নামেই পৌরসভা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হারাগাছবাসী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০১:৪৫

breakingnews

রংপুর নগরীর সন্নিকটে হারাগাছ পৌরসভা গঠিত হয়েছিল দীর্ঘ ৩১ বছর আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পৌরবাসীর উন্নয়নের আশা পূরণ হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রীর নিজ নির্বাচনী এলাকা ও সরকার দলীয় মেয়র থাকলেও ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিতই রয়ে গেছেন পৌরবাসী। নামে পৌরসভা হলেও এখানকার বেশির ভাগ সড়কই কাঁচা ও ভাঙাচোরা। নেই সুপেয় পানির সুবিধাটুকু, নেই ফুটপাত, একাধিক এলাকায় নেই ময়লা ফেলার স্থান। পৌর এলাকার কিছু সড়কবাতি থাকলেও তা জ্বলে না।
 
পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌরসভা শহরে সড়ক আছে ৮১ কিলোমিটার। এরমধ্যে পাকা রাস্তা ৩৯ কিলোমিটার, আধা পাকা ১১ কিলোমিটার ও কাঁচা রাস্তা ৩১ কিলোমিটার। এ ছাড়া পাকা ড্রেন রয়েছে ১৮ কিলোমিটারের, আধা পাকা ১৭ কিলোমিটারের। পাকা সড়কের প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া পৌরভবনটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায় সবকক্ষের ছাদের প্রস্তর খসে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে অফিসের কার্যক্রম চলছে। 

বর্তমানে ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে এখানে পাকা রাস্তা, বিশুদ্ধ পানি, ড্রেনেজ, সড়কবাতি, পয়ানিষ্কাশনের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থাকার কথা। কিন্তু এখানে এগুলোর তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। 

পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর কাঙ্খিত উন্নয়ন না পাওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। তাদেরই একজন হকবাজার বাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তোতা মিয়া ও ফরিদ আলম। তারা বলেন, এলাকায় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকে ময়লা আর্বজনা। নেই কোনো ডাস্টবিন। গ্রামগুলোতে দুর্গন্ধে টেকা দায়। পৌরসভা হওয়ার পর এলাকার মানুষেরা ভেবেছিলেন উন্নয়ন হবে। দীর্ঘ একত্রিশ বছর পেরিয়ে গেছে। পৌরসভা থেকে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। ভবিষ্যতে আদৌ হবে কি না, সন্দেহ আছে। 

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ১ হতে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ২৯টি পাকা রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন পাথর ও খোয়া উঠে গেছে। কোনো কোনো স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা আবর্জনায় ড্রেনগুলো ভর্তি হয়ে পড়ে আছে।  এছাড়া হাট-বাজরের রাস্তার ওপর অপরিকল্পিত গড়ে উঠেছে দোকানপাট, ফলে রাস্তার প্রশস্ততা কমে আসছে। পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো রিকশা স্ট্যান্ড না থাকায় রাস্তার ওপরে রিকশা-ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকায় নিত্যদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও লাইসেন্সবিহীন রিকশা চলছে অবাধে। প্রধান সড়ক ছাড়া অধিকাংশ রাস্তায় নেই সড়ক বাতি। সন্ধ্যা নামলেই অধিকাংশ এলাকায় ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করে। সাপ্লাইয়ের পানির সুবিধা পায়নি এ পৌরবাসী। খেলাধুলার জন্য নেই কোনো মাঠ। চিত্তবিনোদনের জন্য নেই কোনো অডিটোরিয়াম, পাবলিক লাইব্রেরি ও পার্ক। 

৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লিটু মিয়া বলেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রথম মেয়র আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার সময়ে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। এরপর আর কোন তেমন উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে বাণিজ্যমন্ত্রীর নিজ নির্বাচনী এলাকা ও সরকার দলীয় মেয়র থাকলেও পৌরসভার তেমন উন্নয়ন নেই। যেন পৌরসভার মানুষেরা আলোর নিচে অন্ধকারে বসবাস করেছে।

২ নম্বর ওয়ার্ডের জলিল মিয়া, আনারুল ইসলাম বলেন, এটি নামেই পৌরসভা। এখানে রাস্তাঘাটের কোনো উন্নয়ন নেই। খাওয়ার পানির কোনো ব্যবস্থা আজও করা হয়নি। 

ফাতাংটারী গ্রামের মনা মিয়া বলেন, ৫০ বছর ধরে এই এলাকায় বাস করছি। পৌরসভার কোনো সুবিধা পাচ্ছি না। পানির ব্যবস্থা নেই। চরচতুরা গ্রামের রহিম মিয়া বলেন, আমরাতো পৌর কর দেই, কিন্তু নাগরিক সুবিধা পাই না।  

পৌর সচিব আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যা রাজস্ব আয় হয়, তা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাই হয় না। প্রতিবছর এডিবি বরাদ্দ দিয়ে কিছু সংস্কার করাসহ  মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা দেওয়া হয় এবং দাপ্তরিক খরচ চলে। পৌরসভা ‘ক’ কিংবা ‘গ’ শ্রেণির যেটাই হোক, সবখানেই একই সেবা পাবে। আর তা নাগরিকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ থেকেই নিশ্চিত হতে পারে। পৌরসভায় দায়িত্বে থাকা মেয়রের আন্তরিক চেষ্টাতেই এ বিষয়ে সফলতা আসতে পারে।

মেয়র হাকিবুর রহমান বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নতি হলে সরকারিভাবে বেশি সহায়তা পেলে শিগগিরই পৌর এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি