কেরানীগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড

পুড়ে কয়লা হওয়া লাশটি রংপুর মাহবুবের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর
১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০৮:২৯

breakingnews

ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকণ্ডের ঘটনায় পুড়ে কয়লা হওয়া লাশটি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মাহবুর রহমানের বলে তাঁর পরিবার দাবি করেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া লাশের বাম হাতে একটি ব্রেসলেট দেখেই তাঁকে শনাক্ত করেন মাহবুরের বাবা ও চাচা। মাহবুরের মা অসুস্থ থাকায় মৃত্যুর খবর সেদিন বাড়িতে জানানো হয়নি।

গত শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে তার মা মোরশেদা বেগমও বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। এ সময় প্রতিবেশীদের মাহবুরের স্বজনদের সাত্বনা দিতে দেখা যায়। নিহত মাহবুর রহমান (২৩) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদম গ্রামের গোলজার রহমানের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মাহবুর রহমান সবার বড়।
 
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রিকশাচালক বাবার অভাবের সংসারে টনাপড়েনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে মাহবুর রহমান। তাদের নিজেদের বসতভিটাও নেই। অন্যের জমিতে থাকে। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরার আশায় প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েই কর্মের সন্ধানে ঢাকা চলে যায় মাহবুর। ২০১৫ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ওয়ান প্রাইম প্লেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজে চাকরি নেয়। চার বছর থেকে ১৭ হাজার টাকা বেতনে ওই কারখানাতেই কাজ করে আসছিল মাহাবুর।

গত বুধবার বিকেলে টেলিভিশনে খবর দেখে এক প্রতিবেশী অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি মাহবুর রহমানের পরিবারকে জানায়। এরপর মাহবুরের খোঁজ নিতে পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ফোনে কল করেন। কিন্তু একের পর এক কল করা হলেও মাহবুরকে পাওয়া যায়নি। একসময় ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে মাহবুরের বাবা গোলজার হোসেন ও চাচা লাভলু মিয়া রাতেই ঢাকা চলে যান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের দেয়ালে সাঁটানো রোগীদের নামের তালিকাতেও মাহবুরের নাম ছিল না। পরে বৃহস্পতিবার সকালে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে গিয়ে একটি পুড়ে যাওয়া লাশ দেখতে পান। পা থেকে মাথার চুল পর্যন্ত পুড়ে যাওয়া লাশের বাম হাতে একটি ব্রেসলেট দেখে মাহবুবকে শনাক্ত করেন তাঁরা।

মাহবুরের চাচা লাভলু মিয়া জানান, ‘আমরা এখানে এসে জানতে পেরেছি অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার বাইরে ছিল মাহবুর রহমান। কিন্তু অন্যদের বাঁচাতে ভেতরে ঢুকে পড়ে। অন্যরা বাইরে আসতে পারলেও মাহবুর ভেতরে আটকা পড়ে।’

মাহবুবের বাবা গুলজার হোসেন বলেন, ‘আমার সংসারের হাল ধরা ছেলেটা আজ পোড়া লাশ হয়ে মর্গে পড়ে আছে। এটাই আমার মাহবুর। আমরা ব্রেসলেট দেখে মাহবুরকে চিনতে পেরেছি। আমার ছেলের লাশ এখনো দেওয়া হয়নি। ডিএনএ টেস্ট করে লাশের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আমাদের লাশ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আমি দ্রুত আমার ছেলের লাশ চাই।

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি