কক্সবাজারে `রোহিঙ্গাবান্ধব' ৫১ জন, ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন !

কক্সবাজার, প্রতিনিধি
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৬:১৭

কক্সবাজারে `রোহিঙ্গাবান্ধব' ৫১ জন, ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন !

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে কক্সবাজারে পাঠানো রোহিঙ্গাবান্ধব ৫১ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়ায় রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করার সুযোগ পাচ্ছে। ওই তালিকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান-মেম্বার, রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। তবে রোহিঙ্গাবান্ধব ওই ৫১ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাটি ফাইল চাপা পড়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এতো কড়াকড়ি সত্বেও রোহিঙ্গারা জাতীয় পরিচয়পত্র পায় কি করে? এই প্রশ্ন খোদ কমিশনের।

জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে দেয়ার ইস্যুর কাজে জড়িত রয়েছে পুরনো রোহিঙ্গা নেতাসহ স্থানীয় একাধিক দালাল। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গঠিত তদন্ত টীম তাদের বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের আগে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জাতীয় সনদ হাতে পেয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় ভোটার তালিকাভূক্ত হয়েছেন। ওইসব রোহিঙ্গা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করছে। যেমনটি দাবি করছে ক্যাম্পের বাইরে থাকা জাতীয় সনদধারী ১০ হাজার রোহিঙ্গা। তারা নিজেদের নামে জমি কিনে দালান কোঠা নির্মাণ শেষে স্থানীয় হিসেবে বসবাস করে চলেছে। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা।

২০১৭ সালে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখালেখির প্রেক্ষিতে তৎকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত করে জেলার ৫১ জনের একটি তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সেই ফাইলের আর কোন অগ্রগতিই হয়নি।

সূত্রমতে, কক্সবাজার শহরের রুমালিয়াছড়া, তারাবনিয়াছড়া, পাহাড়তলী, পেশকারপাড়া, কলাতলী, সমিতি পাড়া, এলাকায় অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গা ভোটার তালিকাভূক্ত হয়ে পড়েছে। তারা হাতিয়ে নিয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র।

পাহাড়তলী বর্মা পাড়া ও জিয়ানগর এলাকার একাধিক রোহিঙ্গা জানায়, স্থানীয় কয়েকজন নেতার তৎপরতায় পাহাড়তলী, হালিমাপাড়া, বর্মাপাড়া ও জিয়ানগর এলাকায় হাজারো রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এখনো চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রায় সময় রোহিঙ্গা ভোটার হওযার সুযোগ পাচ্ছে বলে জানা গেছে। অনেকে কক্সবাজার থেকে পালিয়ে গিয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে ভোটার হচ্ছে বলেও জানান নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রমতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার এক ইউনিয়নেই অন্তত ২০০র বেশি রোহিঙ্গা নারী পুরুষের বিয়ে হয়েছে স্হানীয়দের সাথে। হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী ৮ নং ওয়ার্ডের সৈয়দ আহামদের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম বিয়ে করেছে ২৪নং ক্যাম্পের হাসিনা নামে এক রোহিঙ্গাকে। এ ছাড়া হ্নীলা ৪ নং ওয়ার্ডের পূর্ব পানখালী এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান বিয়ে করেছে জামতলী ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গাকে। একই এলাকার স্থানীয় নারী তাসমিনা বিয়ে করেছেন রোহিঙ্গা যুবককে বর্তমানে সে সৌদি প্রবাসী বলে জানা গেছে। 

এদিকে শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়ার গুদারপাড়া এলাকার স্বীকৃত রোহিঙ্গা গোলাম হেসেনের ছেলে আসাদ উল্লাহ সহ কয়েক ভাই রয়েছে যাদের অনেকের আইডি কার্ড করতে না পারায় অনেকদিন বিপুল টাকা নিয়ে ঘুরাঘুরি করেছিল।

বর্তমানে মিয়ানমার থেকে আসা তাদের পুরাতন আত্বীয় স্বজন প্রায় সময় তাদের বাড়িতে আসে বলে জানান এলাকাবাসী। এছাড়া তাদের ছেলে-মেয়ে অনেকে বর্তমানে এনজিওতে চাকরি করে। পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের বাদশাঘোনা এলাকার সিরাজুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, আমিন, নজির আহামদের পুরু পরিবার, হাফেজ মনির, ছৈয়দুল আমিন, শফিক মিস্ত্রি, নেছারু সহ অসংখ্য রোহিঙ্গা এসে এখানে বসবাস করছে তারা এখন নানানভাবে সমাজপতি সহ নানান পদ দখল করে বসে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন অনেকে এসেছে তবে আগে এসে বর্তমানে স্থানীয় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া রোহিঙ্গার মধ্যে অন্যতম আশরাফ আলী খলিফা, নুর মোহাম্মদ মিস্ত্রি, জাহেদের বাপ হুন্ডি ব্যবসায়ি মালয়েশিয়ার দালাল ছিল, শফি খাজা মঞ্জিল এরা বেশ কয়েক ভাই আছে যারা প্রত্যেকে এখন স্থানীয় হিসেব দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়।

এ ব্যপারে কক্সবাজারের নির্বাচন অফিসার মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ৫১ জন রোহিঙ্গা বান্ধব ব্যক্তির তালিকার কথা আমার জানা নেই। এখন আমি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

অতীতে অনেক রোহিঙ্গা নানানভাবে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছিল আমরা অনেকের আইডি বাতিল করেছি, মামলা হয়েছে জেলে গেছে। এখন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য সহ অভিযোগ দিলে আমরা সেই আইডি কার্ড বাতিল করার জন্য কাজ করবো। সবার আগে আমার দেশ তাই কোনভাবেই রোহিঙ্গাদের প্রশ্রয় দেওয়া উচিত হবে না।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি