রায়পুরে মিল্কভিটায় অনিয়মের অভিযোগ

মো.আতোয়ার রহমান মনির, লক্ষ্মীপুর
২৯ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৫:৫১

রায়পুরে মিল্কভিটায় অনিয়মের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের মিল্কভিটা দুগ্ধ উৎপাদন, বিপণন, গো-খাদ্য, ওষুধ ও উপকরণ ক্রয়-বিক্রয়ে যত অনিয়মের মধ্যেই চলছে শীতলীকরণ ও মহিষের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র। ৪ বছরে এখানকার প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক বিরুদ্ধে কোটি টাকার উপরে লোপাট করেছেন বলে খামারিদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে মিল্কভিটার প্রধান কার্যালয়ের দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৩ সনের জুলাই থেকে ২০১৭ সনের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মহিষের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এ প্রকল্পে সরকার সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ও মিল্কভিটা অনুদান দেয় ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানাটি উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে এখানে কারখানা ছাড়াও রয়েছে ২০৬টি মহিষ। এরমধ্যে ১০৪টি মা, ষাড় ৫টি ও বকনা বাছুর ১০৬টি। ৭০টি দুগ্ধ সমিতির মধ্যে চলমান রয়েছে ৩৩টি। প্রতিদিন এখন প্রায় দেড়শ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। প্রতিদিন প্রায় ৬০০ কেজি দানাদার খাদ্য ও প্রায় ১২শ’ কেজি খড় লাগে।

রায়পুরের খামার সমিতির অভিযোগে, এ তত্বাবধায়ক ডাক্তার ফরহাদুল আলম যোগদানের পর থেকে নিজের ইচ্ছেমত খড়কুটো ক্রয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করেছেন। ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর দু'শ লিটার মহিষের দুধ বাইরে ব্যাক্তি পর্যায়ে বিক্রয়ের টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান সরেজমিন আসলে তদন্তে ধরা পড়লে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই টাকা জমা দেয়া হয়। মহিষ প্রজনন কেন্দ্রের জন্য বিভিন্ন প্রকার ওষুধ ক্রয়ের নামে-বেনামে ভাউচারের মাধ্যমে তা আত্মসাত করেন। দুগ্ধ কারখানার জেনারেটরের তেল কেনার নামে ভুয়া ভাউচারে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা আত্মসাত করেন।

উল্লেখিত ৪টি খাতসহ বিভিন্ন খাতের দুর্নীতির অভিযোগ এনে তত্বাবধায়কের (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) অপসারণসহ কারখানার দুগ্ধ সংগ্রহ চালুকরণের দাবিতে ৫ খামার সভাপতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। 

স্থানীয় ক্ষামারীদের অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা ৮'শ খালি ভাউচার, ২'শ ওষুধ ভাউচার, স্থানীয় মিতালিবাজারের ডাক্তার কমলের স্বাক্ষর করা ৩০টি খালি ভাউচার, ডিজেলের ২হাজার টাকার খালি ভাউচার, খড়ের মূল্য ১১ টাকা করে সাড়ে ৪ হাজার কেজির পরিবর্তে ১৪ টাকা করে সাড়ে ৭ হাজার টাকা ভাউচারে লেখা, ভ্যাট দেন বিক্রেতা, কিন্তু তিনি ভাউচার দেন ক্রেতার। দেড় বছর পর খামারিদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০৪ লিটার দুধের দাম জমা দেয়া হয়। খুচরা দুধ বিক্রি করেন ও ৫০ হাজার টাকার খড় কেনা হলে ভাউচার করেন ৬৫ হাজার টাকা। উৎপাদন মূল্য থেকে কম মূল্যে পণ্য বিক্রি ও বিক্রির টাকা ফান্ডে জমা না করে মিল্কভিটায় কোটি টাকার অনিয়ম ও লুটপাট করেছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ অস্বীকার করে রায়পুরের মিল্কভিটা দুগ্ধ উৎপাদন তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ডাক্তার ফরহাদুল আলম জানান, তিনি ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর যোগদান করেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচেছ। খড় ক্রেতাদের ভাউচার না থাকায় তাকে ভাউচার বানিয়ে নিতে হয়। বিষয়েটি সম্পর্কে এখনো কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে খামারীদের অভিযোগ মিথ্যে  প্রমানিত হবে। 

এদিকে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা)’র এডিশনাল জিএম (এডমিন) তোফায়েল আহাম্মদ জানান, স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ বিষয়ে তিনিসহ দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিন কাজ করছেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে কথা বলা যাবে না। তদন্তের পর সহসাই তারা চেয়ারম্যান বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

ব্রেকিংনিউজ/ এমএইচ

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি