শিরোনাম:

স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার ১৫ কৌশল

শিক্ষা ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 8:48 আপডেট: 3:13
স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার ১৫ কৌশল

এইচএসসি পরীক্ষা পাসের পর প্রতিটি মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার। কিন্তু মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশলের অভাবে অনেকেই সেই সুযোগ পায় না। এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী আরমান হাসান। জেনে নেওয়া যাক তার টিপসগুলো। 

প্রিয় ভর্তি পরিক্ষার্থী বন্ধুরা,ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন চলছে? নিশ্চয় ভাল। বুঝতেই পারছো হাতে আর বেশি দিন সময় নেই। দেখতে দেখতে তোমাদের ভর্তি পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসতেছে। এখন শুধু রিভিশনের সময়। চিন্তার কারণ নেই।পরিশ্রম করলে ফল অবশ্যই পাবে।

ইতিমধ্যেই প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্কুলার দিয়ে দিয়েছে। অনেকেই অনেক ভালো প্রস্তুতি নিয়েছো। তবে তোমাদের মনে রাখতে হবে ভর্তি পরীক্ষা শুধু ভর্তি পরীক্ষা না, এটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র...

এক আসনের পেছনে ১০০ জন লড়ে। তোমাকে টিকতে হলে এই ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনকে পিছনে ফেলতে হবে।সুতরাং বুঝতেই পারছো কতটা কঠিন সময় আসতেছে তোমাদের সামনে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পরীক্ষা দেয় তারা সবাই মেধাবী। ভর্তি পরীক্ষার জন্য শুধু মেধাবী হলেই হবেনা, মেধার পাশাপাশি তোমাকে কৌশলীও হতে হবে। মনে রেখো, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবীরা পরীক্ষা দিলেও সকল মেধাবী চান্স পাবে না, চান্স পাবে কৌশলীরা।

আমি তোমাদের আজ সেই কৌশলগুলো সম্পর্কে বলব। এখন দেখে নেওয়া যাক কৌশল গুলো কী কী।

১.কোচিং থেকে যেসব সিট দিয়েছে তা ভালো করে শেষ করতে হবে।

২.মডেল টেস্ট নিজে নিজে সমাধান করতে না পারলে উত্তর দেখে বুঝে বুঝে সমাধান করবে। যেগুলি একেবারেই পারবে না বা কনফিউশনে থাকবে সেগুলো এড়িয়ে চলবে। সেগুলির পিছনে অযথা মূল্যবান সময় নষ্ট করার দরকার নেই। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন আহামরি কঠিন কিছু করে না। 

৩.যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিবে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভিয়াস ইয়ারের প্রশ্ন ব্যাংক থেকে প্রশ্ন সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা নিতে হবে এবং এগুলো থেকে বেশি বেশি করে প্রশ্ন সলভ করতে হবে। 

৪.ঢাবি,জবি,জাবি,রাবি ও চবির প্রশ্ন ব্যাংক ব্যাখ্যা সহ অবশ্যই শেষ করতে হবে।

৫.প্রতিদিন বাসায় মডেল প্রশ্ন থেকে নিজে টাইম ধরে ধরে পরীক্ষা দিতে হবে।

৬.পরীক্ষার আগের দিন সব সিটে একবার করে হলেও চোখ বুলিয়ে নিবে। তাতে অনেক আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

৭. তুমি কতোক্ষণ পড়েছো এটা বিষয় নয়, এই সময়ের মাঝে কী কী পড়ছো এটাই মূল বিষয়।

৮. যে সিরিজের বই কিনো না কেন, সেই সিরিজের চ্যাপ্টারওয়াইজ যা আছে+শর্টকাট টেকনিক এগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভাল করে পড়ে শেষ করে ফেলবে।

৯. তোমাদের যেসক ভাই আপুরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাদের কাছে বেশি বেশি পরামর্শ নিবে।

১০. কোচিংয়ের মডেল টেস্ট গুলো ভালোভাবে পড়ে প্রিপারেশন নিতে হবে। বারবার সেগুলো পড়বে।

১১.শরীরের প্রতি যত্ন নিতে হবে। যতদূর সম্ভব রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। কারণ এখন অসুখ হলে অনেক সময় চলে যাবে। এখন তোমার কাছে একটা মিনিটের মূল্য অত্যধিক।

১২.আর যতদূর সম্ভব বেশি ভার্সিটিতে ফর্ম তুলে রাখো,কনফিডেন্ট যত বেশিই হোক না কেন,প্রথম পরীক্ষার ফলাফল এর পরই এটা বুঝতে পারবে।

১৩. ঘুম থেকে সকাল সকাল উঠে পরবে, পারলে শেষ রাতে উঠে পড়তে বসবে। কারণ শেষ রাতে তাড়াতাড়ি পড়া মুখস্ত হয়।

১৪. সকালে নামাজ পড়বে, অর্থাৎ যার যার ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করবে। প্রার্থনা করলে মন ভালো থাকে।

১৫. আর সবসময় আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখো।

এইসব ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ভাগ্যও লাগে। উপরের ধাপগুলো যদি সফল ভাবে শেষ করতে পারো আর ভাগ্যও যদি সহায় হয়, তাহলে বিশ্বাস রাখো যে তুমি তোমার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবে।

আর তাছাড়া তুমি যদি মনে করো উপরের ধাপগুলো অনুসরণ না করেও তুমি তোমার নিজের মত করে ভালো প্রস্তুতি নিতে পারবে, তাহলে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে পারো।কারণ প্রতিটা মানুষের আলাদা একটি বৈশিষ্ঠ্য থাকে আর সে সেভাবেই তার পড়াগুলি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারে।

সর্বোপরি, তোমাদের সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করি যাতে তোমরা তোমাদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাও। আর আমার জন্যও তোমাদের কাছে দোয়া চাই।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/আরএ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2