খুলনার বাণীশান্তা যৌনপল্লী লকডাউন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ মার্চ ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ০৩:৪২

খুলনার বাণীশান্তা যৌনপল্লী লকডাউন

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে খুলনার দাকোপে মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা পশুর নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণীশান্তা যৌনপল্লীটি অবশেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

নদীর পাড় ও গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত যৌনপল্লীতে গিয়ে দাকোপ উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ যৌথভাবে এ লকডাউনের ঘোষণা দেন। মোংলা বন্দরের পশুর নদীর পশ্চিম পাড়স্থ খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার বাণীশান্তা যৌনপল্লীটির অবস্থান হলেও মূলত মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক লোকজনই এ পল্লীতে সবচেয়ে বেশি যাতায়াত করতো।

এ পল্লীতে ইতোমধ্যে লোকজনের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ সদস্যরা নদীর পাড়ে যাতে কোন ট্রলার না ভেড়ে ও উদ্ভুদ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পল্লী এলাকায় সার্বক্ষণিক বিশেষ টহল ও সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বলে জানিয়েছেন দাকোপের পুলিশ-প্রশাসন।

দাকোপের ইউএনও আ. ওয়াদুদ জানান, পশুর নদীর পাড়ের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত বাণীশান্তা যৌনপল্লীতে জায়গা কম, ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এছাড়া মোংলা বন্দরে আগত বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের বিদেশি নাবিক (ক্রু) ও কার্গো কোষ্টার জাহাজের নাবিকদেরও এ পল্লীতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ যৌথভাবে গত ২৪ মার্চ থেকে যৌন পল্লীটি অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। এ পল্লীতে ৮৭টি ঘরে প্রায় শতাধিক যৌনকর্মী ছাড়াও বাড়িওয়ালী, মাসি, দোকানদার ও প্রায় ৬৫ জন ছেলেমেয়েসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক লোকের প্রতিনিয়ত আনাগোনা ছিল।

তিনি আরও জানান, মানবিক কারণে এ সময়ে যৌনকর্মীদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি যৌনকর্মীকে ১০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে সহায়তা করা হয়েছে। অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রত্যেক পরিবারকে আরো চাল ও নগদ অর্থ সহায়তা দেবার দেয়ারও সিদ্ধান্ত রয়েছে।

দাকোপ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম চৌধূরী জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পল্লী এলাকায় নদী পথে ট্রলার যোগে কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য পুলিশ পাহারা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ভুদ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পল্লী এলাকায় পুলিশ সার্বক্ষনিক বিশেষ টহল ও সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

বাণীশান্তার যৌন কর্মীদের সংগঠন নারী জাগরনী সংঘের সভানেত্রী রাজিয়ার জানান, চাল ও নগদ অর্থ সহায়তা পেয়েছিন। তবে এখন পর্যন্ত যে সরকারি সহায়তা প্রশাসন থেকে দেয়া হয়েছে তা খুবই অপ্রতুল।

তিনি জানান, পল্লীর প্রতিটি পরিবারে প্রায় ৩ থেকে ৭/৮ জন সদস্য রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের দেয়া ১০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা অনেকেরই শেষের পথে। এছাড়া অনেক যৌন কর্মীর জমানো অর্থও শেষ হওয়ার পথে। অপরদিকে প্রতিটি যৌনকর্মীকে বাড়িওয়ালাকে মাসিক দেড় হাজার টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। অধিকাংশ বাসিন্দাই বকেয়া ঘর ভাড়া পরিশোধ করতে পারেননি। তারা কিভাবে বকেয়া ঘর ভাড়া পরিশোধ করবেন তা নিয়ে হা-হুতাশকরাসহ গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। কেউ কেউ আবার ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে খাবার সংগ্রহসহ সংসার চালাচ্ছেন। এ অবস্থায় এ নেত্রী মানবিক কারণে আরো বেশি সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি ও বকেয়া ঘর ভাড়া যাতে না নেয়া হয় তার জোরালো দাবি জানান।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি