আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে কৃষকদের জমি দখলের অভিযোগ

নাটোর প্রতিনিধি
৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ১২:২৫

আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে কৃষকদের জমি দখলের অভিযোগ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন ভুট্টুর বিরুদ্ধে বৃচাপিলা গ্রামের স্থানীয় নয় কৃষক পরিবারের ১৬ বিঘা তিন ফসলি জমি জোরপূবর্ক দখলে নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প করার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জমিতে থাকা ৩০০ কলাগাছ কেটে এবং পাঁচ বিঘা জমির পাকা ধান কাটতে না দিয়ে তার উপরে বালি ফেলে দখল নিচ্ছেন।

মামলা-হামলার হুমকিতে প্রতিবাদও করতে পারছেনা কৃষকরা। শেষ সম্বল চাষাবাদের জমিটুকু হারানোর ফলে এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের মাঝে চলছে বোবা কাঁন্না। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বলছে, এটা এক নম্বর খাস খতিয়ানের জায়গা। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ভুক্তভোগী কৃষক ও জমির মালিকরা অভিযোগ করে জানান, “উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের বৃচাপিলা গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দীন, মেজবান হোসেন, আব্দুল জলিল, নূরুল ইসলাম, নান্নু মিয়া, কাজিম উদ্দীন, আব্দুর রশীদ ও আব্দুর রাজ্জাক ১৯৭৪ সালে স্থানীয় দিনু রায়,
মিনু রায়, প্রাণবন্ধু, সুদেন রায়ের কাছ থেকে দলিল মূল্যে ১৬ বিঘা তিন ফসলি জমি ক্রয় করে চাষাবাদ করে আসছিলেন। খাজনা খারিজও করেছেন তারা। হঠাৎ জমিটির দখল ছেড়ে দেয়ার চাপ দেন চেয়ারম্যান।”

“কৃষকরা জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আশ্রয়ণ প্রকল্প করার নামে তাদের জমিতে বালু ভরাট শুরু করেন চেয়ারম্যান। ইতোমধ্যে পাইপ লাগিয়ে বালি ফেলা হয়েছে। কয়েকজন কৃষককে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন চেয়ারম্যান।”

সরেজমিনে গেলে এ ব্যাপারে এলাকাবাসী মুখ খুলতে চাননি। ক্ষতিগ্রস্থরা শুধু বলেছেন, “কৃষকের লাগানো পাকা ধানের জমিতে ফসলের উপর ড্রেজার পাইপ দিয়ে ৮-১০ ফুট উচু করে বালু ফেলা হচ্ছে।”

বৃচাপিলা গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দীন বলেন,“ আমার ৯২ শতাংশ ফসলি জমিতে জোর করে বালু ভরাট করা হচ্ছে। বাধা দিলে চেয়ারম্যানের লোকেরা হুমকি দেয়।” প্রতিবন্ধী কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “আমাদের পাঁচ বিঘা জমিতে থাকা পাকা ধান কাটতে দেয়া হয়নি। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কথা বলছে না।” আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার অনুরোধ জানান তিনি।

চেয়ারম্যান ভুট্টু বলেন, “তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ জমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছিল। তারা অন্যদের কাছে লিজ দেয়ায় তাদের বন্দোবস্ত বাতিল হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে এখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে।”

স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “কৃষকদের ফসলি জমি অবৈধভাবে দখল করার ক্ষমতা কারো নেই। এটা খাসজমি। এখানে সরকার দুইশ পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করছে।”

এ ব্যাপারে গুরুদাসপুরের এসিল্যান্ড নাহিদ হাসান খান, ইউএনও মো. তমাল হোসেন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়াজ বলেন, “জায়গাটি সরকারের। ২০১৩ সালে বরাদ্দ বাতিল হওয়ায় সেখানে আশ্রয়ন প্রকল্প শুরু হয়েছে। এখানে দখলের কিছু নেই।”

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি