নীলফামারীতে মুক্তিযোদ্ধাকে ভূয়া নানা বানিয়ে চাকরি!

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)
২৯ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৩:১২

নীলফামারীতে মুক্তিযোদ্ধাকে ভূয়া নানা বানিয়ে চাকরি!

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজলোয় তথ্য গোপন করে প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধাকে নানা বানিয়ে ভূয়া কাগজপত্রে পোষ্য কোটায় চাকরির নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সূর্যি আক্তার নামে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

তিনি খামার গাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৯ শে জানুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগে এ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে ছিট রাজীব গ্রামের জাহেদুল ইসলামের মেয়ে সূর্যি আক্তার। তার মাতৃকুল বা পিতৃকুলের কেউ মুক্তিযোদ্ধা না থাকলেও ২০১৬ সালের ১৯ শে জানুয়ারি ভূয়া কাগজপত্রে পোষ্য কোটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ পান। সে একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ মিয়াকে ভূয়া নানা বানিয়ে কাগজপত্র তৈরি করে। নিজেকে নাতনি হিসেবে পোষ্য কোটার সুবিধায় চাকরি নেয়। কৌশলে পুলিশ ভেরিভিকেশনের রিপোর্ট এর কাজও সুসম্পন্ন করে।এরপর ভূয়া পোষ্য কোটায় প্রায় ৫ বছর দাপটের সঙ্গে চাকরি করছেন।

সরেজমিনে ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায় , সূর্যি আক্তারের প্রকৃত নানা একই গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন। অথচ তার প্রকৃত নানার নাম গোপন রেখে ছিট রাজীব গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তমেজ মিয়াকে ভূয়া নানা বানিয়ে পোষ্য কোটায় চাকরি নেন। তার নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায় কিশোরগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান (বাবুল) স্বাক্ষরিত বীর মুক্তিযোদ্ধা তমেজ মিয়ার ওয়ারিশন সনদপত্রে ১ম কন্যা হিসেবে সহকারী শিক্ষিকা সূর্যি আক্তারে  মাতা মর্জিনা বেগম নাম উল্লেখ রয়েছে। 

যেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা তমেজ মিয়ার স্ত্রী হাছনা বেগমের জন্ম তারিখ ০২-০৫-১৯৬৮ এবং  কন্যা মর্জিনা বেগমের জন্ম ০১-০৯-১৯৭২ মা-মেয়ে বয়সের ব্যবধান ৪ বছর দেখানো হয়েছে। বর্তমান ওয়ারিশ সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে দেখা যায়, মর্জিনা বেগমের পিতা হিসেবে মু. মোফাজ্জল হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা তমেজ মিয়ার ওয়ারিশন সনদপত্রে তিন মেয়ে ও তিন ছেলের নাম উল্লেখ্য থাকলেও মর্জিনা বেগম নামে তার কোন কন্যা সন্তানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজউদ্দিনের তিন ছেলে তিন মেয়ে রয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত ওয়ারিশন সনদপত্রে ৩ ছেলের বিপ্লব মিয়া, লাল মিয়া, রিপন মিয় ও ৩ মেয়ের নাম তাহেরা বেগম, হাছিনা বানু, বিউটি আক্তার নাম উল্লেখ করা হলেও   মরজিনা নামে তার কোন মেয়ে নাম বা সূর্যি আক্তার নামে তার কোন নাতনি নাম উল্লেখ করা হয়নি।

জানা যায়, সূর্যি আক্তার একই গ্রামের মোফাজ্জল মাষ্টারের নাতনি। তিনি সেই সময় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ওয়ারিশন সনদপত্র নিজের নাম অন্তভূক্তি করেন। কিন্তু বর্তমান ওয়ারিশন সনদপত্রে মোফাজ্জল হোসেনের ওয়ারিশ হিসেবে মরজিনা বেগমকে দেখানো হয়েছে। 

সহকারী শিক্ষিকা সূর্যি আক্তারে সাথে এ বিষয়ে বার বার যোগযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা তমেজ মিয়া জানান, আমার মর্জিনা বেগম নামে কোন মেয়ে নেই বা সূর্যি আক্তার নামে কোন নাতনি নেই । এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শরিফা আক্তার জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অধীন্থ নয় তাই এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করার কিছুই নেই। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লবেজ উদ্দিন বলেন, আমি সাত থেকে আট মাস আগে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি