শিরোনাম:

আনোয়ার হোসেন ও একজন মুকুটহীন নবাব

বিনোদন ডেস্ক
১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 5:22 আপডেট: 6:48
আনোয়ার হোসেন ও একজন মুকুটহীন নবাব

আড়াইশো বছরেরও বেশি সময় আগে পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লা’র পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষে শাসন-শোষণের ঘাঁটি গেড়েছিল ব্রিটিশরা। এর পর দুশো বছরের ইংরেজ শাসন ভারতবাসীকে যেমন আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বিপরীতে রাজত্ব পাকাপোক্ত করতে ভারতভূমে সাম্প্রদায়িকতা বীজও বুনেছিল লর্ড ক্লাইভরা। 

সিরাজের সেই অকুতোভয় অভিযান ও তার পতনের পটভূমি নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে ‘নবাব সিরাজদৌল্লা’ নামে কালজয়ী ছবি নির্মিত হয়। এই ছবিতে নবাব চরিত্রে অভিনয় করে বঙ্গবাসীর হৃদয়ে মুকুটহীন নবাব বনে গিয়েছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেন। তাঁর সেই তেজদীপ্ত অভিনয় আজও বাংলা ছবির দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে।    

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, বরেণ্য অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৩ সালের এই দিনে তিনি না-ফেরার দেশে চলে যান। 

৬০-এর দশকে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ ছবিতে একটি ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করেন আনোয়ার হোসেন। এরপর সালাহউদ্দিন পরিচালিত ‘সূর্যস্নান’ ছবিতে প্রথমবারের মতো নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৮টি ছবিতে কাজ করেন তিনি। 

তবে ১৯৬৭ সালে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ছবিতে নবাবের চরিত্রে অভিনয় করে পান ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি। সিরাজের দেশপ্রেমের যন্ত্রণা দর্শকদের মনে জাগিয়ে দিতে পেরেছেন বলে ছবিটি প্রশংসিত হয়। 

আনোয়ার হোসেন একাধানে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাহিত্যনির্ভর, শিশুতোষ, লোককাহিনিভিত্তিক, পোশাকি ফ্যান্টাসি, পরিচ্ছন্ন সামাজিক, পারিবারিক মেলোড্রামা, বক্তব্যধর্মী—সব ধরনের ছবিতে অভিনয় করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। 

১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার মুরুলিয়া গ্রামের মিয়াবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছেন আনোয়ার হোসেন। বাবা এ কে এম নাজির হোসেন ছিলেন জেলা সাব-রেজিস্ট্রার। ১৯৪০ সালে দেওয়ানগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন এবং স্কুলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হন তিনি। ১৯৫১ সালে জামালপুর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ময়মনসিংহ কলেজে ভর্তি হন। 

কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রাবস্থায় আসকর ইবনে সাইখের পদক্ষেপ নাটকে অভিনয় করার পর থেকে নাটকের প্রতি দুর্বার আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বাবার বন্ধু আবদুল্লাহ খানের ‘সেলকন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ফার্মে সুপারভাইজারের চাকরি নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ১৯৫৯ সালে ননী দাসের পরিচালনায় এক টুকরো জমি নাটকে অভিনয় করেন। ঢাকা বেতারে অডিশন দিয়ে নির্বাচিত হয়ে হাতেম তাই নাটকে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। 

এসময়গুলোতে মঞ্চনাটকে অভিনয় করতে গিয়ে পরিচয় হয় আবদুল জব্বার খান, মোহাম্মদ আনিস, হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। ‘ঝিনুক’ পত্রিকার সম্পাদক আসিরুদ্দিনের সহযোগিতায় মিনার্ভা থিয়েটার গঠন করেন। মিনার্ভা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন সৈয়দ হাসান ইমাম, ফতেহ লোহানী, মেহফুজ, সুভাষ দত্ত, চিত্রা সিনহাসহ অনেকেই। 

আনোয়ার হোসেন ১৯৭৫ সালে লাঠিয়াল ছবিতে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে প্রথমবারের মত আয়োজিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে একুশে পদক প্রদান করা হয় এবং অভিনেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার লাভ করেন। পারিবারিক জীবনে স্ত্রী নাছিমা খানম ও তার চার ছেলে রয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2