শিরোনাম:

বিটিবির বিজ্ঞাপনে সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

নিউজ ডেস্ক
২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 6:44 আপডেট: 6:52
বিটিবির বিজ্ঞাপনে সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

‘বাংলাদেশে বর্তমানে কোনও ফকির-মিসকিন নেই’ শীর্ষক তথ্য মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিবি) সম্প্রতি প্রচারিত  একটি প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপন নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিজস্ব ফেসবুক পেজে ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপনের শুরুতেই দেখা যায় হামিদ নামে এক ব্যক্তি গ্রামের রাস্তা দিয়ে প্রাণপণে ছুটছেন এবং তাকে পেছন থেকে তাড়া করছেন গ্রামের একদল নারী পুরুষ। সেই গ্রামেরই এক প্রবীণ ব্যক্তি দুই পক্ষের পথরোধ করে এই তাড়া করার কারণ জানতে চান।

এসময় এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গ্রামের আরেক ব্যক্তি জহির তার প্রয়াত বাবা মায়ের স্মরণে ফকির মিসকিন খাওয়াতে চান। এজন্য তিনি হামিদকে পাঠিয়েছেন তাদেরকে দাওয়াত করতে। এতে তারা অপমানিত হয়েছেন।

ওই নারী বলেন, ‘আমরা কি ফকির মিসকিন নাকি?’

পরে ভিড় থেকে আরেক ব্যক্তি জানান, তারা আগে ফকির মিসকিন থাকলেও এখন আর নেই। এখন তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষ। সরকার তাদের ঘর, বিদ্যুৎ সংযোগ, জায়গা জমি, পুকুর দেয়ার পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়া সেইসঙ্গে উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

এতে একটি সংলাপে বলা হয়, ‘আমরা গরিব হইতে পারি, কিন্তু ফকির মিসকিন না। এইদেশে ফকির মিসকিন খুঁজতে আহে। বাংলাদেশ আর সেই দেশ নাই।’

বিজ্ঞাপনটির বিষয়বস্তু নিয়ে এরইমধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করতেও বাদ রাখেননি।

এরইমধ্যে এর ভিউয়ার সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে। শেয়ার হয়েছে সাত হাজার বার। এছাড়া কমেন্ট পড়েছে এক হাজারেরও বেশি। তবে বেশিরভাগ কমেন্টেই এই বিজ্ঞাপনের দাবির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন ইউজাররা।

রাফিউল ইসলাম তার কমেন্টে বলেন, ‘বাংলাদেশে ফকির মিসকিন নাই তাহলে কুরবানির চামড়ার টাকা দিলাম কাকে? ফকির মিসকিনের অংশটা নিলো কারা?’

মারলিন নামে এক ইউজার বলেন, ‘নাই তো একেবারেই নাই, তাই তো ইফতারি নিতে গিয়ে চাপা পড়ে মরে, মাংস নিতে লাইন দিয়ে মারামারি করে মরে।’

তাহমিদুল ইসলাম লিখেছেন, ‘আজকে মসজিদের সামনে যাদের দেখলাম তারা কারা? আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে ভিক্ষা করতে আসছে?’

মোহাম্মদ মুন্না নামে একজন বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয় এটা কেমন ভিডিও তৈরি করলো, যার কোনও সার্থকতা নেই। সরকার ফকির মিসকিন দূর করার জন্য কাজের প্রকল্প হাতে নিলেও তা সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না বলে এখনও হাজার হাজার ফকির মিসকিন আছে।’

মোরশেদ আলম নামে একজন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে বলেন, ‘সাইকেল চালাচ্ছিলাম, ভিডিওটা দেখে খাদে পড়ে গেলাম। উদ্ধারকারীরা আমাকে উদ্ধার করতে এসে ভিডিওটা দেখল। তারাও হাসতে হাসতে খাদে পড়ে গেল।’

সাইদুল ইসলাম নীরব লিখেছেন, ‘ভিডিওটা দেখে আমি বেহুশ হয়ে ছিলাম দুই ঘণ্টা। পরে অনেক কষ্টে কাঁপা কাঁপা হাতে একটি হাহা বিয়্যাক্ট দিলাম। এখন আমি আগের চাইতে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছি।’


ব্রেকিংনিউজ/আরএ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2