করোনার প্রভাবে ভারত ৯ লাখ কোটির ক্ষতির মুখে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০১:৪৪ আপডেট: ০২:২০

করোনার প্রভাবে ভারত ৯ লাখ কোটির ক্ষতির মুখে

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব। স্বাস্থ্য সেবা, পর্যটনসহ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও পড়েছে মারাত্মক হুমকির মুখে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে শুধু ভারতেরই ক্ষতি হবে নয় লাখ কোটি টাকা। বুধবার বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা বার্কলেজ এ তথ্য জানিয়েছে। 

করোনা ভাইরাসের চাপ সামলাতে ভারত অন্তত দেড় লাখ কোটির ত্রাণ প্রকল্প ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দফতর, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছে বার্কলেজ।

বার্কলেজের ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভারতে চার সপ্তাহ সম্পূর্ণ লকডাউন চলবে। আংশিক লকডাউন চলবে আরও প্রায় আট সপ্তাহ। অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসের প্রায় পুরোসময়ে এর প্রভাব থাকবে। এতে চলতি বছরে প্রবৃদ্ধির হার আড়াই শতাংশে নামতে পারে। ২০২০-২১ অর্থ বছরে তা হতে পারে সাড়ে তিন শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয়ভাবে ভারত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত থেকে লকডাউন কার্যকর করলেও দেশটির বিভিন্ন রাজ্য তার আগে থেকেই লকডাউন শুরু করেছিল। যার প্রভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতি দাঁড়াতে পারে নয় লাখ কোটি টাকা। তারমধ্যে শুধু দেশটির কেন্দ্রীয় লকডাউনেই ক্ষতি হবে সাত লাখ কোটি।

বাজার মূল্যায়ন সংস্থা কেয়ার রেটিংস বলছে, চলতি অর্থ বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে দেড় থেকে আড়াই শতাংশ পর্যন্ত।

ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিক রিসার্চ জানিয়েছে, বিশ্বেজুড়ে মন্দার আশঙ্কা মাথাচাড়া দিচ্ছে। করোনার প্রভাবে এ বছর জার্মানির অর্থনীতি ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

চলতি সপ্তাহের শেষে অন্তত দেড় লাখ কোটি টাকার ত্রাণ ঘোষণা করা হতে পারে। দরিদ্রদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দেয়া, শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সাহায্যসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ থাকতে পারে। ফলে অসম্ভব হতে পারে দেশটির বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রায় ঠিক রাখা। বছরজুড়ে আরও ১০০ বেসিস পয়েন্ট মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থাকলেও এপ্রিলের গোড়ায় আগামী অর্থবছরের প্রথম ঋণনীতিতে ৬৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমাতে পারে দেশটির রিজার্ভ ব্যাংক।

এখন পর্যন্ত ভারতে মৃতের সংখ্যা ১৬। আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬৫ পেরিয়েছে। 

উল্লেখ্য, চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ জন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১ হাজার ২৯৫ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৭। চীনের বাইরে মারা গেছে ১৮ হাজার ৮ জন। 
 
বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৩৩১ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৬৮ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৪২ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ২৮৫ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ১৮৫ জন। 

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩১ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৩৯ জনের অবস্থা সাধারণ। ১৪ হাজার ৭৯২ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।
 
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়। 
 
করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।
 
এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।
 
উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
 
চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৮টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।
 
ব্রেকিংনিউজ/এম

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি