বন্দরে ছুটিতেও স্বাভাবিক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং, কমেছে ডেলিভারি

মনির ফয়সাল
৩০ মার্চ ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ০২:৪১

বন্দরে ছুটিতেও স্বাভাবিক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং, কমেছে ডেলিভারি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশ ও হাসপাতাল সেবা বাদে দেশের সকল সরকারি বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সরকার। অথচ দেশব্যাপী সবকিছু বন্ধের সময়ও স্বাভাবিক রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যন্তরে অপারেশনাল কার্যক্রম। অপারেশনাল কাজে নিয়োজিতদের কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে ২৪ ঘণ্টা বন্দর সচল রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। স্বাভাবিক দিনের মতোই জাহাজ বন্দরে আসছে, চালু রয়েছে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং কার্যক্রম। তবে টানা বন্ধ ও অনেক কল-কারখানায় কাজ বন্ধ, সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্মীদের ছুটিতে যাওয়াসহ নানা কারণে কমেছে ডেলিভারি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, দেশের এমন পরিস্থিতিতে আমদানিকারকরা এখন খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া তেমন কোনোকিছু ডেলিভারি নিচ্ছেন না।
চট্টগ্রাম বন্দরে ২৬ মার্চ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে ৮ হাজার ২৫০ টিইইউস, তার মধ্যে আমদানি কনটেইনার ৪ হাজার ৭৩১ টিইইউস ও রফতানি কনটেইনার ৩ হাজার ৫১৯ টিইইউস। ২৭ মার্চ ৬ হাজার ৬৯০ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে, তার মধ্যে আমদানি কনটেইনার ৩ হাজার ৫৫৬ টিইইউস ও রফতানি কনটেইনার ৩ হাজার ১৩৪ টিইইউস। ২৮ মার্চ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ টিইইউস, তার মধ্যে আমদানি কনটেইনার ৩ হাজার ৭৭১ টিইইউস ও রফতানি কনটেইনার ১ হাজার ৭৩৬ টিইইউস। বন্ধের আগের দিনগুলোর তুলনায় ২৯ মার্চ বেড়েছে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং এর পরিমাণ। কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে ৯ হাজার ৫৫ টিইইউস, তার মধ্যে আমদানি কনটেইনার ৩ হাজার ৮১১ টিইইউস ও রফতানি কনটেইনার ৫ হাজার ২৪৪ টিইইউস।

চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডেলিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। আমদানিকারকরা তাদের পণ্য ডেলিভারি নিয়ে যাচ্ছে। ডেলিভারির সুবিধার্থে চট্টগ্রাম কাস্টমসও সীমিত আকারে চালু আছে। তবে এখন ওষুধ এবং খাদ্যপণ্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সচেতনতার জন্য নানা উদ্যোগের নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। বন্দরের প্রতিটি গেইটে ব্যবহারকারীদের প্রবেশের সময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পাশাপাশি জ্বর পরিমাপ করা হচ্ছে। এছাড়া বন্দরের ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও ব্যবস্থা রয়েছে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। আর বন্দরের প্রবেশপথে যাদের থেকে জ্বর পাচ্ছে তাদেরকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। শ্রমিক, গাড়ী চালক যারাই বন্দরের অভ্যন্তরে জেটিতে প্রবেশ তারা কাজ সেরে দ্রুত বন্দর ত্যাগের নির্দেশ রয়েছে। তাদেরকে বেশিক্ষণ সেখানে অবস্থান না করার অনুরোধ জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে টানা ১০ দিনের বন্ধের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডেলিং এর কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জরুরি চিকিৎসা ও সেবাসামগ্রী শুল্কায়ন করে খালাস হচ্ছে। রপ্তানি কার্যক্রমও সচল আছে।

তিনি জানান, বন্দরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন টার্মিনাল ও ইয়ার্ডের কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৫০ হাজার টিইইউস। এখনো ১৫ হাজার টিইইউস কনটেইনার রাখার ব্যবস্থা আছে। তাই কনটেইনার জট বা জাহাজ জটের আশঙ্কা নেই। আর খালি কনটেইনারগুলো জাহাজে তুলে দেয়া হচ্ছে। আমদানি কনটেইনার ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকার আইসিডিতেও চলে যাচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি আইসিডিতে কনটেইনার পরিবহন স্বাভাবিক রয়েছে।

জাফর আলম জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিদ্ধান্তকে অনুসরণ করেই বন্দরের সকল কার্যক্রম মনিটরিং হচ্ছে। বন্দর পরিষদের সদস্য, পরিবহন, নৌ-বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে থাকছেন। যাতে জাহাজ আগমন ও পণ্য খালাসের মতো কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানিই হয় ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফখরুল আলম জানান, সীমিত পরিসরে চলছে কাস্টমসের কার্যক্রম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি খাদ্য চাল, গম ,ডাল, ওষুধ, করোনাভাইরাস মোকাবেলার কিট এবং অন্যান্য সরঞ্জাম বন্দর থেকে ছাড় করতে শুল্কায়নের কাজ করা হচ্ছে।

এদিকে, বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে (অফডক) কোনোরকম সুরক্ষা ছাড়াই চলছে কার্যক্রম। মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ছাড়াই কাজ করছে শ্রমিকরা। অনেকটা জোরপূর্বক ভাবে তাদেরকে কাজ করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে অফডক মালিক সংগঠন বাংলাদেশ ইংল্যান্ড কনটেইনার ডিপো এসোসিয়েশন (বিকডা) সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান জানান, টানা বন্ধের কারণে কাজ করানোর আমরা শ্রমিক পাচ্ছি না। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও রফতানি কাজ সচল রেখেছি। অনেক শ্রমিককে রাস্তা থেকে ধরে এনে কাজ করাতে হচ্ছে। শ্রমিকদেরকে সচেতন করা হয়েছে কিন্তু তারা সচেতন নয়। তারা মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করছেন না। আমাদের পক্ষ থেকে সুরক্ষামুলক সামগ্রী ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি