বিশ্বে বাড়ছে বাঘ, কমছে শুধু বাংলাদেশে

পরিবেশ ডেস্ক
২৯ জুলাই ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০২:০৮ আপডেট: ০৩:১১

বিশ্বে বাড়ছে বাঘ, কমছে শুধু বাংলাদেশে

‘বাঘ বাড়াতে শপথ করি, সুন্দরবন রক্ষা করি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও ২৯ জুলাই পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘের আবাসভূমি আছে বিশ্বের এমন ১৩টি দেশে দিবটি পালিত হচ্ছে।

সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, সুন্দরবনে গেল তিন বছরে ৮টি বাঘ বেড়েছে। ২০১৫ সালে বনশুমারি অনুযায়ী বাঘ ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে ক্যামেরা ট্রাকিং এর মাধ্যমে জরিপ অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১১৪টি।

তবে বাঘ বিশেষজ্ঞ ও প্রাণী গবেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে বাঘের সবচেয়ে বড় আবাসভূমি সুন্দরবনে হুমকিতে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। 

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে বেসরকারি পর্যায়ে জার্মানির বাঘ বিশেষজ্ঞ হেন রিডসের করা প্রথম জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বলা হয়েছিল ৩৫০। ১৯৮২ সালের জরিপে বলা হয় ৪৫৩টি। আর ২০১৫ সালে সরকারের বন বিভাগ প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, বাঘের সংখ্যা ১০৬। একই সংস্থা ২০০৪ সালে বলেছিল, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৪৪০।
 
সবশেষ ২০১৭ সালের অক্টোবরে সুন্দরবনের বাঘের মল ও লোমের নমুনার জিনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় একটি সমীক্ষা প্রকাশ করে জানায়, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১২১।
 
গেল বছর “বাঘ বাচাই, বাচাই বন, রক্ষা করি সুন্দরবন”- এ প্রতিপাদ্য ঘিরে বাংলাদেশে পালিত হয়েছিল বিশ্ব বাঘ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্যে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর শপথ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। 

সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা নিয়ে সব শেষ জরিপ হয়েছে এ বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ডাটা বিশ্লেষণ শেষে রিপোর্ট দিলে সুন্দরবনে প্রকৃত বাঘের সংখ্যা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। শিগগিরই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হবে।
 
এদিকে বাঘ বিশেষজ্ঞ ও প্রাণী গবেষকরা বলছেন- প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে দিন দিনই দুর্বল হয়ে পড়ছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। গবেষকরা বলছেন- সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ ৫টি নদী থাকায় নির্দিষ্ট কিছু স্থলাভূমিতে আটকা পড়ে থাকছে বেঙ্গল টাইগার। ফলে আশপাশের বাঘগুলোর সঙ্গে প্রজনন-সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে না। আর তাতে বাঘের সংখ্যাও বাড়ছে কম।
 
এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল বেড়ে গেছে। ফলে বাঘের জনসংখ্যা ও বসতি আলাদা হয়ে পড়ছে। রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সহ সুন্দরবনের চারপাশে যেভাবে শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে তাতে করে আগামী দিনগুলোতে নৌযান চলাচল আরও বাড়বে। তাতে বাঘের চলাচলের জায়গাও কমে যাবে। জিনগতভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে প্রাণীটি।
 
অপরদিকে সারা বিশ্বে বাঘের সংখ্যা বাড়ানো হলেও কমছে বাংলাদেশে। ২০১০ সালে রাশিয়ায় বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। এই লক্ষ্যে গঠিত হয় গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভ (জিটিআই)। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সুন্দরবনে ৪৪০টি বাঘ রয়েছে। বাংলাদেশও এই সংখ্যা দ্বিগুণ করবে।
 
এর অংশ হিসেবে বিশ্বের ১৩টি বাঘসমৃদ্ধ দেশ প্রতিবছর বাঘের সংখ্যা কতটা বাড়াতে পারল তা জানাবে। কিন্তু গত ৭ বছরে বাংলাদেশ শুধু ২০১৫ সালে একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। যে জরিপে দেখা গেছে- সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমে ৪৪০টি থেকে ১০৬টিতে নেমে এসেছে।
 
গবেষকরা বলছেন- খাদ্যের অভাবও সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। সাম্প্রতিককালে দেখা গেছে- খাদ্যের অভাবে সুন্দরবনের বাঘ লোকালয়ে চলে আসছে। লোকালয়ে এলে এসব বাঘ মানুষসহ হামলে পড়ছে গবাদিপশুর ওপর। প্রায়ই এসব ঘটনা ঘটায় আতঙ্ক বাড়ছে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের মানুষদের মধ্যে। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে গত ১৮ বছরে ৫০টি বাঘ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময়কালে বাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছেন স্থানীয় ২৩২ জন মানুষ। 
 
ব্রেকিংনিউজ/এমআর

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি