'ফাও' গ্যাস নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্য

মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৯:৩০ আপডেট: ০১:২৩

'ফাও' গ্যাস নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির নলকূপ ও জমির মাটি ভেদ করে উদগিরণকৃত গ্যাস (পকেট গ্যাস) বিপদজনক উপায়ে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে। 

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পঙ্কজ বড়ুয়ার নেতৃত্বে গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মজলিশপুর ইউনিয়নের বড় বাকাইল, বাকাইল বাজারসহ আশপাশ এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে উদগিরণ গ্যাস ব্যবহার বন্ধে (ফাগ) অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানকালে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল আহমেদের অবৈধ চুন ফ্যাক্টরিসহ অবৈধভাবে গড়ে উঠা ১৫টি চুন ফ্যাক্টরি ও গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক আবাসিক অবৈধ গ্যাসের সংযোগ, ১০টি হোটেলের বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত গ্যাস সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত প্রায় ২০ হাজার মিটার প্লাষ্টিকের পাইপ এবং ১২০টা ড্রাম ধ্বংস করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এ.বি.এম মশিউজ্জামান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ৬জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডিজিএম জাহিদুর রেজা, বিজিএফসিএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (উৎপাদন) জাকির হোসেন তরফদার, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি, সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির নলকূপ ও জমির মাটি ভেদ করে গ্যাস উদগরিত হচ্ছে। গ্রামবাসী এই গ্যাস প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে বাড়িতে নিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন। রাস্তার পাশে থাকা গাছের উপর দিয়ে এই গ্যাস পাইপের মাধ্যমে  বিভিন্ন গ্রামে সরবরাহ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, গত ১০/১২ বছর ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও সদর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল আহমেদের নেতৃত্বে বাকাইল গ্রামে ১৫/১৬টি অবৈধ চুন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। এসব চুন ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব উদগরিত গ্যাস (পকেট গ্যাস)। এছাড়া গ্রামের আরেকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই গ্যাস প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে মজলিশপুর, সুহিলপুর ও বুধল ইউনিয়নের (তিন ইউনিয়ন) কয়েক হাজার বাড়িতে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়েছে।এই সিন্ডিকেকেট লোকেরা প্রতি চুলা থেকে মাসে ৫০০ টাকা করে আদায় করছে।

বাকাইল গ্রামের হাজী অহিদ মিয়া বলেন, তার বাড়িতেও একটি গ্যাস সংযোগ আছে। বৃহস্পতিবার  ভ্রাম্যমাণ আদালত সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি বলেন, তিনি প্রতিমাসে গ্যাস বিল বাবদ গ্রামের মাঈনুদ্দিন মিয়াকে ৫০০ টাকা দেন। তিনি বলেন, শুধু তিনিই নয়, তিন ইউনিয়নের সকল গ্রাহকই প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে গ্যাস বিল দেন।

বড় বাকাইল গ্রামের সোহরাব মিয়া বলেন, গ্রামের নূর মিয়া, মাঈনুদ্দিনসহ ৬/৭জন এই অবৈধ গ্যাসের ব্যবসা করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা রোজগার করছেন। প্রতি গ্রাহক মাসে ৫০০ টাকা গ্যাস বিল দিতে হয়।

মজলিশপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাসান মিয়া বলেন, আমরা নিরীহ মানুষ। এসব অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে পারিনা। তিনি বলেন, প্রভাবশালী লোকেরা এই গ্যাসের ব্যবসা করেন। এই গ্যাস ব্যবহার করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল আহমেদ, গ্রামের কাশেম, আলী মিয়া, নান্নু মিয়াসহ ১৫/১৬জন চুনের ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, তারা খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারেন না।

গ্রামের কলেজ ছাত্র আরমান মিয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি অবৈধভাবে গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করতে না পারে তাহলে যে কোন সময় এই গ্রামে ঘটতে পারে মাগুরছড়ার মতো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

এদিকে বিজিএফসিএলের একটি সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩নং গ্যাস ফিল্ডের কুপে ওই সমস্যা হয়। ওই সময় প্রায় ২হাজার ফুট মাটির নিচে দিয়ে গ্যাস লিকেজ হয়। পরে কুপে গ্যাসের প্রেসার কমতে থাকে। ২০০৬ সালে কুপ থেকে বের হওয়া গ্যাস গ্রামের বিভিন্ন দিক দিয়ে বেরোতে থাকে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে থাকা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডিজিএম (বিতরণ) জাহিদুর রেজা বলেন, এটা পকেট গ্যাস। আগামী এক-দুই বছরের মধ্যেই এই গ্যাস উগগিরন বন্ধ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন  জানান, শুক্রবার থেকে তিনদিন এলাকায় সর্তকীকরণের জন্য মাইকিং করাবেন। এর পরেও যদি কেউ অবৈধভাবে এই গ্যাস ব্যবহার করেন তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে বিজিএফসিএল এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (উৎপাদন) জাকির হোসেন তরফদার জানান, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস উদগিরণ হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন বছর পরে এই গ্যাস আর থাকবে না।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
 Monetized by Galaxysoft
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি