কাজ না করেই বিল উত্তেলন, অর্ধকোটি টাকা লোপাট !

মো. নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি
৩০ জুন ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১০:৪২

কাজ না করেই বিল উত্তেলন, অর্ধকোটি টাকা লোপাট !

ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকার কাজে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওায়া গেছে। ঠিকাদার কাজ না করেই অর্ধকোটি টাকারও বেশি বিল অগ্রীম উত্তেলন করে লোপাট করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। 

ঝালকাঠি পৌর শহরের বাসটার্মিনাল এলাকায় সুগন্ধা নদীর তীরে ৩০ মিটার এলাকায় ব্লক স্থাপনের কোটি টাকার কাজে এ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুগন্ধা নদীর তীরের ভাঙন প্রতিরোধে এ প্রকল্পের দু’দফায় কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ২৯ ফেব্রয়ারি মাসে। অথচ ভাঙন কবলিত স্থানে কোন ব্লক না ফেলে ঠিকাদার ৫৫ লাখ টাকার আগাম বিল উঠিয়ে নিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএইচ এন্টারপ্রাইজ বলছে, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নিয়ে যারা কাজ করেছেন এ দায় তাদের। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে।

এদিকে সুগন্ধা নদীর কুতুবনগর এলাকায় ভাঙন তীব্র হওয়ায় এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এলাকা ছেড়ে চলে গেছে অনেক পরিবার। অনেকে আবার সব হারিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, অনুন্নয়ন রাজস্ব খাত প্রকল্পের আওতায় এ কাজের প্রথম ধাপের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত। ঠিকাদার তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় এরপর দ্বিতীয় দফায় কাজ শেষ করার সময় ছিল এ বছরের ২৯ ফেব্রয়ারি। কিন্তু ঠিকাদার দুলাল হাওলাদার ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল কাজ শুরু করার দিন থেকে ব্লক না ফেলে টালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করেন। বাসস্ট্যান্ড কুতুবনগর এলাকায় কুতুবনগর মাদ্রাসা থেকে পূর্ব দিকে ৩০ মিটার ব্লক ফেলার জন্য বরাদ্দ টাকার পরিমাণ ৯৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এরমধ্যে ১১ হাজার ২১ টি ডাম্পিং ব্লক, ১২শ প্লেসিং ব্লক এবং ৪ হাজার ৩৩০ জিও ব্যাগ ফেলার কথা সুগন্ধা নদী ভাঙন কবলিত স্থানে। কাজ সম্পন্ন না করায় ঠিাকাদারকে তা দ্রুত সম্পাদনের চিঠি দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চিঠির কোন জবাব দেননি ঠিকাদার, শুরু করেননি কাজও। উল্টো ঠিকাদারকে আগাম ৫৫ লাখ টাকার বিল প্রদান করে নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান অন্যত্র বদলী হয়ে গেছেন।

সরেজমিনে সুগন্ধা নদীর কুতুবনগরের ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। অনেক পরিবার আতঙ্কে নদীর পাড়ের বসত ভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। কিছু তৈরি করা ব্লক ভাঙন কবলিত এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। ব্লকগুলো ফেলার কোন তৎপরতায় নেই ঠিকাদারের। 

কুতুবনগর এলাকার ভাঙন কবলিত স্থানের বাসিন্দা ময়ফুল বেগম জানান, এই এলাকা দীর্ঘ বছর ধরে সুগন্ধায় ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের বাড়ি ছিল নদীর ভিতরে। চার বার বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় এখন আরেক জনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। শুনেছি ব্লক ফেলানোর টেন্ডার হলেও ঠিকাদার কাজ করছেনা। একই এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন জানান, অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাওয়ায় তারা অন্যত্র চলে গেছে। আমরা অনুপায় হয়ে এখানে আছি। 

এ বিষয়ে কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএইচ এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর সাহাবুদ্দিন আজাদ বলেন, আমার লাইসেন্সে এ কাজ করেছেন ঝালকাঠি পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দুলাল হাওলাদার। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারব না।

তবে ঠিকাদার ঝালকাঠি পৌরসভার কাউন্সিলর দুলাল হাওলাদার জানান, আমি এ কাজের জন্য ৫৫ লাখ টাকা এনেছি ব্লক তৈরির জন্য। ব্লক তৈরি করা হলেও ফান্ড না থাকায় এগুলো ফেলা সম্ভব হচ্ছেনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড যে দিন টাকা দিবে সেদিন ব্লক ফেলার কাজ শেষ করে দেব। 

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নবাগত সহকারী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল জানান, এই কাজের টাকা নিয়ে কাজ না করার ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে ঠিকাদারকে কাজ করার জন্য চূড়ান্ত সময় বেঁধে দেয়া হবে। এরমধ্যে কাজ না করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে।

বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান বর্তমানে পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সদর দপ্তর ঢাকায় কর্মরত আছেন। তিনি জানান, আমি একাধিকবার চিঠি দিয়ে ঠিকাদারকে তাগিদ দিয়েছি। তিনি কাজে অবহেলা করেছেন। ব্লক তৈরি করার জন্য তাঁকে আগাম বিল দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঝালকাঠির বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি