বরিশালের পাইকারী মৎস্য বাজারে ইলিশের সমারোহ

শামীম আহমেদ.বরিশাল
৯ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১২:২৮ আপডেট: ১২:৩১

বরিশালের পাইকারী মৎস্য বাজারে ইলিশের সমারোহ

ইলিশ সম্পদ সমৃদ্ধ করার লক্ষে অভ্যন্তরীন নদ-নদীতে জাটকা আহরণ-পরিবহন ও বিপননে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবার পর জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীন নদ-নদীর মিঠা পাণির ইলিশ। 

অপরদিকে সাগরের ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও থাকার পরও জেলেরা সাগরের বিভিন্ন মোহনায় অবৈধভাবে ইলিশ অহরণ করেই যাচ্ছে জেলেরা কোনভাবেই তাদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। কয়েকদির যাবত বরিশাল পোর্টরোডস্থ জেলা মৎস্য পাইকারী বাজারের ইলিশ মোকামে দেখা যাচ্ছে সাগরের গ্রেট সাইজের ইলিশের আমদানীর সমারহ। 

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাগরের এসকল বড় আকারের ইলিশ প্রকৃয়াজাতের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর কাজে ব্যাস্ত সময় পাড় করছেন পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের আড়ৎদার, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা সহ সংশ্লিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। বহুদিন বাদে এমন বড় আকারের ইলিশের প্রাপ্তিতে সন্তুস্টির সাথে সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা। 

বুধবার ও বৃহস্পতিবার মোকামে মাছের আমদানি কিছুটা কম এবং দাম একটু বেশি থাকলেও এ মাসের শুরুতে তা পর্যাপ্ত ছিল বলে জানিয়েছেন মোকাম আড়ৎদার ব্যবসায়ীরা। অভ্যন্তরীন নদীর ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা ৩০ জুন শেষে ৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মন ইলিশ পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে এসেছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল। এসকল ইলিশের বেশিরভাগই ছিলো গ্রেড সাইজ তথা ১ কেজি ওজনের বেশি আকারের। বরিশালের অভ্যন্তরিন বিভিন্ন নদী থেকে এ সকল মাছ আহরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে মোকামে মিঠা পানির সুস্বাদু ইলিশের সাথে প্রাপ্তির প্রাতুল্যতা দেখা গেছে ফিশিং ইলিশ তথা সামুদ্রিক ইলিশের। এসকল ইলিশও বেশিরভাগ গ্রেড সাইজের বলে জানিয়েছে একাধিক আড়ৎদার ও বিক্রেতারা। তবে এর দাম মিঠা পানির ইলিশের তুলনায় কিছুটা কম বলে জানায় তারা।

নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে গিয়ে দেখা গেছে খুচরা, পাইকারীসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রেতা বিক্রেতার উপচে পড়া ভীর। স্বাস্থ্যবিধি সমাজিক দুরত্ব বজায়ের বিষয়টি উপেক্ষিত হলেও ইলিশ মাছের আকারে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই ছিলো বেশ আনন্দিত। 

বৃহস্পতিবার  ইলিশের আমদানি কিছুটা কম হয়েছে জানিয়ে এক আড়ৎদার জানান, ৩০ জুন নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকে মোকামে আভ্যন্তরিন বিভিন্ন নদী থেকে যে ইলিশ আসছে তার সিংহ ভাগই ১ কেজি থেকে দের কেজি ওজনের। ৫শ গ্রাম এর নিচের ইলিশ বর্তমানে মোকামে প্রায় নেই বল্লেই চলে বলেন ওই আড়তদার। মোকামে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট, চরমমতাজ, ভোলার শ্যমরাজ, লহারহাট, হিজলা, বাবুগঞ্জ, কালিগঞ্জ, উলানিয়ার বিভিন্ন নদী থেকে প্রতিদিন ইলিশ আসছে। এসকল মাছে বেশিরভাগই গ্রেড সাইজের।

এছাড়াও সামুদ্রিক ইলিশ আসছে প্রতিদিন। আভ্যন্তরীন নদীর ইলিশ স্বাদের দিক দিয়ে বেশ ভালো তাই ফিশিং ইলিশের তুলনায় এর চাহিদা ও দাম দুই বেশি বলে জানান তিনি। দামের ধারনা দিয়ে তিনি বলেন, বুধবার মিঠা পানির ৫০০-৮০০ গ্রামের ইলিশের মন পাইকারী বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়, ৮০০ থেকে এক কেজির ইলিশের মন ছিলো ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং ১ কেজি ৩০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি বা তার থেকে বড় ইলিশের পাইকারী দাম ছিলো ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা।

