আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ: লিটনের স্ত্রী

সিলেট প্রতিনিধি
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ১১:৫৪

আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ: লিটনের স্ত্রী

সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ফটিক ওরফে লিটনকে (৪০) জেলগেট থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী হালিমা খাতুন। হালিমা খাতুনের অভিযোগ, চার দিন আগেই জেলগেট থেকে তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারী ডিবি পুলিশ। পরে পুলিশ তার কাছে টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় বলেও অভিযোগ স্ত্রীর।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত তিনটায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ফটিক। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন হালিমা খাতুন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলছে, ফটিক চিহ্নিত ডাকাত। শুক্রবার রাতে ডাকাতির সময় বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে ফটিকের দল। এসময় পাল্টাগুলিতে নিহত হন তিনি।

পুলিশের দাবি, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেই সিলেট অঞ্চলের ডাকাতদের নেতৃত্ব দিতো ফটিক ওরফে লিটন। তিনি সিলেট অঞ্চলের ডাকাতদের সর্দার ছিলেন। জেলে থাকা অন্যান্য ডাকাতদের সঙ্গে পরামর্শ করে অন্য ডাকাতদের দিয়ে ডাকাতি করাতো লিটন। আর ডাকাতির বেশির ভাগ অর্থই পেতেন লিটন।

হালিমা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ডাকাতি মামলায় ২৬ মাস কারাবাসের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসেন তার স্বামী লিটন। জেল থেকে বের হওয়ার ৫ মিনিটের মাথায় ফের জেলগেট থেকে সাদা পোশাকে একদল ডিবি পুলিশ তাকে আবারও ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

হালিমা খাতুন আরও বলেন, ‘আমি তার (নিহত ফটিকের) আইনজীবীর মাধ্যমে জানতে পারি ৫০ হাজার টাকা দিলে আমার স্বামীকে ছোটখাটো মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আজ (শনিবার) সকালে ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি আমার স্বামী মারা গেছেন।’

তবে এ অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম মুসা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ফটিক ডাকাত দলের সদস্য। ডাকাতির প্রস্তুতিকালেই পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ফটিক।

তিনি আরও বলেন, লিটনের বিরুদ্ধে সিলেটের বিভিন্ন থানায় ১৮টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে ১১টি মামলাই ডাকাতির। ৩টি অস্ত্র মামলা, ১টি ছিনতাই মামলাসহ অন্য আরেকটি অপরাধে আরো তিনটি মামলা রয়েছে। এসব মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত তিনটার দিকে বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর বাইপাস সড়কের মরমপুর-সুরিরখাল এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন লিটন। লিটন সিলেটের বিশ্বনাথের পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি