শিরোনাম:

পাহাড় ধস নতুন আতঙ্কের নাম: ত্রাণমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 10:36 আপডেট: 10:37
পাহাড় ধস নতুন আতঙ্কের নাম: ত্রাণমন্ত্রী

বাংলাদেশে পাহাড় ধসকে একটি নতুন আতঙ্ক ও নতুন দুর্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন, পাহাড় সৌন্দর্যের প্রতীক। এর সবুজময় সৌন্দর্য ও আঁকাবাঁকা বয়ে যাওয়া নদী আমাদের মোহিত করে। কিন্তু পাহাড়ের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে মৃত্যুর শংকা। এর কিছুটা মনুষ্য সৃষ্টি, কিছুটা প্রকৃতিগত।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর পুরকৌশল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, শুধু ২০১৭ সালে বাংলাদেশে পাহাড় ধসে ১৬৬ জন লোক মারা গেছেন। এর মধ্যে রাঙামাটি জেলায় মারা গেছে ১২০ জন মানুষ। এই সময় ২২৭ জন আহত হয়েছে। ৩ হাজার ৭৫০ বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৩৬ হাজার ৬৩৭টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বছর জুন পর্যন্ত মারা গেছে ২৭ জন মানুষ। পার্বত্য ৩টি জেলার আয়তন ১৩ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার। এ অঞ্চলে লোকসংখ্যা প্রায় ১৬ লক্ষ। এ এলাকার কত অংশ ভূমি মানুয়ের বসবাসের উপযোগী সেটা জরিপের অবকাশ রয়েছে। অপরিকল্পিত শহরায়নের ফলে দরিদ্র সহায়সম্বল ও ভিটেমাটিহীন মানুষেরা বাধ্য হয়েই এখানে বসবাস করছে।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড় ধস রোধে যেকোনও মূল্যে ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড় ধসের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অনেকগুলো পদক্ষে নেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের পাহাড় ধসের পর স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী রেডক্রিসেন্ট ,জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্থরের মানুষ উদ্ধার কাজে নেমে ২,৩০০ জনকে উদ্ধার করেছে। এই উদ্ধার কাজে ২ জন সেনা কর্মকর্তা এবং ৩ জন সৈনিক নিহত হয়েছেন।

মায়া আরও জানান, পাহাড় ধস রোধে কি করা যায় তা জানতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২৭ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি সুপারিশসহ তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আমি মনে করি যেকোনও ভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। এটা করলে পাহাড় ধস এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করা যাবে।

সেমিনারে আইইবি প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, ভূমিধসের কারণে প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১০ সারাদেশে ১৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ২০১৭ সালে এসে এ সংখ্যাটি ৪২ হাজার জন। সাত বছরে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা পঁচিশ হাজার বেড়ে গেছে। এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। প্রকৌশলীরা সরকারের হাতে হাত রেখে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও নির্বাচিত করতে হবে।

আইইবির পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের সদস্য ড. আবদুল জব্বার খাঁন।

ব্রেকিংনিউজ/ আরএইচ/আরএ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2