শিরোনাম:

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে এক চুল ত্রুটিও পাওয়া যায়নি: মন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ জুলাই ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 6:05 আপডেট: 6:07
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে এক চুল ত্রুটিও পাওয়া যায়নি: মন্ত্রী
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের গাজীপুর ভূ-উপগ্রহ থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আর এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের এক চুল ত্রুটিও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। 

রবিবার (৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমাদের জাতীয় গর্ব, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশের ঠিক জায়গায় আছে। বাংলাদেশর জন্য এই উপগ্রহটির সফলতা অনেকাংশেই জাতীয় গর্ব হিসেবে বিবেচিত হবে।’ 

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মত স্যাটেলাইট ব্যবহার করার জন্য নৌ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে গত ১১ মে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।

বাংলাদেশের গাজীপুর ভূ-উপগ্রহ থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ধরনের আরেকটি গ্রাউন্ড স্টেশন রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় স্থাপন করা হলেও সেটি গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ সরাসরি তদারকি করছে স্যাটেলাইটটি নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালস অ্যালেনিয়া স্পেসের বিজ্ঞানীরা। তারা এটিকে নিয়ে সফলভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাংলাদেশের হাতে এর দায়িত্ব তুলে দেবে।

গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় দুই দলে ভাগ হয়ে তারা কাজ করবেন। তাদের সহকারী হিসেবে পাশে থেকে সহায়তা করবেন বাংলাদেশের ১৮ তরুণ।

স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের ফলে আবহাওয়া নিয়ে আরও সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেয়া ছাড়াও দুর্গম এলাকায় টেলিযোগাযোগ সেবা নিয়ে যাওয়া, টেলিমেডিসিন সেবা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি টেলিভিশন সম্প্রসারে বিপ্লবের আশা করছে সরকার।

স্যাটেলাইটটিতে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ২০টি ব্যবহার করবে আর বাকিগুলো বিদেশের কাছে ভাড়া দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

বাংলাদেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এখন পর্যন্ত বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে চলছে। এই খাতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়। নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হওয়ায় এই মুদ্রা বেঁচে যাবে।

১৫ বছর মেয়াদী দেশের প্রথম স্যাটেলাইট প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় অর্ধেক সরকারি কোষাগার থেকে এবং বাকি টাকা বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি থেকে ঋণ হিসেবে নেয়া হয়েছে।

আগামী সাত বছরেই এই টাকা উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি আট বছরের টাকা পুরোটাই লাভ হবে বলে আশাবাদী সরকার।

২০৩৩ সালে এই স্যাটেলাইটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আরও একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়ে আগাম ঘোষণা আছে সরকারের।

ব্রেকিংনিউজ/ইহক/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2