শিরোনাম:

ব্রিটিশ মিডিয়াগুলোকে তুলোধুনো করলেন মডরিচ

স্পোর্টস ডেস্ক
১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 3:55 আপডেট: 3:59
ব্রিটিশ মিডিয়াগুলোকে তুলোধুনো করলেন মডরিচ

প্রতিবারই বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে দিতো ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো। যেন তারা হারলেও বিশ্বকাপ জিতবে! কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে এবার ‘থ্রি লায়ন’দের নিয়ে একটু চুপই ছিল ব্রিটিশ মিডিয়াগুলো। অবশ্য সে আর কতক্ষণ! ইংল্যান্ড দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার পরই সেই চেনা রূপে ফিরলো দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। একের পর এক তোষামোদী প্রতিবেদনে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে হেয় প্রতিপন্ন করতে থাকলো। সঙ্গে ‍ফাইনালের আগেই ফাইনালে টেনে তুলতে লাগলো ইংল্যান্ডকেও। 

ব্রিটিশ মিডিয়াগুলোর এমন বাড়াবাড়ি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে। যেখানে মিডিয়াগুলো দাবি করে- ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয় রাউন্ড ও কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে জিতে সেমিতে উঠেছে। ওরা ক্লান্ত! ওরা আর পারছে না!

কথাগুলো যেন তীরের মতো একে বুকে বিঁধলো ক্রোয়াট অধিনায়ক লকু মডরিচের। তবে অপেক্ষা ছিল উচিত সময়ের। সেই সময় এলো বুধবার রাতে। যখন কিনা ক্রোয়েশিয়া ইংল্যান্ডকে হারিয়ে উঠে গেল ফাইনালে, আর ইংলিশরা রাশিয়া থেকে তলপিতলপা গুটিয়ে ধরলো বাড়ির পথের বিমান।  

মডরিচও এই সুযোগে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোকে একেবারে ধুয়ে দিয়েছেন। প্রতিপক্ষের প্রতি যে আরও সহনশীল, বিনয়ী ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিৎ ব্রিটিশ মিডিয়াগুলোকে সেই পরামর্শও দিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার ৩২ বছর বয়সী এই অধিনায়ক।

ব্রিটিশ ফুটবলপণ্ডিতেরা সেমিফাইনালের আগে মদরিচ-রাকিটিচদের ‘ক্লান্ত’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচটি টাইব্রেকারে না গড়ালে গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। যেখানে পিছিয়ে থেকেও দারুণভাবে কামব্যাক করেছে ক্রোয়াটরা। প্রথমার্ধে নিজের ছায়া হয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকই পাখির মতো খোলস ভেঙে বেরিয়ে এসে নিজেকে চিনিয়েছেন মডরিচ। 

বেইন স্পোর্টস’কে রিয়াল মাদ্রিদের ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার মডরিচ বলেন, ‘এই (সেমিফাইনাল) ম্যাচের আগে তাদের সাংবাদিক ও টিভি-পণ্ডিতেরা আমাদের ক্লান্ত বলেছে। যেন খাটতে খাটতে শেষ! এ কথাগুলোই আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছে ওদের ভুল প্রমাণ করতে। তাদের উচিত আরেকটু বিনয়ী ও শ্রদ্ধাশীল (প্রতিপক্ষের প্রতি) হওয়া।’   

ব্রিটিশ মিডিয়াগুলোকে খোঁচা মেরে মডরিচ আরও বলেন, ‘সেমিফাইনালে ক্লান্ত হওয়া অসম্ভব ব্যাপার। কারণ, এটা কোন পর্যায়ের ম্যাচ, সবাই বোঝে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউ আমাদের গোণায় ধরেনি। কিন্তু দলীয় সংহতি, লড়াই করার ইচ্ছা আর যোগ্যতা দিয়েই আমরা ফাইনালে উঠেছি। এটা আমাদের প্রাপ্য ছিল।’

উল্লেখ্য, স্বাধীন দেশ হিসেবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেই প্রথমবার খেলতে এসে বাজিমাত করেছিল ক্রোয়েশিয়া। সেবার সেমিফাইল খেলেছিল মডরিচ-রাকিটিচদের পূর্বসূরিরা। দীর্ঘ ২০ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে ‍প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে নাম লিখালো দেশটি। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2