শিরোনাম:

বিলবোর্ডে ম্লান খুলনার সৌন্দর্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, খুলনা
১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 6:58 আপডেট: 8:13
বিলবোর্ডে ম্লান খুলনার সৌন্দর্য

বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে খুলনা মহানগরী। লাখো বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে সর্বত্র। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) তালিকায় বৈধভাবে বিলবোর্ড রয়েছে মাত্র ৩০০ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের। বাকি সবই অবৈধ বলে দাবি কেসিসির। সবমিলিয়ে বিলবোর্ডের খাত থেকে প্রতিবছর রাজস্ব আদায় হয় দেড়কোটি টাকার মত। অথচ পূর্ণাঙ্গভাবে রাজস্ব আদায় সম্ভব হলে আয় হতো ৫ কোটি টাকার উপরে। 

খুলনা মহানগরীতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্য বর্ধনে স্থাপন করা হয় নানান স্থাপনা। এ সকল স্থাপনা এখন রাজনৈতিক নেতাদের ঈদ শুভেচ্ছাসহ শীর্ষ নেতাদের পক্ষে শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানিয়ে টাঙানো বিল বোর্ড আর পোস্টারে ছেয়ে গেছে। এসবের সিংহভাগই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অজানা সংগঠনের নামেও টাঙানো হয় বিলবোর্ড, ব্যানার। এরসঙ্গেই যুক্ত হয়েছে দেয়াল লিখন ও পোস্টার। 

আর এসবের কারণে সৌন্দর্য হারিয়েছে পরিপাটি ও দৃষ্টিনন্দন খুলনা নগরী। শুধু নগরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হাজার হাজার রাজনৈতিক বিলবোর্ডই-ব্যানার। এছাড়া রয়েছে কোচিং সেন্টার, কিন্টারগার্ডেন স্কুলের ব্যানার, প্যানা, পোস্টার ও দেয়াল লিখন। অনেকটা বিলবোর্ড আকার দিয়ে শক্ত বাঁশের কাঠামোতে নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টাঙানো রয়েছে এসব। 

সিটি কর্পোরেশনের মডেল ট্যাক্স সিডিউল অনুযায়ী, প্রতি বর্গফুট বিলবোর্ডের জন্য ধার্য্য কর বার্ষিক আলোকসজ্জা ব্যতিত দেড়শ টাকা। আর আলোকসজ্জাসহ প্রতি বর্গফুট বিলবোর্ডের জন্য বার্ষিক কর ধার্য করা হয়েছে ৩০০ টাকা। ব্যানার, পোস্টার, দেয়াল লিখন ও ফেস্টুনেও নির্ধারিত মেয়াদে নির্দিষ্ট পরিমাণের কর ধার্য রয়েছে। বিধি অনুযায়ী অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুনগুলোর ওপর কর আরোপ করা গেলে রাজস্ব বাড়তো আরও কয়েক গুণ। কেসিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজনৈতিক কারণেই অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদে যেতে পারছে না নগর সংস্থা। এতে প্রতি বছরই মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। কেসিসির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে অনুমোদিত বিলবোর্ড রয়েছে ৩০০টি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের। 

তবে অবৈধ বিলবোর্ড-ব্যানার অপসারণে বড় ধরনের অভিযানে নামার কথা জানিয়েছেন কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স কর্মকর্তা  এ.কে.এম. তাছাদুজ্জান। তিনি বলেন, অবৈধ ব্যানার-বিলবোর্ডের পুরোটাই রাজনৈতিক ও কোচিং সেন্টার, ডাক্তারখানা, স্কুলের প্রচার। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ বিলবোর্ড, প্যানা, ব্যানার অপসারণ করা হয়। এরপর ঈদের আগে আবারো শুভেচ্ছা জানিয়ে যত্রতত্র বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার, প্যানা ও পোস্টার লাগানো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে কর ধার্য করে কর আদায় করা হবে। তাছাড়া অবৈধ বিলবোর্ড অচিরেই উচ্ছেদ করা হবে। নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই চালানো হবে এ অভিযান।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএইচ/এসএএফ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2