সুশান্তের মৃত্যুতে যে ৬টি প্রশ্ন উঠে আসছে!

বিনোদন ডেস্ক
২৯ জুন ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ০৪:২৯

সুশান্তের মৃত্যুতে যে ৬টি প্রশ্ন উঠে আসছে!

সুশান্ত সিং রাজপুত এর মৃত্যুর পর থেকে বলিউড ভাগ হয়ে গিয়েছে। একদিকে রয়েছেন বলিউডের স্টার কিডস আর অন্যদিকে তথাকথিত বহিরাগতরা। এই দুই বিভাগের মধ্যে তর্ক চলছে নেপোটিজম বা স্বজনপোষণ নিয়ে। এছাড়াও সুশান্তের মৃত্যুর পরে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক বেশি করে আলোচনা হচ্ছে। উঠছে নানা রকমের প্রশ্ন। তেমনই কয়েকটি প্রশ্ন এখানে রাখা হলো যার উত্তর দিয়েছেন খোদ বলিউডের তারকারা।

১. বলিউডকে কি একটি বড় পরিবার বলা চলে?

মনোজ বাজপাই: না এটা কোন বড় পরিবার নয়। আমরা সকলেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছি। নানা রকমের দল রয়েছে যার কোনোটাতেই আমি নেই। প্রথম দিনেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমাকে যে চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে আমি শুধু তাতেই কাজ করব এবং তারপর বাড়ি চলে যাব। আমি আমার নিজের শর্তে কাজ করব। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে এর একসঙ্গে কাজ করা উচিত। আজকের জন্য না হলেও ভবিষ্যতের জন্য অন্তত। ইন্ডাস্ট্রির ভালোর জন্যই তার গণতান্ত্রিক হওয়া উচিত। দেখা যাক সেটা কবে হয়।

২. নেপোটিজম কি বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত বহিরাগতদের জন্য বেশ চিন্তার কারণ?

তাপসি পান্নু: হ্যাঁ অবশ্যই চিন্তার কারণ। এছাড়াও প্রতারিত হওয়া, যৌন হেনস্থা হওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাভাবে হেনস্থা হওয়া ও বেশ ভয়ের কারণ। একজন নতুন প্রতিভার জন্য এই সবকটি একইরকম ক্ষতিকর। নেপোটিজম এর জন্য আমি এমন অনেক ছবি এবং সুযোগ হারিয়েছি। তবে এর জন্য আমি দোষারোপ করি না এবং নিজের আত্মবিশ্বাসকে কমতে দিইনা। একজন স্টারকিড হিসেবে এবং একজন বহিরাগত হিসেবেও কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা দুটোই আছে।

৩. টেলিভিশন থেকে বড় পর্দায় কাজ করতে আসা অভিনেতাদেরকে কি বেশি স্ট্রাগল করতে হয় ফিল্ম জগতের থেকে গ্রহণযোগ্যতা পেতে?

ম্রুনাল ঠাকুর: বলিউডে সকলেই স্ট্রাগল করেন। আমি যখন কাজ শুরু করি তখন এই স্টিরিওটাইপ টা ছিল যে টেলিভিশন অভিনেতারা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অংশ হতে পারে না। কিন্তু আমি বুঝলাম আমি যদি নিজের কাজ নিয়ে আরো খাটি তাহলে এই স্টিরিওটাইপ ভাঙতে পারি। আমি নিজের মারাঠি অ্যাকসেন্টে কথা বলার অভ্যাস অনেকটা কমাতে পেরেছি। আমার উপরে অনেক চাপ ছিল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে থাকার জন্য। আমি জানি কেউ যদি গুণী হন এবং ভালোভাবে কাজ করেন মানুষ তার সঙ্গে থাকবে। আমার স্ট্রাগলই আমাকে আরো ভালো করেছে।

৪. কোন ছবি থেকে বাদ পড়লে অভিনেতাদের কি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারানো ঠিক?

শ্রেয়াস তলপাড়ে: প্রথম ছবি যদি ভালো চলে তাহলে মনে হয় ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করা গিয়েছে। কিন্তু তার কিছুদিনের মধ্যেই যখন অন্য একটি ছবি থেকে বাদ পড়তে হয় তখন নিজের ক্ষমতাকে আমরা প্রশ্ন করি সাধারণত। সবাই না হলেও বেশিরভাগ মানুষই এর থেকে অভিজ্ঞতা লাভ করে। আমার মনে আছে ইকবাল ছবি সফল হয়েছিল।

সেই ছবির সাফল্যের পর আমি একটি ছবির জন্য অডিশন দিয়েছিলাম। পরিচালক বলেছিলেন হাসির চরিত্রে আমাকে মানাবে না কারণ আমার ইমেজ বেশ সিরিয়াস। কিন্তু তারপরে গোলমাল রিটার্ন্স ছবিতে আমি কাজ করি সফল হই। পরিচালক বুঝতে পেরেছিলেন তিনি আমার ক্ষমতাকে মিসজাজ করেছিলেন। তাই কোন ছবি থেকে বাদ পড়লেই ভাববেন না আপনি সত্যি সেটা করতে পারবেন না। আপনি সকলকে খুশি করতে পারবেন। কিন্তু তার জন্য নিজের কাজকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিজেকে খুশি রাখতে হবে।

৫. অভিনেতাদের ক্ষেত্রে কি সব সময় মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া সত্বেও তাকে নিয়ে বেশি আলোচনা হয়নি?

দিব্যা দত্ত: আলোচনাটা বিষয় নয়। কিন্তু কার সঙ্গে আলোচনা করা যাবে এবং কিভাবে করা যাবে সেটা বিষয়। আপনাকে সঙ্গে সঙ্গে জাজ করা হবে। যার মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা রয়েছে তিনি এমন আলোচনায় মোটেই সুস্থ হবেন না। কিন্তু অন্যরা কি এটা নিয়ে একটুও ভাবি তো? একদমই নয়। আমাদের নিজেদের ভিতরটা আগে দেখতে হবে। এটা মানুষের মনস্তত্ত্বের ব্যাপার। পরিবার এবং ভালো বন্ধুদের পাশে না পাওয়া গেলে এ বিষয়টি ভীষণই অগভীর হয়ে থেকে যাবে। আমরা মানুষকে হাই হ্যালো এসব বলি। কিন্তু তার ঊর্ধ্বে গিয়ে দেখতে গেলে দেখা যায় আমরা একাই চলছি।

৬. এই ইন্ডাস্ট্রিতে একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুলি অনবরত স্পটলাইট এর মধ্যে থাকে। এটিও কি মানসিক ভাবে চাপ তৈরি করে?

এলি আব্রাহাম: আমার সম্পর্কে ইন্ডাস্ট্রি প্রভাব পড়েছিল। আমি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যক্তিগত রাখতেই সবসময় পছন্দ করি। তাই এগুলো সামলানো আমার পক্ষে কঠিন ছিল। আমি জানি অনেকেই বলবেন এতে কী বা যায় আসে! মানুষ যা চাইছে তা তোমার ব্যাপারে বলতে দাও লিখতে দাও। পাবলিক ফিগার হলে এগুলি মানিয়ে নিতে হয়। আমি খুবই সংবেদনশীল। এর জন্য অনেক সময় সম্পর্ক পর্যন্ত খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু অনেক সেলিব্রেটিরাই চান পাপারাজ্জিরা তাদের ছবি তুলুক।

ব্রেকিংনিউজ/অমৃ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি