বে প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন অগণিত মানুষ।  তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যেরই কয়েকটি দেশ। তারাও ইতোমধ্যে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন ধরনের জোট গঠনের মাধ্যমে এক দেশে আরেক দেশকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

পাখির মতো নিরীহ ফিলিস্তিদের গুলি করে মারছে দখলদার ইসরাইল। ইহুদিবাদী এই দেশটির কারণে ফিলিস্তিনিদের জীবনে মেনে এসেছে চরম দুর্ভোগ। তারা স্বাভাবিক জীবন-যাত্রায় পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নিজ দেশে তারা আজ অবরুদ্ধ। তাদের স্বাধীনভাবে ধর্ম-কর্ম পালনের অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হচ্ছে।

তাদের এই দুর্দশা থেকে মুক্তি লাভের আপাতত কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো আজকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরব ভূমিকা পালন করছে। উল্টো প্রকাশ্যে দখলদার ইহুদিদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সৌদি আরবসহ প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ।

ইসরাইলের মতো ফিলিস্তিনিদের অত্যাচারে যোগ দিয়েছে মিশরও। ফিলিস্তিনিরা যাতে স্বাধীনভাবে চলাচল করতে না পারে সেজন্য দেশটি তার বিভিন্ন সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের মুক্তির জন্য লড়াই করা হামাসকে দেশটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিহতের চেষ্টা চালাচ্ছে।

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সৌদিও। এটি বাস্তবায়নে ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে ওঠে এসেছে।  

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তার এই পরিকল্পনার বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে, তার কথিত ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ নিয়ে সন্দেহ দানা বাধছে। ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সফর করেছেন ট্রাম্পের জামাতা জেরাড কুশনার।

ধারণা করা হচ্ছে-এই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিকে দুটি অংশে ভাগ করে একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ করবে মিশর ও জর্ডান, অপরটির নিয়্ন্ত্রণ করবে ইসরাইল। এতে সৌদি আরব, মিশর, জর্ডানসহ আরও কয়েকটি দেশের সম্মতি রয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পেয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে-ফিলিস্তিনিরা কি আদৌ এই পরিকল্পনা মেনে নেবেন? ফিলিস্তিনিদের শরীরী ভাষা বলছে- তারা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অকাতরে জীবন দিতে প্রস্তুত আছেন, তবুও কোনও দুরভিসন্ধি পরিকল্পনা তারা মেনে নেবেন না। তার মানে হচ্ছে ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলের সংঘাত সহসাই শেষ হচ্ছে না।

এদিকে, সৌদির স্বার্থের দ্বন্দ্বে ধ্বংস হতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দারিদ্রপীড়িত দেশ ইয়েমেন। নিজেদের পছন্দের সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে গত তিন বছর ধরে দেশটি আগ্রাসন চালাচ্ছে দেশটি। ইতোমধ্যে দেশটিতে শিশুসহ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে এই সংঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে অবকাঠামো, ধ্বংস হয়ে গেছে স্কুল, আবাসিক প্রতিষ্ঠান।

এখানে সৌদির সঙ্গে যোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশ। অন্যদিকে, হুতিদের মদদ দিচ্ছে ইরান। কিন্তু এখানেও শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনও উদ্যোগ নেই। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো কেবল নিন্দা জানিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করছেন। দেশটিতে কবে শান্তি ফিরবে কেউ তা জানে না।

অন্যদিকে, সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে গৃহ যুদ্ধ চলছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সিরিয়ায়। যুদ্ধের কারণে এখানে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দেশ ত্যাগ করে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হয়েছেন দেশটির হাজার হাজার নাগরিক। বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সাগর পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পথে সাগরের পানিতেই ডুবে মরছেন তাদের অনেকে।

এখানেও শান্তি ফেরানোর কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এখানেও যুক্ত হয়েছেন বিশ্বের পরাশক্তিগুলো। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন যোগাচ্ছে রাশিয়া ও ইরান। অন্যদিকে, কয়েকটি ভাগে বিভক্ত বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে আমেরিকা, সৌদি, তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশ।

সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা আটকে গেছে রাশিয়া ও আমেরিকার ভেটোর কারণে। তারা নিজেদের স্বার্থের কারণেই এটিকে ঝুলিয়ে রেখেছেন। ফলে এখানেও আপাতত শান্তি প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না।

অন্যদিকে, সৌদি ও ইরানের পুরনো দ্বন্দ্ব নতুন করে আরও বেড়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দমিয়ে রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা আটছেন। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব কিছুই করে যাচ্ছে সৌদি। অন্যদিকে, ইরানও বসে নেই। এখানেও যুক্ত হয়েছে দুই পরাশক্তি-যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।

এছাড়াও, কাতারের সঙ্গে সৌদি জোটের দ্বন্দ্বের কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছে কয়েকটি দেশের জনগণ। এখানেও ফায়দা লুটছে লুটেরা শক্তিগুলো। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া আজ জটিল গোলক ধাঁধায় পড়ে গেছে। ফলে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আপাতত কোনও লক্ষণ নেই বললেই চলে।

লেখক: সাংবাদিক

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2