শিরোনাম:

সাহাবায়ে কেরামগণও স্বদেশকে মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন

ধর্ম ডেস্ক
৫ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 9:43 আপডেট: 10:16
সাহাবায়ে কেরামগণও স্বদেশকে মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন

ইসলামে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া হয়েছে। স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবোধের চেতনা থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর আগে রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনা নগরীতে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেছিলেন। ‘মদিনা সনদ’ নামে খ্যাত সংবিধানের ভিত্তিতে গড়ে তুলেছিলেন একটি কল্যাণ রাষ্ট্র। নবীজীর আদর্শে গড়া সাহাবায়ে কেরামগণও স্বদেশকে মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন। স্বদেশের প্রতি নিবেদিত ছিলেন।  

একবার হিজরতের পর মদিনায় হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত বেলাল (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তাদের মনে-প্রাণে স্বদেশ মক্কার স্মৃতিচিহ্ন জেগে উঠেছিল। তারা জন্মভূমি মক্কার দৃশ্যাবলি স্মরণ করে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। 

এ অবস্থায় নবী করিম (সা.) সাহাবিদের মনের এ দুরবস্থা দেখে প্রাণভরে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমরা মক্কাকে যেমন ভালোবাসি, তেমনি তার চেয়েও বেশি মদিনার ভালোবাসা আমাদের অন্তরে দান করুন।’

রাসুল (সা.) ও তার সঙ্গীরা নিবেদিত ছিলেন দেশপ্রেম ও দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষায়। ইসলামের আলোকে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধ মানুষকে স্বদেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌম রক্ষায় দেশপ্রেমিক নাগরিক নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। যুগে যুগে দেশপ্রেমিক নাগরিকরা নিজের সর্বস্ব দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন ও সুরক্ষার আন্দোলন করে গেছেন। 

বিশেষত যাদের ধর্ম ইসলাম, বিশ্বাসে যারা শেষ নবীর অনুসারী, তাদের কাছে দেশ ও জাতির জন্য আত্মত্যাগ ও বিসর্জনের দৃষ্টান্তে ইতিহাসের পাতা ভরপুর। নিজ দেশের ওপর আঘাত এলে আদর্শ ও বিশ্বাসের ধারকরাই সর্বপ্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। ইসলামের প্রেরণা যাদের ভেতরে কাজ করে তারা দেশ ও জাতির যে কোনো দুর্দিনে সর্বাত্মক বিসর্জনের মানসিকতা পোষণ করেন।

ইসলাম স্বাধীনতার প্রতি যেমন গুরুত্ব দিয়েছে তেমনি স্বাধীনতা সুরক্ষার প্রতিও রয়েছে ইসলামের জোরালো তাগিদ। দেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি সদস্যের ওপর স্বাধীনতা সুরক্ষার পবিত্র দায়িত্ব বর্তায়। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য যেমন একজন নাগরিকের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকবে, তেমনি রাষ্ট্রের ইমেজ যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয় সেদিকেও থাকবে তার সতর্ক দৃষ্টি। 

দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ থাকলেই কেবল একজন নাগরিক প্রকৃত অর্থে নাগরিকের মর্যাদা লাভ করতে পারে। তাই দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধে বলিষ্ঠ দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত করার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করা। দেশের জন্য কিছু করার মানসিকতা, দেশকে ভালোবাসা এবং ন্যায়যুদ্ধে দেশের জন্য আত্মত্যাগের শিক্ষাই দেয় মহান ইসলাম।

ইসলাম মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৈৗমত্ব রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই নয় বরং জোরালো তাগিদ দিয়েছে। আর ইসলামের অন্যতম লক্ষ হচ্ছে সমাজ থেকে অন্যায়ের মূলোৎপটন করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। জুলুম অত্যাচার বন্ধ করে মানুষের জন্য সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত স্বাধীন সমাজ বিনির্মাণ করা। 

কারণ পরাধীনতা শৃঙ্খল মানবজীবনে শোষণ, নির্যাতন, অন্যায়-অচিবার ও জুলুম অত্যাচারের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। তাই ইসলাম দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং তার সার্বভৌমত্বকে ধরে রাখতে জীবনদানকে শাহাদাতের মর্যাদা প্রদান করেছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) দেশের সীমানা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেয়া পৃথিবী ও তার মধ্যকার সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2