ফসলি জমির বুক চিরে জেগে উঠেছে ‘হঠাৎ নদী’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর
৮ আগস্ট ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৫:১০ আপডেট: ০৯:৫১

ফসলি জমির বুক চিরে জেগে উঠেছে ‘হঠাৎ নদী’

রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর জংলার দোলা এলাকায় রাস্তার একটি ব্রিজ ভেঙে হঠাৎ করে ফসলি জমির বুকে নতুন একটি ‘নদী’ জেগে উঠেছে। নদীটির কোথাও কোমরপানি, কোথাও বা হাঁটুপানি। প্রায় ৪০ ফুট চওড়া এবং তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর স্রোত গিয়ে মিশেছে পাশের ঘাঘট নদীতে।

অনেকে মনে করছেন, অপরিকল্পিতভাবে ঘাঘট নদী ড্রেজিং করা এবং গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পানি জমেছে। এতে অতিরিক্ত পানি পথ খুঁজে নিয়ে নেমে যাচ্ছে ভাটির দিকে।
 
গ্রামবাসী কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, নদীটি যেখানে জেগে উঠেছে, একসময় ঠিক সেখানেই একটি নদী ছিল। কালের গর্ভে ওই নদী হারিয়ে গিয়েছিল। সেটাই আবার জেগে উঠেছে। 

ইসরাঈল নামের এক ব্যক্তি (৬০) বলেন, ‘বাপ-দাদার কাছে শুনেছি, এখানে একসময় নদী ছিল।’ কিন্তু ঠিক কতকাল আগে সেখানে নদী ছিল, তা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেননি। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডে কাছেও এ-সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড নেই। গত ২৯ জুলাই সকালে স্থানীয় কৃষকেরা  আকস্মিকভাবে ওই নদী দেখে বিস্মিত হন। নতুন এ নদী দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। অনেকে নতুন নদীতে গোসলও করছে। স্থানীয় লোকজনের অনেকে ঘটনাটি অলৌকিক বলে মনে করছেন। নদীটির নাম দিয়েছে হঠাৎ নদী। 

স্থানীয় লোকজন জানান, সদর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের এবং পাশ্ববর্তী বেতগাড়ী ইউনিয়নের ধনতোলা বাজারাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পানি এই পথ দিয়েই ঘাঘট নদীতে গিয়ে মেশে থাকে। খরায় ঘাঘটনদী পানিশূন্য থাকলেও বর্ষায় নদীটি পানিতে টইটম্বুর হয়ে পড়ে।

তারা আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে নদীতে পানির প্রচন্ড স্রোত থাকায় ও ঘাঘট নদী নতুন করে ড্রেজিং করায় উজানের তিন কিলোমিটার এলাকা ভেঙে গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। এভাবেই গত এক সপ্তাহে নতুন এ নদীর জন্ম। নদীটির পেটে গেছে অন্তত ১০০ বিঘা জমি। এতে আউশ ধান ও পাটসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রংপুর-৩ আসনের সাংসদ রাহগীর আল মাহী সাদ এরশাদ বলেন, আমি ওই এলাকা পরিদর্শন করবো। ফসল ও জমি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেয়া হবে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি বলেন, আমি নতুন ওই নদীর খবর শুনেছে। দ্রুত সময়ে পরিদর্শনে যাব। ক্ষতিগ্রস্থ ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, উজানে নতুন নতুন এলাকা ভেঙে নদী আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ নদী বা খালের সৃষ্টি হয়েছে।
 
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহদী হাসান জানান, সেখানে নদী থাকার কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই।

তিনি আরও জানান, নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে ভাটির দিকে পানির প্রচন্ড চাপ থাকে। পানির প্রবল চাপে ফসলি জমি ভেঙে জলাধারে পরিণত হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি