শিরোনাম:

জোট বেঁধেছে এডিএন এড্যু সার্ভিস ও অ্যাপটেক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 6:42 আপডেট: 6:55
জোট বেঁধেছে এডিএন এড্যু সার্ভিস ও অ্যাপটেক

কর্মোপযোগী প্রযুক্তি দক্ষ জনবল গড়তে জোট বেঁধেছে এডিএন এড্যু সার্ভিস ও অ্যাপটেক বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) বেসিস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এই যৌথ যাত্রার তথ্য তুলে ধরেন এডিএন এডু সার্ভিস ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কান্তি সরকার। 

এসময় অ্যাপটেক ইন্টারন্যাশানালের সিনিয়র ম্যানেজার সোমশুভ্র বকশী প্রযুক্তি দক্ষতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন।

স্বাগত বক্তব্যে তপন কান্তি সরকার বলেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশিত, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে মোট কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষ। বাকি ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ কর্মক্ষম তবে শ্রমশক্তির বাইরে। এর মধ্যে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত নারী-পরুষ আছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি কর্মউপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা (ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা অনুযায়ী) প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা যায় তাহলে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে অতি সহজে পৌঁছাতে পারব।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইটি ইন্ডাস্ট্রির এখন পর্যন্তকার সীমাবদ্ধ সফলতার সবচেয়ে বড় যে কারণ, তাহলো দক্ষ জনশক্তির প্রকট অভাব। আমাদের অনেক প্রোগ্রামার আছে, কিন্তু একটু গভীরে যাওয়ার মত লোক নেই। দক্ষ সিস্টেমস্ এনালিস্ট বা প্রোজেক্ট ম্যানেজার চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। দক্ষতা না থাকায় আমরা অনেক কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারি না। এর ফলশ্রুতিতেই বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের সফটওয়্যার আর সেবা নিয়ে ঢুকে পড়ছে।’ 

তপন বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি আমাদের দেশে একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে আমরা যত অগ্রসর হচ্ছি ততই নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এর থেকে উত্তরনের জন্য আমাদেরকে দক্ষ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে হবে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২০১২ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন ২২ লাখ কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। কিন্তু কাজ পায় মাত্র ৭ লাখ। বাকি ১৫ লাখ থাকে বেকার। 

এর মধ্যে উচ্চশিক্ষিত অর্থাৎ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যারা শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন তারাও রয়েছেন। প্রতি বছর এই ১৫ লাখ শ্রমশক্তি বেকারের সংখ্যা শুধু বাড়িয়েই চলেছে। এই বিপুল জনসংখ্যাকে যদি কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত করে যদি চাকুরির পেছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং বা উদ্যোক্তা হিসাবে তৈরি করা যায় তাহলে এই বিপুল জনগোষ্ঠী আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।

অ্যাপটেক ইন্টারন্যাশানালের সিনিয়র ম্যানেজার জনাব সোমশুভ্র বকশী বলেন, ‘এপটেক ইন্টারন্যাশানাল বিগত ৩১ বছর ধরে ৪০টিরও বেশী দেশে দক্ষ জনবল গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। এ্যাপটেক এর ট্রেনিং মেথডলজি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এ্যাপটেকের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সফট্ওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কিং, এরিনা মাল্টিমিডিয়া ও ইংলিশ লার্নিং-এ দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরীর উদ্দেশ্যে আমরা এডিএন এডু সার্ভিসেস এর মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছি।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এ্যাপটেকের বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হয়ে তরুণরা তাদের দক্ষতা বাড়াতে পারবে এবং দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে। আমরা অ্যাপটেকের কার্যক্রমকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে কাজ করে যাচ্ছি। এই কার্যক্রমে আগ্রহী ট্রেনিং ইন্সিটিটিউটগুলো আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে দক্ষ জনবল তৈরীতে তাদের অবদান রাখতে পারবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- এডিএন গ্রুপের চীফ ডিজিটাল বিজনেস ও মার্কেটিং অফিসার রুহুল্লাহ রায়হান আল-হুসাইন এবং এডিএন এডু সার্ভিসেস লিমিটেড এর বিজনেস প্রধান নুরুল আলম সোহেল প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/ইহক/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2