একই আকারের সামুদ্রিক ইলিশের মন প্রতি পাইকারী দাম দুই এক হাজার টাকা কম ছিলো। এই দাম বুধবার হলেও সপ্তাহের শুরুতে দাম কিছুটা কম ছিলো কারণ মাছের আমদানি ছিলো বেশি। আড়ৎদার আরও জানান, প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে মোকামে ইলিশ এর ট্রলার বিভিন্ন নদী ও সমুদ্র থেকে মাছ নিয়ে মোকামে আসা শুরু করে জেলেরা। এর পর তা বেচাকেনা চলে দুপুর পর্যন্ত।

বিকেলের মধ্যে স্থানীয় চাহিদা পূরনের মাছ বাদ রেখে সকল মাছ বরফ দিয়ে প্রকৃয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। বহুদিন বাদে মোকামে এমন বড় আকারের ইলিশের আমদানিতে এক রকম প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ইলিশ মোকামের সকলের মধ্যে। দীর্ঘ ৮ মাস পড়ে ইলিশের ওপর নির্ভরশীল মোকামের সাধারন কর্মজীবীদের মধ্যেও দেখা গেছে আনন্দের ছাপ। এজন্য তারা সরকারের ইলিশ সম্পদ সমৃদ্ধ করার লক্ষে দেশের অভ্যন্তরীন নদ-নদীতে জাটকা আহরন, পরিবহন ও বিপননে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

সরকারে সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বরিশাল জেলা মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সাধারন সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল বলেন, মোকামে শনি, রবি, সোমবার ইলিশের আমদানি ছিল যথাক্রমে ১২৪৬, ২৩২৮ এবং ১৪৬৮ মন। মঙ্গল ও বুধবার এসছে প্রায় ৪ হাজার মন ইলিশ। এসকল মাছের বেশির ভাগই গ্রেড সাইজের যা আভ্যন্তরীন বিভিন্ন নদী থেকে আহরন করেছে জেলেরা বলে জানান তিনি। এমন প্রাপ্তিতে ইলিশ মোকাম ব্যবসায়ী সকলের মুখে হাসি ফুটেছে বলে নিরব হোসেন টুটুল আরও জানান সরকারের সিদ্ধান্তে প্রকৃতপক্ষেই আভ্যন্তরীর নদীর ইলিশ সম্পদ বেশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। আমদানীর এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি। 

অপরদিকে বরিশাল মৎস্য পাইকারী বাজারের এক মৎস্য ব্যবসায়ী ব্যবসার স্বার্থে নাম প্রকাশ্য না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, মোকামে গ্রেড সহ বিভিন্ন সাইজের ইলিশ এসেছে ব্যবসার স্বাথে এগুলোকে অভ্যন্তরীন নদীর মাছ বলে চালিয়ে দিচ্ছি। আসলে এর অধিকাংশ ইলিশ সাগরের ফিশিং করা ইলিশ।

সরকার ও মৎস্য বিভাগ থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও জেলেরা সাগরের মোহনা ও আশ-পাশ থেকে ধরে ফিশিং করা হচ্ছে।

এছাড়া সাগরের ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকার কারনে বরগুনার পাথরঘাটা ও পটুয়াখালীর মহিপুর এলাকায় সাগরের ইলিশ বিক্রি বন্ধ থাকার কারনে এই ফিশিং করা  ইলিশ নিয়ে সেখানে ফিশিং বোর্ড না গিয়ে সরাসরি বরিশালে নিয়ে আসার কারণেই বর্তমানে কয়েকদিন মোকামে ইলিশ আমদানীর ছড়াছড়ি ছিল।

প্রকৃতপক্ষে অভ্যন্তরীন নদ-নদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে গ্রেড সাইজের তার পরিমান উল্লেখযোগ্য নয়। তবে অভ্যন্তরীন লোকাল ইলিশের আমদানী বেড়ে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই দামও থাকবে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলের জন্য লাভজনক পর্যায়ে। 

উল্লেখ্য, ইলিশ সম্পদ সমৃদ্ধ করার লক্ষে দেশের অভ্যন্তরীন নদ-নদীতে জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বিপননে ৮ মাসের নিষেধজ্ঞা শেষ হয় ৩০ জুন মধ্য রাতে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দেশে ইলিশের সহনীয় আহরণ ছিল প্রায় সোয়া ৫ লাখ টন। যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে ৫ লাখ টনে বৃদ্ধির আশা করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। 

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি